১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার,সকাল ৯:১৬

সূর্য সেনা ওসমান হাদিরমত আর কেহ যেন ঝরে না যায়, ৫৪ বছরের সন্ত্রাস মুক্ত করুন,প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২০, ২০২৫

  • শেয়ার করুন

হিমু;

যে দলেরই হোক না, যে যত বড়ই সন্ত্রাসী হোক না, কাউকে ছাড় না দিয়ে ধারাবাহিক ক্লিনহার্ট অপারেশন করা শুরু করুন অন্তবর্তী সরকার।গত ৫৪ বছরের সব চেয়ে বড় উপহার হবে দেশের জনগনের জন্য । যা কোন সরকার বিগত ৫৪ বছরে করে নাই আপনারাও তেমনি নামের ক্লিনহার্ট না করে কাজে প্রমান দেখান। সকল সরকারই ক্লিনহার্ট নামে দলীয় বিরুপ বা আক্রোশকে দমন করেছে। তাতে একদলের কিছু  সন্ত্রাসী মরছে আর কিছু গা-ডাকা দিয়ে বাঁচছে। অন্য দলের সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরছে। আবার সরকার যখন পরিবর্তন হয়েছে তখন আবার ঐ দলের সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরছে , চাঁদাবাজি রাহাজানী করছে। এভাবেই গত ৫৪ বছর এই স্বাধীন নামের দেশটি সাধারন জনগনের উপর অদল বদল করে নির্যাতন করে বেশ কিছু লোক অলৌকিক শক্তিশালী হয়েছে। বিত্তব্যাসাধের মালিক হয়েছে। নামের সাথে যুক্ত হয়েছে  মাফিয়া, ডন ও শীর্ষ সন্ত্রসী। যাদের ভয়ে সব সময় সাধারন মানুষ থাকে আতঙ্কে। চাকরি, ব্যবসা, জমি, বাড়ীকরা, সব যায়গায় তাদের মাতুব্বারি। তাদের অনুমোতি ছাড়া চাকরি নাই।  ব্যবসা করা যাবে না, ঠিকাদারি করা যাবে না। নির্বাচন করা যাবে না। সোজা কথা হলো যা কিছু করতে হবে তাতেই  ডন বা ঐ শীর্ষ সন্ত্রাসী বা মাফিয়ার অনুমোতি লাগবে। আর এমপি, মন্ত্রীদের সাথে তাদের ঐ গুন্ডাদের একটি বহর থাকবে। তারা যা বলবে সেই অনুবাদে ঐ থানা বা উপজেলার লোকদের চলতে হবে। কিন্তু দেখেন জনগনও নাগরিক সেও নাগরিক সমান অধিকার থাকার পরও  তাদের কাছে সাধারন জনগন চাকরের মত। এ থেকে একটাই মুক্তি দিতে পারেন আপনারা অন্তবর্তী সরকার সুন্দরভাবে একটা ক্লিনহার্ট করে।

কাজেরমত একটা ক্লিনহার্ট করলে তখন আর কোন সন্ত্রসী  থাকবে না। তখন সাধারন মানুষ নিরাপদে চলতে সাহস পাবে। আর এমপি, মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা আমলারাও  সবাই তখন  জনগনের মত একা চলবে। কারন সন্ত্রাসী না থাকলে এমপি মন্ত্রীদের কাছে কেহ ধর্না দিবে না। তাদের পিছনে দল পাকিয়ে হাটবে না। এমন  একটা সকল জনগনের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুন। ২৪ জুলাইতে আমাদের কোমলমতি  ছাত্র-জনতা ১হাজার ৬০০ শত মানুষের তরতাজা রক্ত ঝরছে। ২ হাজারের উপরে  ছাত্র- জনতা পঙ্গুত্ব বরন করছে। ২৪ হাজারের উপরে আহত হয়েছে।এর পরও সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে। নতুনভাবে স্বাধীন হয়েছে। স্বৈরাচারি সরকারের পতন হয়েছে। বাংলার জনগন অন্তবর্তীকালিন সরকার হিসাবে আপনাদের উপর দায়িত্ব দিয়েছে। মনে করেছে দেশ থেকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি খুন গুম চাঁদাবাজি সব বন্ধ হবে। কিন্তু দেখা গেল আবার আর একজন সূর্য সন্তান ওসমান হাদিকে তার মায়ের কোল থেকে বুলেটের গুলিতে শহীদ করে দুনিয়া থেকে চিরদিনের জন্য আলো নিবে দিলেন ঐসন্ত্রাসীরা। ২০ ডিসেম্বরের ওসমান হাদির জানাজা থেকেও কি বুঝতে পারলেন না কি করতে হবে ?

ওসমান হাদি  সূর্য সেনা , কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের মনি  তার মৃত্যুতে  গভীর বেদনা নিয়েই লেখলাম।অতি দ্রুত আপনারা ক্লিনহার্ট শুরু করুন। মাফিয়া ও ডন এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম মুছে দিন। দেশ ও সমাজ হবে কলুষমুক্ত, পরিবেশ হবে জঞ্জাল মুক্ত। কারন সন্ত্রাসী খুনি,মাফিয়ারা  কোন দিন দেশের বা কোন দলের সুফল বয়ে আনে না।তারা পরগাছা তারা বাড়াটিয়া,তারা সমাজের ও দেশের শত্রু। এদের  ধ্বংস করলে  দেশের জনগন নিরাপদে হাটবে কাজ করবে ,ব্যবসা করবে, নিশ্চিন্তায় হাসিখুশিভাবে চলবে। ঠিক তেমনি রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা জনগনেরমত একা একা চলবে।

এমপি ও মন্ত্রীদের নীতিমালা অনুসারে কাজ হবে ঃ

এমপিদের কাজ থাকবে সংসদে ও মন্ত্রীদের কাজ থাকবে মন্ত্রনালয়ে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা থাকবে তাদের দায়িত্ব নিয়ে।ঘুষ ছাড়া পরীক্ষায় চাকরি হবে । জমির মামলা কোর্ট মিমাংসা করবে ও দখল বুঝিয়ে দিবে।কোন মানুষ কারো পক্ষে দল নিয়ে, রাজনৈতিক নেতা নিয়ে রাজনীতির বাসায় মিটিং করে কোন মিমাংসার পথ খুঁজবে না। এমপি মন্ত্রীর সাথে কোন লোক থাকবে না। সরকারি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিশেষ কাজে সহযোগিতা করবে।এমপি মন্ত্রীর পাশে যদি কোন সন্ত্রাসী না থাকে তবে তারা চাঁদাবাজি, জুলুম, নির্যাতন ,দখল , চাকরির সুপারিশ করবে না। তাদের কাছে সাধারন মানুষের তেমন কোন চাহিদা থাকবে না।তারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, বিদেশের সাথে সু-সম্পর্ক, পররাষ্ট্রনীতি, ব্যবসা-বানিজ্য, বিদেশে কর্মসংস্থান সৃস্টি করা ও দেশের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করবেন। সকল বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকবে। বিচারকগন স্বাধীনভাবে বিচার করবেন। দেশে দেখবেন সারা মাসে ১ হাজার আসামি গ্রেফতার হবে না।যখন এমপি, মন্ত্রীদের সাথে কেহ থাকবে না তখন কোন মহল্লায়, দলে, অফিস আদালতে দলাদলি, কোন রোডে বা বাজারে বা কোন মার্কেটে চাঁদাবাজ থাকবে না। মারামরি , ঘুষ, দুর্নীতি থাকবে না। কাজিই মামলাও হবে না। পুলিশ তার রুলমত ডিউটি করবে,সকল রাস্তায় পুলিশ ডিউটি করবে, অন্যায় দেখলে তারা আগাইয়া যাবে, বিষয় শুনে তাৎক্ষনিক মিমাংসা করে দিবে অথবা আদালতে চালান দিবে । আদালত উভয়ের কথা শুনে হয় জামিন দিবে নচেৎ হাজতে পাঠাবে।এমপি মন্ত্রীর কোন সুপারিশ থাকবে না। শতকরা ৯০ % মামলা কমে যাবে। আমাদের আর এভাবে শত শত অকাল মৃত্যু দেখতে হবে না। দলীয় কোন চামচা থাকবে না। অন্ধ কারো সাপোর্টদারী হবে না। সবাই খোলা আকাশের নিচে  খোলা মনে নিরাপদে হাটবে। মন্ত্রী এমপিরাও  তাদের কি কাজ তা শিখতে পারবে। তারা তাদের বেতন ভাতার উপর নির্ভর করবে। তারা ঘুষ দুর্নীতি দখল না করলে  আমলাদেরও  দুর্নীতি ঘুষ নিতে দিবে না। দেশেরিএমপি মন্ত্রী ভালো হলে আমলারা ভালো হতে বাধ্যে। এভাবে আর উদিত সূর্য সন্তান শরীফ ওসমানেরমত শহীদ হতে হবে না। আজকের জানাজার মাঠ থেকে লাখ মানুষের মনের ভাষা,ইনকিলাব মঞ্চের চাহিদা কি অন্তবর্তী কালিন সরকারকে  বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছে  ? না বুঝাতে পারছে। অন্তবর্তী কালিন সরকারের কি চোখ খুলছে, ঘুম ভাঙ্গছে ? সঠিক জনগনের বার্তা আপনারা বুঝতে চেষ্টা করুন। আপনাদের শাসন পৃথিবীরসব রাষ্ট্রে স্বর্নের অক্ষরে লেখা থাকবে। আপনারা এই একটাই কজ করুন। এট সকল আমজনতার ও দেশের ৯০ % লোকের দাবী। সন্মান, হায়াত, মৌয়াত রিযিক, দৌলাত সব আল্লাহর কাছে। আপনারা সরকারে আছেন এই একটি সঠিক কাজ করে যান। দেখবেন  মানুষ যার যে কর্ম করবে, ওপরের উপর নির্ভরশীল হবে না। দেখবেন রাস্তাঘাটে কোন ছিনতাই রাহাজানী মারামারি, ধ্বর্ষন খুন, গুম কিছুই থাকবে না। বর্তমান সরকার সুধু এই একটাই কাজ করুন, দল বল নির্ভিশেষে গত ১০ বছরের সন্ত্রাসী তালিকা খুজে তাদের সঠিক বিচার করুন। পরিস্কার করে দিন সকল সন্ত্রাসীদের তালিকা ।আপনারা যাওয়ার পর যেন কোন বাংলার বুকে সন্ত্রাসী না থাকে , কোন মায়ের বুক যেন খালি না হয়। কোন মায়ের, কোন সন্তানের, কোন স্ত্রী”র যেন বুকফাটা কান্না না শুনতে হয়। দেশের বিদেশের জনগন আপনাদের সাথে আছে । আজকের ওসমানের শহীদী মৃত্যুর জানাজা থেকে আপনাদের সম্পুর্নটুকু ক্ষমতা জনগন প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছে। আপনারা ক্ষমতা প্রয়োগ করুন।কারো  লাল চোখ ,বার্তা ,হুমকি পরোয়া না করে  বিচক্ষন বুদ্ধি খাটিয়ে দ্রুত  ক্লিনহার্ট শুরু করুন ।

মানবাধিকার সংস্থা অধিকার এর একটি তথ্য ঃ

মানবাধিকার সংস্থা অধিকার ৩০ অক্টোবর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের সহযোগী মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

অধিকার-এর তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩ মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যার ৪০টি ঘটনার মধ্যে ১৯ জনকে গুলি করে, ১৪ জনকে নির্যাতন করে এবং সাতজনকে হেফাজতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। শুধু জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন মাসেই ১১ জন নিহত হন—যার মধ্যে সাতজনকে হত্যা করেছে যৌথ বাহিনী, তিনজনকে পুলিশ ও একজনকে সেনা সদস্যদের হাতে নিহত বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতদের মধ্যে তিনজনকে নির্যাতন করে, ছয়জনকে গুলি করে এবং দুজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এই সময়ে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অন্তত ২৭ জন কারাগারে মারা গেছেন। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩ মাসে কারাগারে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮ জনে।

অধিকার-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩ মাসে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮১ জনে। একই সময়ে অন্তত ৬৮৭ নারী ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন—এর মধ্যে ১৮৮টি ঘটনা ঘটেছে চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে ১৫৩ জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৫টি ঘটনা ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়কালে ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

 

 

  • শেয়ার করুন