১০ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার,রাত ৪:০৩

শিরোনাম
একাধিক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা ঘেরাও করে শিক্ষককে পিটুনি, আহত ৩ পুলিশ সদস্য মাল্টা ৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত শিশুদের সুরক্ষায় ২২ জেলায় হচ্ছে ‘শিশু স্বর্গ’: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সরকার আলিয়া ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে: ইআবি ভিসি দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সাব- রেজিস্ট্রারদের লটারিতে বদলি চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণ খাদ্য মজুদ রয়েছে :খাদ্যমন্ত্রী জামুকার নতুন ডিজি মোস্তফা জামান নতুন কারা মহাপরিদর্শক আনোয়ারুল কবীর

বিয়ের তিন বছর পর কোলজুড়ে এলো সন্তান, তাও চুরি হয়ে গেল

প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :

বিয়ের তিন বছর পর গৃহবধূর কোলজুড়ে আসে এক ফুটফুটে সন্তান। এ নিয়ে পরিবারটিতে আনন্দের বন্যা বইছিল। এর মধ্যে ওই প্রসূতির পেটে ব্যথা হলে সহযোগিতার কথা বলে বোরকা পরিহিতা এক নারী সেই নবজাতককে চুরি করে নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ড থেকে নবজাতককে চুরি করে নিয়ে গেছে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী।

চুরি হওয়া শিশুটি জেলার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের চান্দুরা গ্রামের শামীম মিয়া ও মরিয়ম বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান।

শিশুটির পরিবার জানায়, গত সোমবার প্রসববেদনা নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি হন মরিয়ম বেগম। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। বিয়ের তিন বছর পর প্রথম সন্তান হওয়ায় পরিবারটিতে আনন্দের বন্যা বইছিল। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে বোরকা পরিহিত এক নারী রোগীর স্বজনের ছদ্মবেশে গাইনি ওয়ার্ডে প্রবেশ করে মরিয়ম ও তার মায়ের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে।

এর কিছুক্ষণ পর নবজাতকের মায়ের পেটে তীব্র ব্যথা অনুভূত হলে ওই নারী সহযোগিতার কথা বলে নবজাতককে নিজের কোলে নেয়। একপর্যায়ে শিশুটিকে কোলে নিয়েই কক্ষের গেটের দিকে এগিয়ে যায় সে। তখন মরিয়ম তাকে ভেতরে ফিরে আসতে বললেও চোখের পলকে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায় ওই প্রতারক নারী।

পরবর্তীতে চারদিকে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। খবর পেয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা হাসপাতালে এসে তদন্ত শুরু করেন। পরে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ওই নারী শিশুটিকে কোলে নিয়ে দ্রুত হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।

নবজাতকের নানি মমতাজ বেগম বলেন, দুপুরে ওই অজ্ঞাত নারী এসে অন্য এক রোগীর স্বজন পরিচয় দিয়ে আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করে। একপর্যায়ে মরিয়মের পেটে ব্যথা উঠলে সে সহযোগিতার নামে শিশুটিকে কোলে তুলে নেয়। মুহূর্তের মধ্যেই সে আমার নাতিকে নিয়ে উধাও হয়ে যায়।

কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটির মা মরিয়ম বেগম বলেন, বিয়ের তিন বছর পর আমার প্রথম ছেলে হয়েছে। ওই প্রতারক নারী কৌশলে আমার নাড়িছেঁড়া ধনকে চুরি করে নিয়ে গেছে। আমি আমার সন্তানকে দ্রুত ফিরে পেতে চাই। প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন, তারা যেন দ্রুত আমার বুকের মানিককে উদ্ধার করে এবং ওই নারীকে আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার করে।

শিশুটির বাবা শামীম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সন্তানকে কোলে না নিয়ে আমি হাসপাতাল ছাড়ব না। সরকারি একটি হাসপাতাল থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে কিভাবে শিশু চুরি হয়ে যায়? এখানে রোগীদের নিরাপত্তা কোথায়?

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, হাসপাতালে সবসময়ই রোগীদের স্বজনদের অতিরিক্ত ভিড় ও চাপ থাকে। শিশু চুরির ঘটনাটি আমরা জেনেছি। পরিবারের অসচেতনতার সুযোগেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে সার্বক্ষণিক আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকলে ভালো হতো। এছাড়া এখানকার সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো পুরোনো ও দুর্বল হয়ে পড়েছে; সেগুলো পরিবর্তনের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগী পরিবার ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ওই নারীকে শনাক্ত ও চুরি হওয়া নবজাতককে দ্রুত অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।

 

  • শেয়ার করুন