প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২৬
হিমু : দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের প্রকাশ করা শিশু ১৫,৭১৭টি শিশু নিখোঁজ ও অপহরণ, প্রথম ১০ মাসেই ৩৯২ জন শিশু ধর্ষণ এবং ১৫৫ জন মৃত্যুর পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ক্রমবর্ধমান অপরাধের কারণে সমাজের প্রতিটি মানুষ আজ চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে মাদকাসক্তির মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি অপরাধ প্রবণতাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
এই ভয়ংকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে সবার আগে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সচেতন করতে সরকারের জোরালো ও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, অপরাধের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধ করা না গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ওপর বড় ধরনের প্রশ্ন উঠতে পারে এবং তা সামাল দেওয়াও প্রশাসনের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
মনে রাখতে হবে, আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এবং প্রতিটি বাবা-মায়ের স্নেহের ধন। একটি শিশুর অকালমৃত্যু বা নির্যাতনের শিকার হওয়া কোনোভাবেই একটি সুস্থ সমাজ মেনে নিতে পারে না। দেশের সংবিধান ও সরকারের মূল নীতিমালায় প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও জানমালের নিরাপত্তা বিধানের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। তাই এই সাংবিধানিক দায়িত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে দ্রুত ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এই সংকট উত্তরণে লেখকের একটি কার্যকর প্রস্তাব হতে পারে—প্রতিটি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, গণমাধ্যম, অফিস-আদালত এবং রাজনৈতিক বা সামাজিক সমাবেশে সচেতনতামূলক আলোচনা বাধ্যতামূলক করা। প্রতিদিনের কার্যক্রমের শুরুতে বা যেকোনো সভার প্রারম্ভে এই বিষয়ে অন্তত ১০ থেকে ২০ মিনিট আলোচনা ও সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের সরকারি নির্দেশনা জারি করা এখন সময়ের সবচেয়ে উপযুক্ত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত হবে।