৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার,রাত ৩:১৭

কর অঞ্চল-কক্সবাজার, কর সার্কেল-২ উপকর কমিশনার নুরুর ইসলামের ৫০ কোটি টাকার উপরেও অবৈধ সম্পদের পাহাড় !

প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি ঃএনবিআর ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠন করে ২০২৫ সালের ১২ মে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। এরপর থেকেই এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সেই আন্দোলনের শেষ দিকে এনবিআরের ২৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি নামের তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়। পরবর্তীকালে দুদকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে দুদক, যার মধ্যে একজনের অনুসন্ধান আগে থেকেই চলমান ছিল।

তবে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে, যাঁর বিরুদ্ধে সবার আগে তদন্ত শুরু হওয়ার কথা ছিল, তাঁর নাম রহস্যজনকভাবে বাদ পড়েছে। তিনি হলেন উপ কর কমিশনার নুরুল ইসলাম খান, যাঁকে সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান মোটা অঙ্কের  ঘুষ নিয়ে ক্সবাজার কর অঞ্চলের কর সার্কেল-০২-এ  বদলি করেন ।  তবে বর্তমানে কর সার্কেল-০৬ (অতিরিক্ত দায়িত্বে) পালন করছেন। বর্তমানে তাঁর কার্যালয় কক্সবাজারের তারাবনিয়ারছড়ার খুরুশকুল রোডের এস কে টাওয়ারের ২০১ নম্বর কক্ষে অবস্থিত।

নুরুল ইসলাম খান এর বিলাসবহুল ৬ তলা বাড়ির ছবিটি দিয়ে দেয়া হলো 

অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর বুকেই এই নুরুল ইসলাম খান এর একটি বিলাসবহুল ৬ তলা বাড়িও আফতাব নগরে আরও ২ টি প্লট  রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। এ ছাড়া রাজধানী ও তাঁর নিজ জেলা মিলিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বলে গুঞ্জন আছে, যা সুষ্ঠু তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক রাজস্ব কর্মকর্তা জানান, নুরুল ইসলাম খান এনবিআর ‘রাজস্ব নীতি’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ নামে দুটি নতুন বিভাগ করার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধী ছিলেন এবং আন্দোলনের মূল নেপথ্যের কারিগর ছিলেন তিনিই। আন্দোলন চাঙ্গা রাখতে তিনি কর্মচারীদের পেছনে  প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সাবেক চেয়ারম্যানের সঙ্গে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে পদোন্নতি ও সুবিধাজনক স্থানে বদলি নিয়ে তিনি ঢাকা ছাড়েন। ফলে আন্দোলনের মূল হোতা হওয়া সত্ত্বেও তিনি এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।

রাজস্ব বোর্ডের কক্সবাজার কর অঞ্চলের উপ কর কমিশনার নুরুল ইসলামের দুর্নীতির  ব্যপারে তার  মুঠো ফোনে 018—650এ, আমাদের সংবাদদাতা তার মতামত জানতে চাইলে ফোনটি রিসিভ করে নাম জেনেই  ফোনটি কেটে দেয়।  কিছূক্ষন পর অন্য একটা ফোন এলে নিয়মীত ফোন সংবাদদাতা রিসিভ করেন ও জানতে চান কে। জবাবে ওপার থেকে ক্ষীপ্ত স্বরে  উত্তর আসে খারাপ ভাষায় ও কাকে ফোন দিছিলি জানতে চান। সংবাদদাতা দুর্নীতিবাজের নাম বললে বলেন তুই আমার সাথে দেখা কর , না হলে বল কোথায় আছ। সংবাদদাতা তাকে শান্ত হতে বলেন ও বলেন  কেন ভাই।  উত্তরে বলেন ওনাকে চিনিস উনি কে ? সংবাদদাতা বলনে উনি একজন রাজস্ব কর্মকর্তা দুর্নীতিবাজ। এতে আরও ক্ষেপে ওঠেন ও দেখা না করলে তুলে নিয়ে যাবে  ও সাংবাদিকতা বুঝিয়ে দিবেন বলে হুমকি দেন। সংবাদদাতা জিজ্ঞাসা করলেন আপনি কি বিএনপির নেতা ? উত্তরে বললেন ঐসব বালসোল দল করিনা। আমি আওয়ামীলীগের সভাপতি । সভাপতি কোথাকার, তখন বললেন বনশ্রীর, নাম জানতে চাইলে মোবাইল কেটে দেন।ততক্ষনাৎ হোয়াটসঅ্যাপে গেলে দেখতে পাই ওনার নাম কামাল। বিষয়টি  সংবাদদাতা ঐ এলাকায় খোজ খবর নিয়ে জানতে পারে যে কামাল  দক্ষিন বনশ্রী  প্লট মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক ও বনশ্রীর আওয়ামীলীগের সহসভাপতি।  তবে অনেক টাকার মালিক , বনশ্রীতে ৪/৫ টা ৬/৭ তলা বাড়ী আছেন । অপর দিকে বিদেশে ও থাকেন। দেশে যখন পুলিশে গ্রেফতারী বা তল্রাশী শুরু হয় তখনই বিদেশ চলে যায় । এ ছাড়া নুরুল ইসলাম ও কামাল বনশ্রীরির আওয়ামী , যুবলীগ নেতাদের সেল্টার ও টাকা পয়সা দিয়ে সব রকমের সহযোগিতা করে থাকেন। নুরুল ইসলামের কামাল হলো মক্কেল । কামালের ৪/৫ টা বা্ড়ী আছেন বনশ্রীতে এবং সে পরিচয় দিয়েছে দক্ষীন বনশ্রীর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও জামে মসজিদের সাধারন সম্পাদক। এর কারন ছিল ঐ খানে একটা মসজিদের সাধারন সম্পাদকের ছেলে সেনাবাহিনীর অফিসার পদে চাকরি করেন।  মসজিদের সাধারন সম্পাদক পরিচয় দিয়ে র‌্যাবের ভয় দেখাতেও  চান। কিন্তু সংবাদদাতাতো তার সোস্ দিয়ে কামালের ও নুরুল ইসলামের  সকল তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।।

কামালের দক্ষিন বনশ্রীতে  ৪/ ৫ টা বাড়ী আছে। আর ঐ এলাকায়ই নুরুল ইসলামের  ৬ষ্ঠ তলা বাড়ী রয়েছে। নুরুল ইসলামও আওয়ামীলীগের নেতা ও কামালও বনশ্রীর আওয়ামী নেতা। তারা দুজনে অনেক অবৈধ্য টাকার মালিক । যার ফলে তরা আওয়ামীলীগের সভা সমাবেশের খরচাপাতি দেয় । আর অন্য দিকে কামালের  যে ৪/৫ টা বাড়ী আছে তার ট্যাক্স কমিয়ে নুরুল ইসলাম , নামে মাত্র রাজস্ব  কামালের জমা দেয়। এইজন্য নুরুল ইসলামের পক্ষ হয়ে সংবাদদাতাকে প্রাননাসের  হুমকি দেয়। নুরুল ইসলামের বনশ্রীতে ৬ষ্ট তলা একটি ৭ শতাংশ জমির উপর অত্যাধুনিক বিল্ডিং রয়েছে ও নেত্রোকোনায় ও অনেক সম্পত্তি রয়েছে ।

নুরুল ইসলাম আওয়ামীলীগের নেতা ওি অর্থদাতা ছিলেন বলেই  মিছিলে না থেকে সব সময় গোপনে মিছিল মিটিংএ নুরুল ইসলামের অগ্রনী ভুমিকা ছিল।যার প্রেক্ষিতে সরকার কঠোর অবস্থান নেয়। এর  ফলে ৩৬ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বহিষ্কার,পাঁচজনকে বাধ্যতামূলক অবসর এবং প্রায় ৪০০ কর্মকর্তাকে বদলি করে।নুরুল ইসলাম  নিজেই স্বীকার করেন যে তাকে বার বার সরকার ঢাকার বাইরে বদলী করেন।( চলবে , সাথে কামালের সম্পদেরও বিবরন )

  • শেয়ার করুন