প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬
জেলা প্রতিনিধি ঃ

ভোরের কুয়াশা কাটতে না কাটতেই জমে ওঠে হাট। তবে এখানে বিক্রি হয় না শাকসবজি বা গরু-ছাগল, বিক্রি হয় মানুষ। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও যশোরের কেশবপুর উপজেলার মূলগ্রাম বাজারে প্রতিদিন ভোরে বসে এমনই এক ‘মানুষ বিক্রির হাট’, যেখানে শ্রমই পণ্য, আর শ্রমিকই বিক্রেতা।
ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলা এই হাট মূলত কৃষি শ্রমিকদের অস্থায়ী কর্মবাজার। স্থানীয়ভাবে এটি ‘কামলার হাট’ নামে পরিচিত। দিনভিত্তিক শ্রম বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন এখানে আসা শত শত মানুষ। কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজেদের শ্রম বিক্রি করেই চলে তাদের সংসার।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাঁচি, দড়ি, বাখ কাঁধে নিয়ে শত শত শ্রমিক জড়ো হয়েছেন হাটে। কেউ ধান কাটবেন, কেউ বেঁধে দেবেন, কেউ বা মাথায় বা বাখে করে ধান পৌঁছে দেবেন কৃষকের বাড়িতে। মৌসুমভিত্তিক এই শ্রমবাজারে এখন চলছে বোরো ধান কাটার ব্যস্ততা।
তবে, এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও আকাশছোঁয়া। একেকজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি উঠেছে ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।
বিষ্ণুপুর গ্রামের শ্রমিক আব্দুল করিম বলেন, আগে ৫০০ টাকায় কাজ করতাম। এখন ধানের মৌসুম, তাই ১৬০০ টাকা চাইছি। না হলে সংসার চালানো কঠিন।
অন্যদিকে কৃষকদের চিত্র ঠিক উল্টো। বাড়তি মজুরির চাপ তাদের মাথায় বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিক কিনতে আসা উপজেলার মূলগ্রামের কৃষক আলাউদ্দীন বলেন, এক বিঘা জমির ধান ক্ষেত থেকে বিচালি বেঁধে আনার জন্য ২০ জন শ্রমিক কিনেছেন জনপ্রতি এক হাজার ৪০০ টাকা দরে। কাজ করবে সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।
ধান চাষি রুহুল আমিন বলেন, এক দিন বা এক সপ্তাহের জন্য এখানে শ্রমিক বিক্রি হয়। এক দিনের জন্য জনপ্রতি এক হাজার ৫০০ টাকা চাচ্ছে। চাষি রুহুল আমিনের ভাষায়, এখানে মানুষ বেচাকেনা হয় একদিনের জন্য, এক সপ্তাহের জন্য। কিন্তু এই দামে শ্রমিক কিনে চাষ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
একই কথা জানান কৃষক মফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ধান বিক্রি করছি মণপ্রতি ১০০০-১১০০ টাকায়, আর শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত। এভাবে চললে আগামীতে চাষ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
স্থানীয় আড়ৎ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন জানান, বাজারে মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১০০০ টাকা এবং চিকন ধান ১০৮০-১১০০ টাকায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বছর কেশবপুরে ১৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ধান কাটা শেষ। মৌসুমে শ্রমিকের চাহিদা বেশি থাকায় মজুরি বেড়েছে।