প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫
বিশেষ প্রতিবেদক ঃ
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়ার দুর্নীতির চিত্র দুদকের প্রাথীমক তদন্তেও প্রমান মিলছে বলে সংশ্লিস্ট সুত্রে জানা গেছে। এ খবর বাচ্চু জানতে পেরে তার ঘুষের ও উৎকোচের হার বাড়িয়েছে বলে ঠিকাদারগন প্রকাশ করছেন। যা নিয়ে অতিষ্ঠ ঠিকাদারগন। টেন্ডারে অনিয়ম, ঘুষ দাবি, স্বজনপ্রীতি ও কমিশন বাণিজ্যের প্রমাণও মিলেছে হিডেন নিউজের তদন্তে। তবে ফ্যাসিস্ট সরকারের কামলাদের অদৃশ্য শক্তির বলে স্বপদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন এলজিইডির বাচ্চু ! এ নিয়ে নানান ধরনের প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে এলজিইডির অন্যান্য প্রকৌশলীদের মাঝে।এমনও প্রশ্ন ওঠেছে অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টাগনও কি ঐ স্বৈরাচারি ফ্যাসিস্ট সরকারেরমত হয়ে গেছে ? নচেৎ কেন বাচ্চুকে বরখাস্ত করছে না।বাচ্চুতো ফ্যাসিবাদ সরকারের দোসর ও দুর্নীতিবাজ তাতে কোন ভুল নাই। একজন অসাধু কর্মকর্তাকে চাকরিতে বহাল রেখে তার দোষ খোঁজা যায় না। কারন মানুষতো আর ফেরেশতা না ?
এলজিইডির ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়কে ঘুষ–দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য বানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া।
এলজিইডির ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়কে ঘুষ-দুর্নীতির দূর্ঘাসাগরে তৈরী করেছে নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া। হিডেন নিউজের কাছে এসেছে এ সংক্রান্তবেশ কিছু ডকুমেন্ট। যা পর্যবেক্ষন করে দেখা যায়, দরপত্র আহ্বান থেকে কার্যাদেশ প্রদান, বা অর্থ মঞ্জুরি, প্রতিটি ক্ষেত্রেই অনিয়ম, দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্য নিয়মিত করছেন বাচ্চু মিয়া।
রাজধানীর গাবতলী এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরি করছে এলজিইডি। সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির কাজ এখনও চলছে। কিন্তু ভবনটির কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ১ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বাচ্চু মিয়া ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার প্রমাণ মিলেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তেও। তাদের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, কাজ না করে টাকা আত্মসাতের জন্য সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার আর জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া মেজারমেন্ট বুক তৈরি করেন বাচ্চু মিয়া। সেই মেজারমেন্ট বুক দিয়েই কাজ না করে টাকা তুলে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর এই সুযোগটি করে দিয়ে নিজের কমিশন বাগিয়ে নেন বাচ্চু মিয়া।
দুদকের মামলার পর এখন তড়িঘড়ি করে সেন্টারিং না খুলেই একসঙ্গে দেয়া হয়েছে তিনটি ছাদের ঢালাই। তার মধ্যেই চলছে ইটের গাঁথুনি, প্লাস্টার ও বৈদ্যুতিক পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ।
শ্রমিকরা জানান, তারা বলেছেন তাড়াতারি করে ঢালাই কাজ শেষ করতে। এজন্য সেন্টারিং না খুলেই দ্রুত ঢালাই করা হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু টেন্ডারের আগে অর্থের বিনিময়ে গোপনে দর সরবারহ করেন। বাচ্চু মিয়া ঘুষের টাকা তোলেন তালিকা করে, টাকা না দিলে করেন হেনস্তা। যার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এতে বলছে কিছু টুকিটাকি টাকা আমি নিচ্ছি। কারণ আমার টাকার দরকার হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় খরচ। কোন কোন ঠিকাদার টাকা দিছে, কে দেয়নি তাদের নাম মোবাইল নম্বর দিয়ে নির্দেশ দিয়েছি- একটা ভুলত্রুটি পেলে আমাকে জানাবা।’
নির্বাহী প্রকৌশলী হওয়ার পর নামে বেনামে লইসেন্স করে কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেন বাচ্চু মিয়া নিজেই। তার আপন ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম সুমনের নামে করেছেন দুটি লাইসেন্স। কাজের নামে প্রায় কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয় সে প্রতিষ্ঠান দুটোকে।
লাইসেন্সের ঠিকানা ধরে উত্তরার আকাশ প্লাজায় পুরো ভবন ঘুরেও মেলেনি মোহনা ও মাহমুদ এন্টারপ্রাইজ নামের কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মানে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার আপন ছোট ভাই শহিদুল ইসলামকে।
দুর্নীতি ও ঘুষ নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাচ্চু মিয়ার অফিসে গেলে ক্যামরা বন্ধ করে দেন ও খারাপ আচরন করেন তার লোকজন।
ভবনে দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান দুটি কীভাবে কী কাগজপত্র জোগাড় করেছে জানি না। এটা যেহেতু একটা কমার্শিয়াল ভবন, এখানকার অনেক লোকেই ভবনের ঠিকানা ব্যবহার করে লাইসেন্স করেছে।
এদিকে, দুদকের জালে ধরা পড়ার পর থেকে বাচ্চু মিয়া ঘুষের রেট বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন ঠিকাদাররা।

অভিযোগ রয়েছে, আগে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজের টাকার আট শতাংশ ঘুষ নিতেন প্রকৌশলী বাচ্চু। এখন দুদকের মামলার পর ১২/১৫ শতাংশ ঘুষ দাবি করেন তিনি। আর ঠিকাদারকে বিল দেয়ার সময় আরও ৪% থেকে ৬ % নেন। ঘুষ নেয়ার জন্য প্রতি শুক্রবার বা শনিবার উত্তরা জমজম টাওয়ারে ডাক দিতেন ঠিকাদারদের।
বাংলাদেশ ইনফ্রাস্টাকচার অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের সিইও মো. সজীব হোসাইন বলেন, ‘দুদকের অভিযোগের পর উনি (বাচ্চু মিয়া) আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। প্রতিটা ঠিকাদার থেকে অগ্রিম কমিশন বাবদ টাকা নেন তিনি। ঘুষের রেটও বাড়িয়েছেন।’
এতোসব অভিযোগের বিষয়ে বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে কথা বলতে এলজিইডি ভবনে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আবারও তার অফিসে গেলে অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানান প্রকৌশলী বাচ্চু।
দুদকের তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরও ফ্যাসিবাদ সরকারের আমলা ও কামলাদের সিন্ডিকেটের অলৌকিক শক্তির বলে স্বপদে বহাল আছেন। শাস্তি বলতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে কথা ছিল সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে কমিটি। কিন্তু প্রায় চার মাস হলো কিন্তু আলোর মুখ দেখেনি।