প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করায় এক নারীর ওপর পুলিশের সামনেই ব্যবসায়ীদের শারীরিক হেনস্থার দৃশ্য ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে। তবে এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দোকানের পণ্য নিয়ে অসন্তোষ থেকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন এক নারী। পরবর্তীতে অভিযোগের তদন্তে ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তাদের সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট মার্কেটে যান। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে পৌঁছানোর পরই মার্কেট সংশ্লিষ্ট কয়েকজন তাকে ঘেরাও করে হামলা চালায়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাকে ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের পাশাপাশি পুলিশের উপস্থিতিতেই লাথি মারা হয়। ঘটনাটির একটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি ঘিরে বর্তমানে নেটিজেনদের মাঝে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আইন ও বাস্তব পরিস্থিতি
আইন অনুযায়ী, বাজার থেকে পণ্য ক্রয় করে প্রতারিত বা অসন্তুষ্ট হলে যেকোনো ক্রেতা বা সাধারণ নাগরিক ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে জরিমানা কিংবা কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—একজন নারী কেনাকাটা করে প্রতারিত হয়ে ভোক্তা অধিকার নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে কেন হামলার শিকার হবেন? ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং পুলিশের উপস্থিতিতে যেভাবে ওই নারীর ওপর হামলা চালানো হলো, তা কি কোনো সভ্য দেশের সভ্য ব্যবসায়ীদের আচরণ হতে পারে? ব্যবসায়ীদের মূল কাস্টমার তো সাধারণ মানুষই। তারা টাকা দিয়ে পণ্য ক্রয় করেন। একদিকে নিম্নমানের বা ভেজাল পণ্য দেওয়া হবে, আর অন্যদিকে এর প্রতিবাদ করলে শারীরিকভাবে আঘাত করা হবে—এ কেমন আচরণ?
এইসব ভেজাল খাবারের কারণেই আজ মানুষ ক্যানসার, কিডনি রোগ, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগসহ নানা মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। সরকারের উচিত এমন কঠোর আইন করা—খাবার বা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যে ভেজাল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে সিলগালা এবং তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া।
ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে যা খুশি তা-ই করবে, একটি গণতান্ত্রিক ও সুশাসিত রাষ্ট্রে তা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশের উপস্থিতিতে একজন নারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে, তবে তা কেবল একজন নারীর ওপর হামলা নয়; এটি আইনের শাসন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ওপরও এক গুরুতর আঘাত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং ভুক্তভোগীর অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। অপরাধ সত্য প্রমাণিত হলে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং যে দোকান থেকে পণ্য কিনে নারীটি প্রতারিত হয়েছেন, সেই ব্যবসায়ীর ব্যবসা স্থায়ীভাবে বন্ধের ব্যবস্থা করা উচিত।
নারীও একজন মানুষ এবং এই দেশের স্বাধীন নাগরিক—তাঁকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া সকলের দায়িত্ব। প্রতিবাদের অধিকার কারও অনুদান বা দয়া নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।