২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার,রাত ২:৩৪

শিরোনাম

বাউল না ছদ্মবেশী প্রতারক !!

প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি ঃ    প্রতারনার অভিযোগ বাংলাদেশ বাউল সমিতি ও বাংলাদেশ জাতীয় বাউল ফাউন্ডেশনের সভাপতি পরিচয়দানকারী বাউল শিল্পী লতিফ সরকারের বিরুদ্ধে ।

লতিফ সরকারের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ যে, লতিফ সরকার ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ১৫ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টাকা চুক্তিতে ইউরোপ ও আমেরিকায় শিল্পী হিসেবে পাঠাবেন। এবং সেজন‍্য তাঁদের কাছ থেকে লতিফ সরকার ১০ লক্ষ টাকা কারো কাছ থেকে ১২ লক্ষ টাকা নগদ নিয়েছেন। কাজের প্রমান হিসেবে বিভিন্ন রঙিন পোস্টার, বাউল সমিতির সদস্য পদ ও প্রত‍্যায়ন পত্র প্রদান করেছেন, কাউকে কাউকে আবার বিভিন্ন পত্রিকার নিউজ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে ।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, যারা কখনোই শিল্পী নন তারা কি করে বাউল সমিতির সদস্য হতে পারে ? এবং শিল্পী হিসেবে বিদেশে যেতে পারে ? লতিফ সরকারের এমন আচরনে নড়ে চড়ে বসেছেন বাউল সমিতি। বাউল শিল্পী মানে মহৎ ও উদার মনের অধিকারী সহজ সরল মানুষ, যাদের সবাই সম্মান করে ও ভালোবাসে।

কিন্তু লতিফ সরকারের এমন জগন্য প্রতারনা বাউল সমিতির জন্য ও সকল বাউল শিল্পী সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বেশ কয়েকজন নামকরা বাউল শিল্পী ।

উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী লতিফ সরকারের মেয়ে ও তার এই প্রতারনামুলুক অবৈধ আদম ব‍্যবসার অংশীদার ফখরুল যৌথভাবে বিভিন্ন অফিসের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া কাগজ দেখিয়ে বিভিন্ন জেলার সহজ সরল মানুষের কাছে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। মামুন নামের এক ভুক্তভোগী জানান তার কাছ ২০২৪ সালে ১২ লক্ষ টাকা নিয়ে তাকে বাউল সমিতির কিছু ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে ভিসার জন্য আবেদন করান এবং তা বাতিল হয়।

পলাশ নামে এক ভুক্তভোগী জানান তার কাছ থেকেও দুইবারে নগদ ১১৫০০০০ টাকা নিয়ে একই ধরনের ভুয়া কাগজপত্র প্রদান করেন, কাগজ জাল মনে করে তিনি ভিসার আবেদন না করে তার টাকা ফেরত চান । অনেক চেষ্টা করে বার বার হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করে তিনি কিছু টাকা ফেরত পান, তবে এখনো প্রায় ৮ লক্ষ টাক লতিফ সরকারের কাছে রয়ে গিয়েছে।

মজার ব্যাপার হলো তারা একজনও শিল্পী নন।

লতিফ সরকার বাউল সমিতির বিভিন্ন পদ ব‍্যবহার সারাদেশে প্রতারনার এক মায়া জালের ফাঁদ পেতেছেন। মিস্টি মিষ্টি কথা বলে অসহায় বেকার যুবক যুবতীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন, যা শিল্পী সমাজের জন্য লজ্জাজনক ।

দিনকালের কাছে এমন অভিযোগও এসেছে যে, মেয়েদেরকে শিল্পী হিসেবে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তাদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন ।

শিল সমাজ মনে করেন- লতিফ সরকার এহেন নেক্কারজনক প্রতারণার জন্য একসময়ের সুফি বাউল এখন ভন্ড প্রতারক হিসেবে পরিচিত হচ্ছে । বাউল সমাজের উচিত সঠিক তদন্ত করে লতিফ সরকার ও তার সাঙ্গুপাঙ্গুদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া এবং সাধারণ মানুষকে একই ভয়ঙ্কর প্রবণতার ফাঁদ থেকে বাঁচানো । এতে করে বাউলদের সন্মান রক্ষা হবে এবং সাধারণ মানুষেরও ক্ষতি হবে না। কারো ক্ষতি করা বাউলের কাজ হতে পারে না।

  • শেয়ার করুন