প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬
বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রেলওয়ের কেনাকাটায় হরিলুটের মহোৎসব ও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠেছে দুদকের দায়ের করা চাঞ্চল্যকর জোড়া মামলায়। মালামাল সরবরাহ না করেই ভুয়া নথিপত্রের মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পূর্ব) তাপস কুমার দাসসহ রেলের শীর্ষস্থানীয় ১৬ কর্মকর্তা ও অসাধু ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এই ‘লুটতরাজ’ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে রেলভবনকে জিম্মি করে রাখলেও, বর্তমান সরকারের কঠোর নির্দেশনায় অবশেষে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তাপস কুমার দাস
তাপস কুমার দাস: প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পূর্ব), যিনি চট্টগ্রামের এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় টেন্ডার ও লুটপাটে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রেলওয়ের পাহাড়তলী কার্যালয়ের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী (পূর্ব) তাপস কুমার দাস সহ রেলওয়ের মালামাল সরবরাহ না করে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় (মামলা নং ৩৩/১০০) আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ঠিকাদারকে আসামি রয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন:
ফরিদ আহমেদ: প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ রেলওয়ে পাহাড়তলী কার্যালয়।
মুহাম্মদ রাশেদুল আমিন: সাবেক অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক।
এ এম এম ইকবাল মোর্শেদ: স্বত্বাধিকারী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এম ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজি।
এছাড়াও, একই দিনে রেলওয়ের যন্ত্রাংশ ক্রয়ে মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫ হাজার ২৭৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরও একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়, যাতে আরও আটজন আসামির নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন
প্রকৌশলী সাবেক অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক।
দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আহসানুল কবীর পলাশ বাদী হয়ে চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এই মামলাগুলো রুজু করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রতারণামূলকভাবে মালামাল সরবরাহ না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়াও, একই দিনে রেলওয়ের যন্ত্রাংশ ক্রয়ে মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫ হাজার ২৭৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরও একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়, যাতে আরও আটজন আসামির নাম রয়েছে বলে জানা যায় ।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে কার্যালয়ে মালামাল সরবরাহ না করে ১ কোটি ৬২ লাখ ৫ হাজার ২৭৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেছে, তার আসামিদের নাম নিচে দেওয়া হলো:
এই মামলায় মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন:
১. মোহাম্মদ কুদরত–ই–খুদা: সাবেক অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (বর্তমানে ওএসডি, রেলভবন)।
২. মোহাম্মদ রাশেদুল আমিন: সাবেক অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক। ৩. প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস: সাবেক পরিচালক (ইনভেনটরি কন্ট্রোল), রেলভবন, ঢাকা। ৪. মো. বোরহান উদ্দিন: ডিস্ট্রিক্ট কন্ট্রোলার অব স্টোরস (পিআরএল-এ থাকা)। ৫. মো. আনোয়ার হোসেন: সাবেক সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সাসপেন্ড থাকা)।
৬. এস এম আবু সাঈদ: সরঞ্জাম পরিদর্শক (পূর্ব)। ৭. মো. শহিদুল ইসলাম: সরঞ্জাম পরিদর্শক। ৮. এ এম এম ইকবাল মোর্শেদ: স্বত্বাধিকারী, মেসার্স এস এম ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজি (ঠিকাদার)।
আরও একটি মামলা হয় যার নম্বর চট্টগ্রাম: ৩৪/১০০ । (উল্লেখ্য যে, একই দিনে তাপস কুমার দাসের সংশ্লিষ্টতায় দায়ের করা প্রথম মামলার নম্বর ছিল ৩৩/১০০)।
তদন্তকারী কর্মকর্তা: মামলাটি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর তত্ত্বাবধানে তদন্তাধীন রয়েছে। এই মামলার প্রাথমিক কার্যক্রম ও তদারকি করছেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাৎ । সাধারণত এই স্তরের মামলার ক্ষেত্রে দুদকের একজন সহকারী পরিচালককে মূল তদন্তকারী কর্মকর্তা (IO) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মামলার বাদী: দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আহসানুল কবীর পলাশ
এই মামলায় ৮ জন কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া রেকর্ডপত্রের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে । তার নামে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় তাকে পদোন্নতি দিয়ে বদলি করে রেলভবনের যুগ্ম মহাপরিচালক (ডিজাইন এন্ড স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।