প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬
হিমু;
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিগত ১৬ বছরের নির্যাতিত ও ত্যাগী সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে উৎকোচ, উপঢৌকন বা আত্মীয়করণের মাধ্যমে সদস্যপদ দেওয়া হচ্ছে। এই মুহূর্তে প্রেস ক্লাবের একটি অনির্বাচিত কমিটি যেভাবে যাকে-তাকে সদস্যপদ দিয়ে যাচ্ছে, তা সাধারণ সদস্যদের বোধগম্য নয়। গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে এভাবে ঢালাও সদস্যপদ দেওয়া কেবল নিয়মবহির্ভূতই নয়, বরং প্রেস ক্লাবের মূল ধারার সাংবাদিক সদস্যদের সাথে এক ধরনের প্রতারণা ও চরম বিশ্বাসঘাতকতা।
সদস্যপদ প্রদানের এই অনৈতিক বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্লাবের সম্মানিত একজন সদস্য মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশও জারি করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও যারা দলীয় দোহাই দিয়ে, গায়ের জোরে এবং কয়েকজন মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করে প্রেস ক্লাবের অতীতের ঐতিহ্যকে বিলীন করতে একতরফাভাবে অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের কারণে প্রবীণ ও পেশাদার সাংবাদিকদের মাঝে প্রতিনিয়ত নতুন ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।
দুঃখজনক বিষয় হলো, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এবং দলের দোহাই দিয়ে মাঠের ত্যাগী কর্মীদের দূরে সরিয়ে রেখে নিত্যনতুন বিতর্কিতদের সদস্যপদ দেওয়া হচ্ছে। এতে অতীতে দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণার জন্ম নিচ্ছে এবং তারা দল থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে, প্রেস ক্লাবকে আওয়ামী লীগ যেভাবে নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিতে দীর্ঘ ৬১ বছর সময় নিয়েছিল, ঠিক তেমনি বিএনপি দলটির জন্যও ক্লাব পুনরোদ্ধার করা সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, বর্তমান সিন্ডিকেটের আচরণে বিএনপির প্রতি মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সমর্থন ও সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।
পাশাপাশি, প্রেস ক্লাবে প্রবীণ, পেশাদার, জ্ঞানী ও সৎ সাংবাদিকদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিভিন্ন অজুহাতে অনেক সৎ সাংবাদিককে ক্লাব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, আবার অন্যদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নানা দায়িত্ব দিয়ে মাঠ থেকে সরিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এর ফলে প্রেস ক্লাবের মাঠ এখন পুরোপুরি ফাঁকা। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে—’মেসি এবার খালি মাঠে গোল দেবেন, তা ঠেকাবার মতো আর কেউ মাঠে নেই।’