প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদক ঃ
খাগড়াছড়ি বন বিভাগের মানিকছড়ি রেঞ্জে কর্মরত ডেপুটি রেঞ্জার আব্দুল হামিদের সীমাহীন দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বনজ সম্পদ পাচার অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে খাগড়াছড়ি বন বিভাগে কর্মরত আব্দুল হামিদ ডেপুটি রেঞ্জার এর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো, তিনি নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে সরকারি পদকে ব্যক্তিগত সম্পদ আহরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায় খাগড়াছড়ি বন বিভাগের ডিএফও মো: ফরিদ মিয়াকে ৩০ লক্ষ টাকা উৎকোচ দিয়ে তিনি মানিকছড়ি রেঞ্জে এবং গুরুত্বপূর্ণ ‘গাড়ীটানা বিট কাম চেক স্টেশনে’ অতিরিক্ত দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়েছেন। মানিকছড়িতে যোগদানের পর তিনি পুরাতন কাঠ ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন, যারা বনের গাছ পাচারে সরাসরি যুক্ত।
আব্দুল হামিদের দুর্নীতির কৌশলগুলো অত্যন্ত সুপরিকল্পিত মানিকছড়ি রেঞ্জ থকে যে পরিমাণ কাঠের টিপি ইস্যু করা হয়, বাস্তবে ট্রাকে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বা বড় আকারের গাছ পাচার করা হয়। এটি মূলত সংরক্ষিত বনের বড় গাছ পাচারের একটি ‘বৈধ’ আড়াল। টেবিল জোত পারমিট ইস্যু করতে প্রতি ঘনফুট কাঠে ১০০-১২০ টাকা এবং প্রতি ট্রাক লোডিংয়ে ১০-১৫ হাজার টাকা অবৈধ কমিশন আদায় করছেন তিনি। ঢাকায় তার একটি বিশাল ফার্নিচার ব্যবসা রয়েছে, যার কাঁচামাল মূলত পাচারকৃত মূল্যবান কাঠ।
১৬ বছর ধরে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থান করে তিনি যে সম্পদ গড়েছেন, তা তার বৈধ আয়ের সাথে সম্পূর্ণ অসংগতিপূর্ণ বালুচর এলাকায় একাধিক আবাসিক ভবন (মাসিক ভাড়া প্রায় ২ লক্ষ টাকা), ঢাকায় ২টি ফ্ল্যাট এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও লামায় প্রায় ২০০ একর জমি ও সেগুন বাগান। কক্সবাজারের ঝিলংজা এলাকায় আবাসিক হোটেলের অংশীদারিত্ব এবং বান্দরবানে ‘মিরিঞ্জা ৯৭ ইকো রিসোর্ট’ সহ একাধিক রিসোর্টের মালিকানা।
পরিবেশবাদী সংস্থাগুলোর মতে, আব্দুল হামিদের মতো কর্মকর্তাদের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। খাগড়াছড়ির সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে যেভাবে বড় গাছ পাচার হচ্ছে, তাতে অচিরেই এই অঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হবে। তারা অবিলম্বে আব্দুল হামিদের সকল ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। টিআইবি-র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বন বিভাগে বদলি ও পোস্টিং নিয়ে যে বিশাল অঙ্কের লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে (যেমন ৩০ লক্ষ টাকা), তা প্রশাসনের চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত দেয়। যদি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘুষ নিয়ে পোস্টিং দেন, তবে নিম্নস্তরের কর্মকর্তারা সেই টাকা তুলতে বনের সম্পদ বিক্রি করবেন এটাই স্বাভাবিক।
টিআইবি-র দাবি, শুধু আব্দুল হামিদ নয়, এর পেছনে থাকা উর্ধ্বতন ‘গডফাদার’দেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব যার কাঁধে, তিনিই যদি ধ্বংসের নায়ক হন, তবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা অসম্ভব। আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি এবং দুদক কর্তৃক পৃথক অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা জরুরি। বনজ সম্পদ রক্ষায় তাকে দ্রুত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করাই এখন সময়ের দাবি।