২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার,সন্ধ্যা ৬:৪০

শিরোনাম
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সাক্ষাৎ বৈশাখী ভাতা নিয়ে বড় দুঃসংবাদ পেল সরকারি চাকরিজীবীরা মানবতাবিরোধী অপরাধে জাফর ইকবালসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ চেকপোস্টে ৬ জন গ্রেফতার আইনশৃঙ্খলা-উন্নয়ন নিয়ে হুইপ নিজানের মতবিনিময় সভায় সব দলের প্রতিনিধি গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে কোনো স্বৈরশক্তিই মাথাচাড়া দিতে পারে না: রিজভী গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, আরও ৯ আসামি কারাগারে জিয়াউর রহমানকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করেন কর্নেল মতিউর সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ ২৫ কোটি টাকা করা হচ্ছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

গোপালগঞ্জের ভেন্নাবাড়ী সম্মিলিত উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি অবাধে চললেও দেখার কেউ নাই

প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

লুৎফর সিকদার ঃ

সদর উপজেলার ভেন্নাবাড়ী সম্মিলিত উচ্চ বিদ্যালয়ে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতি চললেও দেখার কেউ নেই।

বিদ্যালয়টিতে গত বৃহস্পতিবার  সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে চলতি বছর ষষ্ঠ শ্রেণির ১১৩ জন শিক্ষার্থী রেজিষ্ট্রেশন করলেও তাদের উপবৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। উপরন্তু তাদেরকে একশত টাকা করে দিতে হয়েছে আবেদন ফি বাবদ। প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত)  নবীন বিশ্বাসকে  জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা। অফিস সহকারী রমেশ রায় সব দায়িত্ব পালন করেছেন। আমার কাছে কোনো তালিকা নেই ষষ্ঠ শ্রেণির উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের।

রমেশ রায় এ দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে বাড়ী চলে যান। অফিস সহকারী রমেশের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক ভুল বলেছেন। উপবৃত্তির কাজ আমি করিনি। ল্যাব অপারেটর ক্লিনটন বিশ্বাস সব কিছু করেছেন। ওই ব্যাপারে আমি আর খোঁজ নেইনি। আমার কাছে ক্লিনটন কোনো তালিকা দেয় নাই। শুনেছি সার্ভার সমস্যার কারনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি ক্লিনটন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে ক্লিনটন।

বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে এবং হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না দেখে জানা গেছে ল্যাব অপারেটর ক্লিনটন বিশ্বাস বিদ্যালয়ে ছুটি ছাড়াই অনুপস্থিত রয়েছেন। তার মোবাইল নাম্বারে বারবার কল করা হলেও অপর প্রান্ত থেকে কেউ সাড়া দেয় নাই।

এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নবীন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গাইড বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, প্রধান শিক্ষক তাদেরকে গাইড বই কিনতে বলেছেন।

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন ভাষ্কর বিশ্বাস এবং উত্তম বৈদ্য নামে দুজন শিক্ষক বিধিমালা ভংগ করে  বিদ্যালয় কক্ষে প্রাইভেট পড়ান নিয়মিত। শিক্ষার্থী প্রতি তারা ৫০০ টাকা করে নেন। ওই দুইজন শিক্ষক অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ান।

এসব ব্যাপার জেলা শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিনকে মোবাইল ফোনে অবগত করে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,এসব ব্যাপার দেখেন আমার উপজেলা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার। আমি তার সাথে আলাপ করে দেখি কি করা যায়। আপনারাও তার সাথে কথা বলেন।

পরে সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদারের মোবাইল ফোনে কল করা হলে অপর প্রান্ত থেকে তিনি সাড়া দেননি।

সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যালয়গুলিতে গাইড বই চালাতে পারলে মোটা অংকের সেলামী পাওয়া যায়। অন্যান্য অনিয়ম ও  দুর্নীতি অবাধে চলতে দিলেই কর্মকর্তারা নিয়মিত সেলামি পেয়ে থাকেন।

  • শেয়ার করুন