১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার,সকাল ৬:০৬

শিরোনাম
জুয়ার আসর থেকে দুই ইউপি সদস্যসহ ৫ জন গ্রেফতার সাবেক সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে শুনানি রোববার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ, অঙ্গসংগঠনের ৫৩ নেতাকর্মী ঢাকায় গ্রেফতার: ডিএমপি মাদ্রাসার শৌচাগারে শিক্ষার্থীর লাশ, শিক্ষক জাকারিয়া তিন দিনের রিমান্ডে, শুনানিতে উঠে এল নানা তথ্য নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ৪২ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতফাইল ছবি রাজধানীর রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকার একটি মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হাফেজ মো. জাকারিয়াকে (৩৫) তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গ্রেপ্তার অপর এক শিক্ষকের বয়স মামলার এজাহারে ২০ বছর উল্লেখ করা হলেও শুনানিতে তাঁর আইনজীবী অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার প্রমাণ উপস্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁকে শিশু বিবেচনায় রিমান্ড শুনানির জন্য শিশু আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। আজ বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী হারুনর রশীদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৩ আগস্ট বেলা দেড়টার দিকে মাদ্রাসার তৃতীয় তলার একটি শৌচাগার থেকে ১৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে ওই রাতেই কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, ৩ আগস্ট ওই মাদ্রাসা থেকে দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ৪ আগস্ট তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। ৫ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আমজাদ হোসেন আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আজ আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ড শুনানি হয়। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নিহত শিশু ও তার ছোট ভাই ওই মাদ্রাসায় পড়ত। বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষকেরা ওই শিশুর ওপর নির্যাতন চালাতেন। বিষয়টি সে তার মাকে জানালে মা তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তী সময়ে সে আর মাদ্রাসায় পড়বে না বলে শিক্ষকদের জানালে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করেন এবং বেলা একটা থেকে আড়াইটার মধ্যে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। আদালতে বাদী ও আসামিপক্ষের যুক্তি শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী হারুনর রশীদ খান রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতকে বলেন, ১৩ বছরের একটি শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে বাথরুমে হত্যা করা হয়েছে। অথচ আসামিপক্ষ এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করছে, যা একটি অগ্রহণযোগ্য যুক্তি। ওই শিশুটি আগেই তার মাকে জানিয়েছিল, সে এই মাদ্রাসায় পড়তে চায় না। আইনজীবী আরও বলেন, নিহত ছাত্রটি পড়াশোনায় ভালো ও শান্ত স্বভাবের ছিল। শিক্ষক তাকে নিজের কাছে ঘুমানোর জন্য বলতেন। মূলত গোপন রহস্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামিদের রিমান্ড প্রয়োজন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাদ্রাসার অন্য ছাত্রদেরও কোনো অভিযোগ নেই। সেখানে ধর্ষণ বা হত্যার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। আদালতে শিক্ষক ও নিহতের ভাইয়ের বক্তব্য শুনানিকালে বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামি জাকারিয়াকে কোনো বক্তব্য আছে কি না জানতে চান। এ সময় জাকারিয়া বলেন, ‘আমরা হাফেজ মানুষ, আমরা মারিনি। ঘটনার দিন ওই ছেলে পড়া না পারায় তাকে কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। জোহরের নামাজের আগে সে বাথরুমে যায়। নামাজ শেষে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সে ফেরেনি। পরে বাথরুমের দরজা ভেঙে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। আমাদের ছাত্ররা এর সাক্ষী।’ আদালত জাকারিয়াকে মাদ্রাসায় সিসিটিভি ফুটেজ আছে কি না, জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ নেই, অনেক আগেই হার্ডডিস্ক নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া ওই ছাত্র এর আগেও কয়েকটি মাদ্রাসা থেকে পালিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তখন আদালত প্রশ্ন করেন, ‘এই ডিজিটাল যুগে আপনাদের সিসিটিভি ফুটেজ নেই কেন?’ শুনানির একপর্যায়ে আদালত নিহত শিক্ষার্থীর ছোট ভাইকে ডেকে কথা বলেন। মাদ্রাসায় তাদের মারধর করা হতো কি না, জানতে চাইলে শিশুটি বলে, ‘আমাদের অনেক মারধর করা হতো। ভাইয়ের সাথে বেশি খারাপ ব্যবহার করা হতো।’ কেমন খারাপ ব্যবহার করা হতো, তা জানতে চাইলে শিশুটি আর কোনো উত্তর দেয়নি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শিক্ষক জাকারিয়ার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং অপর শিক্ষককে শিশু আদালতে রিমান্ড শুনানির জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে স্বজনদের বিক্ষোভ আজ আদালতে নিহত শিক্ষার্থীর মা ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের আদালত থেকে নামানোর সময় উত্তেজিত স্বজনেরা তাঁদের মারধর করতে উদ্যত হন। পুলিশ দ্রুত আসামিদের হাজতখানায় নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় নিহত শিশুর ক্ষুব্ধ স্বজনেরা আসামিদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন ও আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন। পৌর মেয়র থেকে রাষ্ট্রপতি, কখন কী ছিলেন মির্জা ফখরুল মেয়াদ শেষের ১১ মাস আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদের নিয়োগ বাতিল রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন তারেক রহমান আমানতের উৎসে কর সরকারি কোষাগারে জমার সময় বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

হাসপাতালে সাপে কাটা ৬ রোগী ভর্তি, একজন এলেন বিষধর সাপ নিয়ে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫

  • শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি ঃ

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় সাপে কাটা জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন প্রমাণস্বরূপ বিষধর সাপও নিয়ে হাসপাতালে হাজির হন। ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চারোল ইউনিয়নের মইনুল ইসলাম সাপটি নিয়ে হাসপাতালে চলে আসেন। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উঠানে কাজ করার সময় তার পায়ে কামড় দেয় সাপটি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যান্টিভেনম দেন। একদিনের চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।

মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা মইনুল ইসলাম বলেন, দুপুরে উঠানে কাজ করছিলাম। এসময় হঠাৎ একটি সাপ এসে পায়ে কামড় দেয়। বিষের ভয়াবহতা বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত আমাকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। যেন ডাক্তাররা সহজে বুঝতে পারেন, কোন সাপ কামড়েছে।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. ফুয়াদ বলেন, কেবল মইনুল ইসলাম নন, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই হাসপাতালে আরও পাঁচজন সাপে কাটার রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই ঠাকুরগাঁও সদর, বালিয়াডাঙ্গী ও রানীশংকৈল উপজেলার বাসিন্দা। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে জেলাজুড়ে সাপের প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেছে।

চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা প্রথমে গ্রাম্য চিকিৎসা বা ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নেন। এতে পরিস্থিতি খারাপ হয়। তবে এখন মানুষ ধীরে ধীরে সচেতন হচ্ছে এবং সরাসরি হাসপাতালে ছুটে আসছে।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, অনেক পরিবার এখনো প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে গাছের শেকড়বাকড় বা ওঝার ঝাড়ফুঁক ব্যবহার করেন। এর ফলে সময় নষ্ট হয় এবং অনেক রোগী হাসপাতালে আসতে আসতে মারাত্মক অবস্থায় পড়েন। সচেতনতার অভাবই মূল সমস্যা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এনজিও ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন গ্রামে সচেতনতামূলক সভা-সেমিনার করা হচ্ছে। এর প্রভাবে অনেকে এখন সঠিক চিকিৎসার জন্য সরাসরি হাসপাতালে আসছেন।

ঠাকুরগাঁও জেলার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সাপের প্রাদুর্ভাব বর্ষাকালে বাড়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, জেলার পাঁচটি উপজেলায়ই সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটে, তবে তুলনামূলক বেশি দেখা যায় বালিয়াডাঙ্গী ও রানীশংকৈলে। চাষাবাদের জমি, কাঁচা ঘরবাড়ি ও ঝোপঝাড়ে আশ্রয় নেয় সাপ। এতে সাধারণ মানুষ প্রায়ই বিপদে পড়ে।

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ফিরোজ জামান জুয়েল জানান, সাপে কাটা রোগীদের জন্য হাসপাতালে যথেষ্ট অ্যান্টিভেনম মজুত আছে। প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচজন সাপে কাটা রোগী ভর্তি হচ্ছেন। বর্ষা ও শরৎকালে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, আমরা রোগীদের অনুরোধ করছি সাপে কাটলে দ্রুত হাসপাতালে আসতে। কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা বিলম্ব করলে বিষ শরীরে ছড়িয়ে জীবনহানির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

 

  • শেয়ার করুন