২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার,রাত ৯:৫১

শিরোনাম
সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার দেড় হাজার বিলাসবহুল পণ্য গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ অপরাধ বদলীজনিত বিদায় সংবর্ধনা আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত! জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ির বাড়িতে দুদকের অভিযান রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৪৬০ ব্যক্তি গ্রেপ্তার, ১২ হাজারের বেশি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার: ডিএমপি গোপালগঞ্জের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে ঝাড়ু দেয়ার কাজ করানো হয় সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদি পূজা উদযাপন ফ্রন্টের উদ্যোগে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জ জেলার কর্মরত (পিবিআই) পরিদর্শক রূপকুমার বিদায় সংবর্ধনা মব সহিংসতায় ৬ মাসে ১৩৫ জনের মৃত্যু: বিসিআরএস-এর মানবাধিকার প্রতিবেদন ঝালকাঠির উন্নয়নে ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

চট্টগ্রামের বন সংরক্ষক মোল্ল্যাকে অবশেষে বদলি

প্রকাশিত: মার্চ ২৪, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি ঃ

চট্টগ্রাম বনাঞ্চলের বন বিভাগে আলোচিত, বিতর্কিত ড. মোল্যা রেজাউল করিমকে নিয়ে দীর্ঘদিনের অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তার বদলি আদেশ জারি করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। উপ-সচিব দিল আফরোজা বেগম স্বাক্ষরিত। এই আদেশের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটলো এক বিতর্কিত চট্টগ্রামের বনাঞ্চলের অধ্যায়ের, যার মূলে ছিল ৫ই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক সুর পাল্টে প্রভাবশালী হয়ে উঠার এক অভিনব কৌশল।

 

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে কোটি টাকার বিনিময়ে জামায়াতের নাম পুঁজি করে নিজেকে জামায়াত পরিচয় দিয়ে তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) হিসেবে আসীন হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই তিনি তথাকথিত ‘মোল্যা বাহিনী’ গঠন করে বন বিভাগে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করার অপচেষ্টা করেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল বদলি বাণিজ্য, জোত পারমিট জালিয়াতি, বনভূমি ধ্বংস ও বিক্রির মাধ্যমে অর্থ লোপাট করা।

 

বাগান সৃজন ও রক্ষণাবেক্ষণের সরকারি তহবিল থেকেও বড় অংকের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। মাত্র একদিনে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা তাকে ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ হিসেবে পরিচিতি দেয় সারা বাংলাদেশে।  এই ব্যাপক অনিয়মের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার কার্যালয়ে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়ে ১৩টি গুরুতর অভিযোগের তদন্ত শুরু করে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করে সাতটি সুনির্দিষ্ট অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পায়। যদিও মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব তদন্ত কমিটি অদৃশ্য শক্তির প্রভাবের কারণে গতিহীন ছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

 

ড. মোল্যার অতীত রাজনৈতিক সুবিধাবাদের চিত্রও বেশ স্পষ্ট, যেখানে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে তৎকালীন উপমন্ত্রী হাবিবুর নাহারকে ‘মা’ সম্বোধন করে তিনি অত্যন্ত লাভজনক বা গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিংগুলো বাগিয়ে নিতেন। সে সময়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন সংরক্ষক থাকাকালীন তিনি আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে অতি-উৎসাহী ভূমিকা পালন করেন। এর অন্যতম প্রমাণ হিসেবে গাজীপুরের ওয়ান ডেনিম মিলস লিমিটেডকে কেন্দ্র করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বনভূমি দখলদার ও অপরাধী সাজিয়ে মামলা দেওয়ার জন্য তৎকালীন ডিএফও কাজল তালুকদারকে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

আওয়ামী সরকারের অপরাজনীতির তল্পিবাহক হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতির ফিরিস্তি এখন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন বিভাগের এক কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমান প্রধান বন সংরক্ষককে শুধু নয় ইতিপূর্বে সব কটা প্রধান বন সংরক্ষককে সে বিভিন্নভাবে অপমানিত করার চেষ্টায় লিপ্ত ছিল। মোল্ল‍্যা রেজাউলের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মাঠ পর্যায় থেকে বহুবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যমসহ অনেক কিছুতেই বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।

 

  • শেয়ার করুন