প্রকাশিত: নভেম্বর ১৮, ২০২৫
বিনোদন প্রতিবেদক ঃ

তাসরিফ খান।
সম্প্রতি চীনে গিয়েছিলেন গায়ক তাসরিফ খান। সেখানে নিজের মতো করে ঘুরে দেখেছেন দেশটি। এর ফাঁকে ভিডিও করে সেগুলো ভক্তদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। উন্নত চীনের সেসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত হয়েছে। তাসরিফ এতে যেমন তুলে ধরেছেন চীনের উন্নয়নের পেছনের গল্প, তেমনি তুলনা করেছেন বাংলাদেশের সঙ্গে। চীন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এক সময় তাসরিফ খান বলেন, ‘এ জন্য সভ্য হওয়া বা শত বছর লাগবে না।’ প্রশ্ন হতে পারে কেন, কী প্রসঙ্গে এ কথা বলেন এই গায়ক।১০ নভেম্বর চীনে যান তাসরিফ। এটাই ছিল তাঁর প্রথম চীনযাত্রা। মূলত একটি মুঠোফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে গিয়েছিলেন এই গায়ক। প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন শেষে নিজের মতো ঘুরেছেন তিনি; সঙ্গে ছিলেন তাঁর ব্যান্ডের সদস্য ও ছোট ভাই তানজীব খান। তাসরিফ জানান, চীন সম্পর্কে শুনে বা ভিডিও দেখে অনেক অভিজ্ঞতাই হয়েছিল। তবে এবার সরাসরি ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছে।
তাসরিফ বলেন, ‘চীন দিন দিন সব দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে। তাদের রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার জন্যও রোবট রয়েছে। এ সবই তাদের তৈরি। তাদের জীবনযাপনের মান এখন বেশ ভালো। অনেকের সঙ্গেই কথা হয়েছে। তারা নিজেদের গতিতেই এগিয়ে যেতে চায়। ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার সবাই তাদের দেশের। এভাবে সবকিছুই স্বয়ংসম্পূর্ণ না হলে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। আমদানি–রপ্তানিতে পিছিয়ে যেতে হবে।’
তাসরিফ মনে করেন, চীন এখন উন্নত দেশ, এটা মানতেই হবে। তাদের অর্থনীতির পরিসর বিশাল। দিন দিন তারা অর্থনীতি, রাজনীতি—সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। সেটা বাংলাদেশের তুলনায় বহু এগিয়ে। এ দেশের চীনের মতো জায়গায় যেতে দীর্ঘ সময় লাগবে। তবে এই গায়ক দেশ নিয়ে আশাবাদী।
তাসরিফ হিডেন নিউজকে বলেন, ‘চীনের এগিয়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে তাদের চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফল। সামনে আরও এগিয়ে যাবে। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। তবে জাতি হিসেবে আমাদের আরেকটু সভ্য হওয়া উচিত। আমাদের দেশে ড্রাইভারবিহীন গাড়ি চলতে হয়তো আরও বহু বছর লাগবে, বহু বছর পরে হয়তো রোবট রাস্তা ঝাড়ু দেবে। কিন্তু খুব সহজেই আমরা দেশের কিছু পরিবর্তন আনতে পারি। এ জন্য কিন্তু অর্থ লাগবে না।’
কিছু সময় চুপ থেকে তাসরিফ বলতে শুরু করেন, ‘ঢাকার রাস্তায় বের হলে গাড়ির গতি ভয় পাইয়ে দেয়। একটু ফাঁকা রাস্তা হলে অনেকেই অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান। এটা সচেতন নাগরিক হিসেবে না করলেও হয়। তাহলে বহু দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। কিন্তু দিনের পর দিন আমরা ওভারটেকিং করেই যাচ্ছি। এর সঙ্গে হর্ন বাজানোর কথা না বললেই নয়। অযথা হর্ন বাজানো বন্ধ করার জন্য কি টাকা দরকার? দরকার সচেতনতা ও কড়া আইন। আমাদের দেশ ছাড়া পৃথিবীর তেমন কোথাও পাবেন না স্কুল ও হাসপাতালের সামনে গাড়ি হর্ন দিচ্ছে।’