২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার,সকাল ৮:৫৯

আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন’, লোকজন নিয়ে থানার ওসিকে রুমিন ফারহানা

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  মনজুর কাদের ভূইয়াকে উদ্দেশ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন।’ থানায় লোকজন নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ওসির সঙ্গে কথোপকথনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় ওসির অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও একাধিক অভিযোগ তোলেন রুমিন ফারহানা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক ভিডিওতে এ কথোপকোথন শুনতে পাওয়া যায়।

কথোপকথনে রুমিন ফারহানা ওসিকে বলেন, তার অতীত সম্পর্কে তিনি জানেন। তার অভিযোগ, ওসি বিভিন্ন ব্যক্তিকে টেলিফোন করে টাকা চাইতেন। মাটির ব্যবসা ও ইটভাটা থেকেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে অর্থ আদায়কে ওসির ব্যবসা বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা।

এ সময় সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ওই ওসির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে তাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর জন্য গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দিয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

ভিডিওতে দেখা যায়, থানায় বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চান ওসি। জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ওসি তাকে নিজের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজেকেই করতে বলেছেন। তাই তিনি নিজের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন। তার সঙ্গে আসা লোকজন তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

একপর্যায়ে ওসি ভিডিও কলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাকে পরিস্থিতি দেখিয়ে বলেন, শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে মব করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা লোকজন এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তারা বলেন, মব করতে নয়, বরং রুমিন ফারহানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা থানায় এসেছেন।

কথোপকথনের একপর্যায়ে রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা লোকজনের মধ্যে কোনো আসামি আছেন কি-না, তা জানতে চান ওসি। জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি আসামি।’

এরপর তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা ছিল।

ঘটনাটি ঘিরে ওসি ও রুমিন ফারহানার কথোপকথনে নিরাপত্তা, থানায় লোকজনের উপস্থিতি এবং অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য উঠে আসে।

এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের বলেন, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ম্যাডামের নিরাপত্তা আমরা সবসময় দিয়ে আসছি। কিন্তু পূজার সময় পূজার নিরাপত্তার কারণে কিছুটা ব্যস্ত ছিলাম। আজকে উনি উনার নেতাকর্মী নিয়ে থানার ভিতরে আমার রুমে এসে আমার সাথে যে আচরণ করছে, আসলে এগুলো মোটেই ঠিক না। উনার কর্মী-সমর্থকরা আমার সাথে যে উচ্চবাচ্য আচরণ করছে খুবই দুঃখজনক। কিছু সমর্থকরা আমাদেরকে মব করার মত চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, আমার ব্যাপারে বলছে আমি নাকি বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা এনে কাজ করি, এগুলো মোটেও সত্য নয়। ঘুসের অভিযোগটি সত্য নয়, সম্পন্ন মিথ্যা। এ বিষয়গুলো আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সাথে রুমিন ফারহানা ও তার পিএসের মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাঁড়া পাওয়া যায়নি।

 

  • শেয়ার করুন