২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার,সকাল ১১:০৬

বিমান চলাচলে আসছে নতুন বিধিমালা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ ৪২ বছরের পুরোনো বিধিমালা সংশোধন করে নতুন বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা ২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন বিধিমালা ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব করার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, উড়োজাহাজের নিরাপত্তা এবং বিমান চলাচলের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ এর খসড়া চূড়ান্তকরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৪২ বছর পর বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধন করে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা একত্রিত হয়েছেন। বর্তমান সরকার বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাই নতুন বিধিমালা অবশ্যই ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বেসামরিক বিমান চলাচলে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করা হবে।

বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাই আমাদের মূল অংশীজন।’ বিনিয়োগ সহজীকরণের লক্ষ্যে বিধিমালা প্রণয়নে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বেসরকারি এয়ারলাইন্সের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত বিধানে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী। বিমানের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে আন্তর্জাতিক মানের মেন্টেনেন্স ও রিপেয়ার ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, কেপটাউন কনভেনশনের শর্ত অনুসরণ করে বিমান-সম্পর্কিত সম্পদের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও লিজিংয়ের অধিকার সুরক্ষার জন্য অপ্রত্যাহারযোগ্য নিবন্ধন বাতিল এবং রপ্তানি অনুরোধের কর্তৃত্বপ্রদান সংক্রান্ত বিধি যুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় বাংলাদেশকে একটি এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্য পূরণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান বিমানমন্ত্রী।

সভায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বেসরকারি এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। নতুন বিধিমালার প্রস্তাবিত বিভিন্ন ধারা নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

 

  • শেয়ার করুন