প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামে গোলাগুলির ঘটনায় সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা গেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ দুই মাস আগে এক বড় ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা চেয়েছে। এরপর চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ওই ব্যবসায়ীর নিরাপত্তা এবং বাসায় পুলিশ পাহারা দিয়েছে। এর ফলে সন্ত্রাসী গ্রুপ হয়তো সুবিধা পায়নি। সে জন্য দুই মাস পর আবার একই রকম কর্মকাণ্ড করেছে। এ সময় তারা ভারী অস্ত্র দিয়ে গোলাগুলি করেছে।
আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নয়ন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্বগ্রহণের পর গত ১৩ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। ভালো একটা রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে স্থিতিশীলতা আসে। তিনি বলেন, নরসিংদীতে একটা নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও দু–তিনটি এ রকম ঘটনা ঘটেছে। সব কটি ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কতটা আন্তরিক, কতটা কঠোর, এ বিষয়ে জনগণ ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছে।
সশস্ত্র বাহিনী ও র্যাব প্রসঙ্গে
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আর কত দিন মাঠে থাকবেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কত দিন মাঠে থাকবে, উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেনাবাহিনী নিজেরাও মাঠে থাকতে চায় না। কারণ, তাদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কর্মকাণ্ডে সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলার কতটা উন্নতি হয়েছে, তা দেখতে হবে। তবে এই মুহূর্তে বলতে পারছি না, মাঠ থেকে সেনাবাহিনীকে কবে প্রত্যাহার করা হবে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় র্যাবের নাম ও পোশাক বদলানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র্যাবের বিষয়ে একটা জনচাহিদা রয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদেও সুপারিশ করা হয়েছে যে র্যাবের বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটি একটি বিশেষায়িত বাহিনী। প্রশ্ন হলো, এ বাহিনী চাই কি না। উত্তর হলো, চাই। তাহলে সেটা কী আদলে হবে, তাদের জুরিসডিকশন কী হবে, তাদের জবাবদিহি কী হবে, তাদের কীভাবে স্বচ্ছ রাখা যায়, তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সেবা পেতে পারি, এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, অংশগ্রহণ করেছে, তাদের আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে হবে। এসব অঙ্গীকারে আমরা সই করেছি। তার আলোকেই আমরা যা কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার, নেব।’
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টার মতো অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। এর মধ্যে কতগুলো স্পর্শকাতর অধ্যাদেশ রয়েছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনই এসব অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে।
ভারত ও পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
আজ সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। দুপুরে সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হবে জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অন্য দেশের রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক সম্পর্ক নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্পর্ককে নবায়ন করতে চায়। এ ছাড়া সালাহউদ্দিন আহমদ সীমান্তে হত্যার সংখ্যা দ্রুত শূন্যে নামিয়ে আনার অনুরোধ করেন।
এ ছাড়া পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে সৌহার্দপূর্ণ আলোচনা হয় বলে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।