প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ প্রতারণার নতুন কৌশল যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। এবার ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জনের জন্য প্রতারকরা ব্যবহার করছে এমন একটি জায়গা, যার নাম শুনলেই অনেকের মনে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষমতা ও প্রভাবের ধারণা তৈরি হয়, জাতীয় সংসদ ভবন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ভুয়া সচিব পরিচয়ে প্রতারণা করা একটি চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। গোয়েন্দা পুলিশ বলছে চক্রটি ভুক্তভোগীদের জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যান্টিন বা রেস্টুরেন্টে ডেকে নিয়ে বৈঠক করত। যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা হতো ভাড়া করা দামি গাড়ি। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, নিজেদের বড় কর্মকর্তা ও ক্ষমতাবান ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।এরপর শুরু হতো আসল খেলা।
সাভারের কবিরপুরের একটি নির্দিষ্ট জমিকে কেন্দ্র করে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ভুয়া বায়না করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে জানা গেছে। একই জমি দেখিয়ে একের পর এক মানুষের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে বিপুল অর্থ।
শুধু জমি নয়, ব্যবসায়ীদেরও টার্গেট করা হতো। সরকারি দপ্তর থেকে বড় সরবরাহের অর্ডার, ফার্নিচারের কাজ কিংবা সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
প্রতারক চক্রটির কৌশল ছিল বেশ অভিনব। দামি গাড়ি, ভিআইপি জায়গায় বসে বৈঠক, কথাবার্তায় সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় এবং বড় বড় সরকারি কাজের গল্প। অর্থাৎ মানুষের চোখে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করার জন্য সাজানো হয়েছিল পুরো একটি পরিবেশ।
এ ধরনের প্রতারণা বাংলাদেশে নতুন নয়। এর আগেও ভুয়া অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে সরকারি প্রকল্পের কাজ, ওয়ার্ক অর্ডার ও ব্যাংক ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে।
এই ঘটনার আরেকটি বিষয়ও বিশেষভাবে ভাবার মতো। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, কথিত ভুয়া সচিব নিজেও একসময় প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন। পরে সেই অভিজ্ঞতাকেই যেন উল্টো অস্ত্র বানিয়ে নিজেই একটি প্রতারণা চক্র গড়ে তোলেন।
প্রতারণার সবচেয়ে বড় শিক্ষা এখানেই।কেউ দামি গাড়িতে উঠলেই তিনি বড় কর্মকর্তা নন। কেউ সংসদ ভবনের ক্যান্টিনে বসে কথা বললেই তিনি সরকারি কর্মকর্তা নন। কেউ সচিব পরিচয় দিলেই তিনি সচিব নন।
বিশেষ করে জমি, সরকারি কাজ, সরবরাহের অর্ডার, টেন্ডার কিংবা বড় অঙ্কের ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে পরিচয় ও কাগজপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই না করে এক টাকাও দেওয়া উচিত নয়।
কারণ প্রতারকরা এখন শুধু মিথ্যা কথা বলে মানুষকে ঠকায় না। তারা বিশ্বাসযোগ্যতার একটি পুরো মঞ্চ তৈরি করে, তারপর সেই মঞ্চেই বসিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা নেয়।