প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ

নারায়ণগঞ্জ শহরের মুসলিম নগর জামে মসজিদ কমিটির আওয়ামী লীগ আমলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অনিয়ম অসঙ্গতি ও সেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব না দেওয়ায় পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্য ও মুসল্লীদের মধ্যে ক্ষোভ এবং অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।এসব অনিয়মের সঙ্গে নীরব সমর্থন দেওয়ায় ঈমাম ও খতিব হাফেজ কাউসার আহম্মেদের বিরুদ্ধেও ক্ষিপ্ত মুসল্লীরা।একইসাথে ফ্যাসিবাদের অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতাদের অবিলম্বে অপসারণ করে পবিত্র মসজিদ রক্ষার জন্য দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর ১৮ নং ওয়ার্ড কুমুদিনী এলাকায় অবস্থিত মুসলিম নগর জামে মসজিদ। প্রায় ৪০ বছর আগে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ও অর্থায়নে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়।বর্তমানে ৪ তলা ভবন হয়েছে।বর্তমান কমিটির সভাপতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহনেওয়াজ বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিলা প্রায় ১৮ বছর আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অদ্যাবধি কোন হিসাব দেয়নি।দুজনেই ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ এবং কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নার সহযোগী হিসেবে প্রভাব বিস্তার করে নিজেদের দখলে রাখে মসজিদ কমিটি।এরই মধ্যে জেলা পরিষদের ২০২১-২২ অর্থ বছরে অনুদান পাওয়া তিন লাখ টাকা সহ বেশ ক’জন ব্যাক্তির মোটা অংকের অনুদানের অর্থ নিজেদের ইচ্ছেমতো ব্যায় করেছেন।কিন্তু কোন হিসাব না দিয়ে তালবাহানা করছেন বলে জানান।এমনকি সম্প্রতি মসজিদের সংস্কার কাজের অর্থ নিয়েও নয়ছয় করার পাশাপাশি নির্মাণ শ্রমিকদের পারিশ্রমিক পরিশোধ না করার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শ্রমিক।
স্থানীয় যুবদল নেতা আলফু প্রধান জানান,দীর্ঘ বছর ধরে আওয়ামী লীগ নেতা শাহনেওয়াজ বাচ্চু ও দেলোয়ার হোসেন দিলা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মসজিদের কমিটি দখলে রেখেছেন। অথচ বাচ্চু সাহেবের পুত্র সাজ্জাদ একজন পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যাবসায়ী। বহুবার হেরোইন সহ আটক হয়ে জেল খেটেছে।কিন্তু তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গোপালগঞ্জের ঈমাম সাহেব মসজিদের অনুদানের অর্থ নিজেদের কাজে লাগিয়েছেন। কোন উন্নয়ন মূলক কাজ করেনি।
বিএনপি নেতা রায়হান দ্রুত কমিটি বিলুপ্ত করে মসজিদ পরিচালনার জন্য নতুন কমিটি গঠনের দাবী করে বলেন, একজন চিহ্নিত মাদক ব্যাবসায়ীর বাবা এবং ফ্যাসিবাদের দোসর বাচ্চু কোনভাবেই পবিত্র মসজিদের নেতৃত্বে থাকতে পারে না। তিনি নৈতিক কারণে সভাপতির পদে থাকার অধিকার হারিয়েছেন।

স্থানীয় মুসল্লী ও ফুটবলার নজরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দ্রুতই মসজিদের ঈমাম ও পরিচালনা কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে কমিটি করা দরকার।দীর্ঘ বছর ধরে অনুদানের অর্থ মসজিদের উন্নয়নে সঠিকভাবে ব্যায় না করে নিজেদের পকেটে ঢুকিয়েছেন।তাছাড়া কোন বিতর্কিত ঈমাম ও সামাজিকভাবে নৈতিকতা বিসর্জন দেওয়া ব্যাতিদের অন্তত পবিত্র মসজিদের নেতৃত্ব মেনে নেওয়া উচিৎ না।
এ বিষয় জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি শাহনেওয়াজ বাচ্চু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এলাকার মুসল্লীরা বহুবছর ধরে আমাকে মসজিদের সভাপতি হিসেবে মনোনীত করেছেন।আমি আওয়ামী লীগের সমর্থক মাত্র।তবে কোন অন্যায় করিনি। হয়তো কেউ রাজনৈতিক কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অপপ্রচার করতে পারে।