প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬
বিশেষ প্রতিনিধি ঃ
* দুদকের তদন্ত কার্যক্রমে ধীরগতি
* দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে দুর্নীতি
* বেপরোয়া মোল্যা বাহিনীর দাপট

“এই মোল্যা বাহিনীর দুর্নীতি আড়াল করতে মরিয়া বন মন্ত্রণালয়ের একটি চক্র”
ক্যাপশন ও ছবি: দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ড. মোল্যা রেজাউল করিম, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ ও অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান।
বহুমুখি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত চট্টগ্রাম অঞ্চল বন সংরক্ষক (সিএফ) ড. মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট দলের তদন্ত পরবর্তী কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। অন্যদিকে, মোল্যা রেজাউল করিম ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে উঠা বিভিন্ন অভিযোগ সরেজমিন তদন্ত করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. সাইদুর রহমান। অথচ তদন্তের পর দশ মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেননি তদন্তকারী এই কর্মকর্তা।
অভিযোগ উঠেছে, মোল্যা রেজাউল করিমের বহুমুখি দুর্নীতি আড়াল করতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান। সদ্য বিদায় নেয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদন আটকে রেখে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান যুগ্ম সচিব থেকে পুরস্কার স্বরূপ অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পান। তাকে পদোন্নতি দিতে মোল্যা রেজাউল করিমের কাছে মোটা অংকের উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বন সচিব ড. ফারহিনা আহমেদের বিরুদ্ধে।

মোল্ল্যার লেখা কবিতা শেখ হাসিনাকে নিয়ে
অনুসন্ধান বলছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মোল্যা রেজাউল করিম চট্টগ্রাম অঞ্চল বন সংরক্ষকের দায়িত্ব পান। তার এই পদায়ন বন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সরাসরি হস্তক্ষেপে হয়েছে বলে মোল্যা রেজাউল করিম বলে বেড়ান। এই ক্ষমতাকে পুঁজি করে মোল্যা রেজাউল করিম চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন বিভাগে তার অধস্তন কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারিদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি বাহিনী। বন অধিদপ্তরে এই বাহিনী ‘মোল্যা বাহিনী’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। বদলী, বনায়ন, উন্নয়নমূলক কাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আর্থিক খাতে মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বন অধিদপ্তরসহ দুদক এবং বন মন্ত্রণালয়ে ওপেন সিক্রেট।
অনুসন্ধান আরো বলছে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কবিতা লেখা মোল্যা রেজাউল করিম হাসিনা সরকার পতনের পর কট্টরপন্থী আওয়ামী লীগ বিরোধী বনে যান। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নিরীহ বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তকমা লাগিয়ে শুরু করেন মানসিক নির্যাতনের নতুন অধ্যায়। মোল্যা বাহিনীর দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুললে বরখাস্তের হুমকিসহ মিলছে বিধিবহির্ভুত শাস্তিমূলক বদলী। অন্যদিকে ঘুষের বিনিময়ে পছন্দের পোস্টিং দিতে মোল্যা বাহিনীতে রয়েছে নির্ধারিত ক্যাশিয়ার। দুদক ও বন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত ধামাচাপা দিতে মোল্যা রেজাউল করিমের রয়েছে বিশেষ ইউনিট। মোল্যা বাহিনীর সদস্যদের চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন বিভাগে দেয়া হচ্ছে লোভনীয় পদায়ন। অন্যদিকে মোল্যা বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মিলছে শাস্তিমূলক বদলী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম নগরের নন্দনকানন এলাকায় বন সংরক্ষকের কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মোট ১৩টি অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রমে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ায় উন্মুক্ত অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপপরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) বরাবরে অনুমতি চেয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়। তবে পত্র প্রেরণের দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দুদকের দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম নেই। অথচ অভিযানের পর অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া দুদক সমন্বিত চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক সাঈদ মুহাম্মদ ইমরান সাংবাদিকদের জানান, বন সংরক্ষক মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিলো। বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তার কাছ থেকে পাওয়া গেছে। তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চল বন সংরক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই একই দিনে তার স্বাক্ষরে ৭৭ জন কর্মচারি বদলি হয়। দুদকের কাছে অভিযোগ এসেছে, প্রতিটি বদলির জন্য অনেক টাকা লেনদেন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা বদলি বাণিজ্য হয়েছে। মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মোট ১৩টি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও তিনি জানান।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, মোল্যা রেজাউল করিমকে স্বপদে বহাল রেখে তার বিরুদ্ধে উঠা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন যুগ্ম সচিব মো. সাইদুর রহমান। গত বছরের ২২ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রামে সরেজমিন তদন্তে যান বন মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা। তদন্তের অংশ হিসেবে বন বিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্মরত মোল্যা রেজাউল করিমের অধস্তন ৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারির কাছ থেকে তিনি লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য নেন। লিখিত বক্তব্যগুলোতে মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে বহুমুখি দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ উঠে আসে। অথচ এই তদন্ত কার্যক্রমের পর দশ মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেননি তদন্তকারী কর্মকর্তা। উল্টো মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ দেয়া কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ম্যানেজ করতে কয়েক দফা চেষ্টা চালান তদন্তকারী এই কর্মকর্তা।
তদন্তের পর দশ মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন কেন জমা দিচ্ছেন না- এই প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়গুলো ব্যাপক হওয়ায় জমা দেয়া হয়নি।’ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার ব্যাপারে কোন চাপ আছে কি না- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আসলে এমন নয়।’
মোল্যা রেজাউল করিমের দুর্নীতি আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন সময় কল করলেও তিনি রিসিভি করেননি। তবে সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এরশাদ মিয়া জানান, ড. ফারহিনা আহমেদ সভায় ব্যস্ত আছেন। তিনি কখন কথা বলতে পারবেন এ ব্যাপারে তিনি জানেন না।
“মোল্যা বাহিনীর দুর্নীতি আড়াল করতে মরিয়া বন মন্ত্রণালয়ের একটি চক্র”
ক্যাপশন ও ছবি: দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ড. মোল্যা রেজাউল করিম, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ ও অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান।
বহুমুখি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত চট্টগ্রাম অঞ্চল বন সংরক্ষক (সিএফ) ড. মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট দলের তদন্ত পরবর্তী কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। অন্যদিকে, মোল্যা রেজাউল করিম ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে উঠা বিভিন্ন অভিযোগ সরেজমিন তদন্ত করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. সাইদুর রহমান। অথচ তদন্তের পর দশ মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেননি তদন্তকারী এই কর্মকর্তা।
অভিযোগ উঠেছে, মোল্যা রেজাউল করিমের বহুমুখি দুর্নীতি আড়াল করতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান। সদ্য বিদায় নেয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদন আটকে রেখে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান যুগ্ম সচিব থেকে পুরস্কার স্বরূপ অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পান। তাকে পদোন্নতি দিতে মোল্যা রেজাউল করিমের কাছে মোটা অংকের উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বন সচিব ড. ফারহিনা আহমেদের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধান বলছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মোল্যা রেজাউল করিম চট্টগ্রাম অঞ্চল বন সংরক্ষকের দায়িত্ব পান। তার এই পদায়ন বন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সরাসরি হস্তক্ষেপে হয়েছে বলে মোল্যা রেজাউল করিম বলে বেড়ান। এই ক্ষমতাকে পুঁজি করে মোল্যা রেজাউল করিম চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন বিভাগে তার অধস্তন কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারিদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি বাহিনী। বন অধিদপ্তরে এই বাহিনী ‘মোল্যা বাহিনী’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। বদলী, বনায়ন, উন্নয়নমূলক কাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আর্থিক খাতে মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বন অধিদপ্তরসহ দুদক এবং বন মন্ত্রণালয়ে ওপেন সিক্রেট।
অনুসন্ধান আরো বলছে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কবিতা লেখা মোল্যা রেজাউল করিম হাসিনা সরকার পতনের পর কট্টরপন্থী আওয়ামী লীগ বিরোধী বনে যান। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নিরীহ বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তকমা লাগিয়ে শুরু করেন মানসিক নির্যাতনের নতুন অধ্যায়। মোল্যা বাহিনীর দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুললে বরখাস্তের হুমকিসহ মিলছে বিধিবহির্ভুত শাস্তিমূলক বদলী। অন্যদিকে ঘুষের বিনিময়ে পছন্দের পোস্টিং দিতে মোল্যা বাহিনীতে রয়েছে নির্ধারিত ক্যাশিয়ার। দুদক ও বন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত ধামাচাপা দিতে মোল্যা রেজাউল করিমের রয়েছে বিশেষ ইউনিট। মোল্যা বাহিনীর সদস্যদের চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন বিভাগে দেয়া হচ্ছে লোভনীয় পদায়ন। অন্যদিকে মোল্যা বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মিলছে শাস্তিমূলক বদলী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম নগরের নন্দনকানন এলাকায় বন সংরক্ষকের কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মোট ১৩টি অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রমে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ায় উন্মুক্ত অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপপরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) বরাবরে অনুমতি চেয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়। তবে পত্র প্রেরণের দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দুদকের দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম নেই। অথচ অভিযানের পর অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া দুদক সমন্বিত চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক সাঈদ মুহাম্মদ ইমরান সাংবাদিকদের জানান, বন সংরক্ষক মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিলো। বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তার কাছ থেকে পাওয়া গেছে। তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চল বন সংরক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই একই দিনে তার স্বাক্ষরে ৭৭ জন কর্মচারি বদলি হয়। দুদকের কাছে অভিযোগ এসেছে, প্রতিটি বদলির জন্য অনেক টাকা লেনদেন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা বদলি বাণিজ্য হয়েছে। মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মোট ১৩টি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও তিনি জানান।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, মোল্যা রেজাউল করিমকে স্বপদে বহাল রেখে তার বিরুদ্ধে উঠা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন যুগ্ম সচিব মো. সাইদুর রহমান। গত বছরের ২২ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রামে সরেজমিন তদন্তে যান বন মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা। তদন্তের অংশ হিসেবে বন বিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্মরত মোল্যা রেজাউল করিমের অধস্তন ৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারির কাছ থেকে তিনি লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য নেন। লিখিত বক্তব্যগুলোতে মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে বহুমুখি দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ উঠে আসে। অথচ এই তদন্ত কার্যক্রমের পর দশ মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেননি তদন্তকারী কর্মকর্তা। উল্টো মোল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ দেয়া কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ম্যানেজ করতে কয়েক দফা চেষ্টা চালান তদন্তকারী এই কর্মকর্তা।
তদন্তের পর দশ মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন কেন জমা দিচ্ছেন না- এই প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়গুলো ব্যাপক হওয়ায় জমা দেয়া হয়নি।’ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার ব্যাপারে কোন চাপ আছে কি না- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আসলে এমন নয়।’
মোল্যা রেজাউল করিমের দুর্নীতি আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন সময় কল করলেও তিনি রিসিভি করেননি। তবে সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এরশাদ মিয়া জানান, ড. ফারহিনা আহমেদ সভায় ব্যস্ত আছেন। তিনি কখন কথা বলতে পারবেন এ ব্যাপারে তিনি জানেন না। ( চলবে )