২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার,রাত ১২:২৪

শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর পছন্দেই চূড়ান্ত হবে ব্র্যান্ড ও মডেল দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন মন্ত্রী জাহিদ হোসেন, সহ-সভাপতি এমপি জাহাঙ্গীর আলম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তারাবোতে দোয়া মাহফিল সরকারের তোষামোদ নয়, জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহে শিশুর মরদেহ উদ্ধার: দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৩ তরুণ গ্রেপ্তার বিআরটি প্রকল্প নিয়ে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার গত জানুয়ারি-মে দেশে খুন-অপহরণসহ অপরাধ বেড়েছে, দাবি বিসিআরএসের বন্দরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা মূলক কর্মসূচি পালিত

সাংবাদিক নির্যাতন: সত্য ও স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর আঘাত

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

মোঃ শহিদুল ইসলাম ঃ

আজ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা হামলা, মামলা, হুমকি, অপমান, হয়রানি ও নানামুখী চাপের মুখে কাজ করছেন। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে কেউ আক্রান্ত হচ্ছেন সন্ত্রাসীদের হাতে, কেউ প্রভাবশালীদের রোষানলে, আবার কেউ ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনা এখন আর গোপন থাকে না; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে মুহূর্তেই দেশবাসীর সামনে চলে আসে।

কিন্তু একটি প্রশ্ন আজ বারবার বিবেককে নাড়া দেয়— সাংবাদিকরা আক্রান্ত হলে আমরা কি সত্যিই একসঙ্গে দাঁড়াই?

বেদনাদায়ক হলেও সত্য, সাংবাদিক সমাজ আজ নানা পরিচয়ে বিভক্ত। কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ে, কেউ সংগঠনগত পরিচয়ে, কেউ ব্যক্তিগত প্রভাবের প্রতিযোগিতায়, আবার কেউ নিজ নিজ অবস্থানকে বড় প্রমাণ করার অদৃশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্যস্ত। ফলে একজন সাংবাদিক আক্রান্ত হলে প্রথমে দেখা হয়— তিনি কোন সংগঠনের, কোন মতের, কোন পক্ষের বা কার ঘনিষ্ঠ। অথচ প্রশ্ন হওয়া উচিত ছিল একটাই— তিনি কি একজন সাংবাদিক?

যে পেশার মূল শক্তি হওয়ার কথা ছিল ঐক্য, নৈতিকতা ও সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা, সেই পেশার ভেতরেই যদি বিভাজনের দেয়াল উঁচু হতে থাকে, তাহলে বহিরাগত অপশক্তিগুলো সুযোগ নেবেই। কারণ বিচ্ছিন্ন কণ্ঠস্বর সহজেই দমন করা যায়, কিন্তু ঐক্যবদ্ধ বিবেককে স্তব্ধ করা কঠিন।

আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক সময় সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাগুলো জাতীয় আলোচনায় যথাযথ গুরুত্ব পায় না। যারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আছেন, যারা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলেন, তাদের অনেকের কণ্ঠও এসব ঘটনায় আশানুরূপভাবে শোনা যায় না। এই নীরবতা কেবল হতাশাজনক নয়, ভবিষ্যতের জন্যও অশনিসংকেত।

আমাদের মনে রাখতে হবে, সাংবাদিকতার শক্তি পদবিতে নয়, ব্যানারে নয়, সংগঠনের নামেও নয়; সাংবাদিকতার প্রকৃত শক্তি সত্য, সততা, সাহস এবং পেশাগত সংহতিতে। যদি আমরা নিজেরাই নিজেদের বিভক্ত করি, তাহলে আমাদের দুর্বলতার সুযোগ অন্যরা নেবেই।

আজ সময় এসেছে আত্মসমালোচনার। সময় এসেছে ব্যক্তি, দল, মত ও সংগঠনের ঊর্ধ্বে উঠে সাংবাদিকতার মৌলিক স্বার্থে এক হওয়ার। কারণ একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো সাংবাদিকই প্রকৃত অর্থে নিরাপদ নন।

ইতিহাস কখনো নীরব দর্শকদের মনে রাখে না। ইতিহাস মনে রাখে তাদের, যারা কঠিন সময়ে সত্যের পাশে দাঁড়িয়েছিল।

সাংবাদিক সমাজের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান— আসুন, আমরা আগে নিজেদের ভেতরের বিভাজন দূর করি। কারণ ঐক্যহীন সাংবাদিক সমাজ কখনো শক্তিশালী গণমাধ্যম গড়ে তুলতে পারে না, আর শক্তিশালী গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্রও দীর্ঘদিন সুস্থভাবে টিকে থাকতে পারে না।

  • শেয়ার করুন