২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার,সকাল ১১:০৭

নতুন পে-স্কেল ও বর্তমান বাজার: এক পরিবারেই যেন দুই ভিন্ন পৃথিবী

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

হিমু ঃ দেশে সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন (সূত্র: প্রথম আলো, ০৭ জুলাই ২০২৬)। নতুন পে-স্কেল দিলে কেবল এই সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী লাভবান হবেন, কিন্তু দেশের বাকি সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের অবস্থা কী হবে? বাজারে এমনিতেই সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক বেশি, সাধারণ মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা মোটেও যুক্তিযুক্ত হয়নি।

এখনো স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকজন সচিবালয়সহ দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বহাল তবিয়তে রয়েছে। তাদের অনেকের কাছেই প্রচুর অবৈধ অর্থ ও সম্পদ জমা রয়েছে, টাকার কোনো অভাব নেই। তাই আগামী দুই বছরের মধ্যে এসব লোক অবসরে যাওয়ার পর নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করলে ভালো হতো। সরকার কেন যে এই সময়ে পে-স্কেল দিল, তা বোধগম্য নয়। এর ফলে যেসব সাধারণ মানুষের হাতে পর্যাপ্ত টাকা নেই, তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। পে-স্কেলের প্রভাবে বাজারে জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়বে, যা সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলবে। সরকারের ভেবে দেখা উচিত ছিল—এই পে-স্কেলে কতজন সরকারি কর্মকর্তা উপকৃত হচ্ছেন, আর বিপরীতে সাড়ে ১৬ কোটি সাধারণ মানুষ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ধরা যাক একটি পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে মাত্র একজন সরকারি চাকরি করেন, আর বাকি চারজন বেকার বা বেসরকারি সংস্থায় কম বেতনে কাজ করেন। নতুন পে-স্কেলে কেবল ওই এক ভাইয়ের বেতন বাড়বে, বাকি চারজনের বাড়বে না। কিন্তু বাজারে ব্যবসায়ীরা তো সবার কাছে একই চড়া দামে পণ্য বিক্রি করবেন। তখন পে-স্কেল পাওয়া ভাইয়ের পক্ষে যে দামে কেনাকাটা করা সম্ভব, বাকি চার ভাইয়ের পক্ষে তা কেনা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সাধারণ মানুষের অনাহারে-অর্ধাহারে একই পরিবারে দিন কাটানোর কষ্টের দায়ভার কে নেবে? সরকারি চাকরিজীবী ভাইয়ের সন্তানরা যখন মাছ-মাংস খাবে, তখন অন্য ভাইদের সন্তানরা হয়তো সাধারণ খাবারটুকুও পাবে না—এই বৈষম্যপূর্ণ দৃশ্য কি মেনে নেওয়া যায় ?

 

  • শেয়ার করুন