৩১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার,রাত ১:৩৫

শিরোনাম
অবৈধভাবে মজুত করা ২ লাখ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার সংবিধান মানতে হলে প্রধানমন্ত্রীর দেশের বাইরে থাকার কথা: জামায়াত নেতা শফিকুল বন্দরে পাওনা টাকা চাওয়ায় ভাতিজাকে কুপিয়েছে চাচা,থানায় অভিযোগ ফরিদপুরে বন্ধ ফিলিং স্টেশনে ট্যাংক ভর্তি তেল পাওয়ায় জরিমানা চার বছরের মধ্যে ‘ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করবে সরকার কাগজেই কাজ, পকেটেই টাকা: রেলে ৭৭ কোটির ‘ভুতুড়ে’ বিলের আদ্যোপান্ত গাছ কর্তনে রেলওয়ে যেন ‘ছিনতাইকারী’, অসাধু কর্মকর্তাদের তাণ্ডবে ঝুঁকিতে পরিবেশ গণপূর্ত প্রকৌশলী বদরুলের অবৈধ ক্ষমতার প্রভাবে প্রকৌশলীগন অতিষ্ট ! রাজাপুরে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে জামায়াত নেতা মাস্টার কবির হোসেনকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদ:

সংবিধান মানতে হলে প্রধানমন্ত্রীর দেশের বাইরে থাকার কথা: জামায়াত নেতা শফিকুল

প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ

জাতীয় সংসদে কথা বলছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম

 

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেছেন, সংবিধান যদি মানতে হতো তাহলে প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে থাকার কথা নয়, দেশের বাইরে থাকার কথা। সংবিধান মানতে হলে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এখন দেশের বাইরে থাকার কথা ছিল।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে, কথা বলতে গিয়ে বিগত ১৭ বছরের মতো কোনো একটা বৈষম্যের মধ্যে পড়ে যাচ্ছি কি না? এই সরকার প্রতিষ্ঠার পর শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারে কতটুকু কার্যকরিতা নিয়ে এসেছে, তা জানতে পারিনি।’

গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ প্রশ্নে সরকারি দলের অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমরা সংবিধান নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে… সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারত, তাহলে সেদিন আমাদের বালুর ট্রাক সরানোর জন্য সংবিধানের পৃষ্ঠা খুঁজতে হতো। সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারত, তাহলে ’৭২–এর সংবিধানের আলোকে আজকে আমাদের এখানে থাকার কথা না। আমাদের এই সংসদে নয়, জেলখানায় থাকার কথা।’

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘সংবিধান মানতে হলে যে বাচ্চাদের আজকে এখানে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, দীক্ষা দেওয়া হচ্ছে কিংবা তাদেরকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাসদের সাথে তুলনা করা হচ্ছে, সেই বাচ্চাদের নিয়ে এই সরকার দলের লোকদেরকে, সরকার দলের সম্মানিত নেতৃবৃন্দকে আমরা চোখের পানিও ফেলতে দেখেছি। আবার কাউকে কাউকে এ কথা বলতেও শুনেছি যে এই সমস্ত বাচ্চাদের বা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না।’

বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন করে গণভোটের ন্যায্যতা–অন্যায্যতা, সংবিধান শেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিবকে কয়েক হাজার পুলিশের বেষ্টনীর মাঝখানে একা একটা মোবাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, তখন সংবিধান আমাদের রক্ষা করতে পারেনি।’

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গণভোট নিয়ে আমাদের মাথাব্যথার মূল কারণ হচ্ছে এখানেই, শেখ হাসিনা আমাদেরকে যথার্থ টার্গেটটা করেছিল। সেই টার্গেটের মূল লক্ষ্য ছিলাম আমরা। আমাদেরকে বলা হয়েছিল, একটা গুলি করলে একটা সরে বাকিগুলো সরে না। সেই সরে না লোকগুলো ছিলাম আমরা। যার কারণে আমাদেরকে তারা ভয় পায়।’

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখন বর্তমান সময় ভিডিও দেখতে পাই যে শেখ হাসিনা বাইরে থেকে বলেছিল, আমরা এই দলকে ভোট দিতে বললাম আর সেই দল আমাদের সাথে আবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। শেখ হাসিনার বক্তব্য শোনার পর আমরা কাউকে আজকে এখানে বলতে শুনি নাই, শেখ হাসিনার ওই বক্তব্য সঠিক নয়।’

জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মানুষ প্রতারিত হয়েছে, বেইমানি করা হয়েছে। আবার যদি গণভোট, জুলাই সনদ নিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা করা হয়, তাহলে মূল্য দিতে হবে শুধু নয়, আবার ১৭ বছরের সেই জেল, জুলুম, নিপীড়ন, গুম, খুনের জায়গায় ফিরে যেতে হবে। গণভোটের প্রতি সমর্থন না জানিয়ে জুলাই সনদকে অস্বীকার করা হলে আবার সেই গুম-খুন-আয়নাঘরের দিকে ধাবিত করা হবে।’

সরকারি দলের উদ্দেশে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গণভোটের বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে, আমরা আয়নাঘর সমর্থন করতে চাই। গণভোটের বিরোধিতা করা মানে হচ্ছে, ৭০ শতাংশ মানুষকে আমরা অন্যায়ভাবে তাদেরকে ধিক্কার জানাতে চাই। আমি এখানে স্পষ্ট বলতে চাই, আপনারা যেমন ৫১ শতাংশ সমর্থন নিয়েছেন, ৭০ শতাংশ প্রায় জনগণ কিন্তু গণভোটের পক্ষে তারা রায় দিয়েছে। আপনাদের চেয়ে সেই ৫১ শতাংশের তুলনায় সেই ৭০ শতাংশ প্রায় গণভোটকে যদি আপনারা অস্বীকার করেন, তাহলে বলব, গোটা বাংলাদেশ আবার জেগে উঠে গণভোট তারা কার্যকর করবে।’

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় সরকারি দলের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল বলেন, রমজান ও ঈদ উৎসবের সময় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হয়নি, এটা গত ৫৫ বছরে দেখা যায়নি। এবারই প্রথম তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রেখেছে। বিশ্ব বাজারে তেলের যে পরিস্থিতি, তাতেও সরকার তেলের দাম বাড়ায়নি।

সরকারি দলের আরেক সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে যা হয়েছে, তা ছেলেভোলানো গল্প ছাড়া কিছুই নয়। গ্রাম এলাকায় কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এনসিপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, তাঁরা শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না। কিন্তু নির্বাচনী এলাকায় যেন সংসদ সদস্যদের জন্য বসার ব্যবস্থা (কার্যালয়) করা হয়।

 

 

 

 

 

  • শেয়ার করুন