১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার,সকাল ৯:১৬

নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুলের কোটি টাকার টেন্ডার বাণিজ্য

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি ঃ

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ১৭ নভেম্বর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে মো. রাকিবুল হাসান নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পাওয়ার পরই গণপূর্ত অধিদপ্তরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোড়ন। অভিযোগ উঠেছে, গত ১১ বছর ধরে সরকারি চাকরি করে তিনি সমান্তরালে গড়ে তুলেছেন অঘোষিত ঠিকাদারি সাম্রাজ্য, যেখান থেকে বয়ে গেছে কোটি কোটি টাকার কমিশন, ভুয়া ভেরিয়েশন, নিম্নমানের কাজের ছাড়পত্র এবং টেন্ডার সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী কারসাজি।

গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তা ও ঠিকাদার সরাসরি দাবি করছেন, দিনে সরকারি প্রকৌশলী হলেও রাতে তিনি কার্যত ঠিকাদার। তার এলাকায় কোনো প্রকল্পে কাজ করতে হলে বাধ্যতামূলক কমিশন দিতে হতো। কমিশন না দিলে ফাইল মাসের পর মাস আটকে থাকত। তেজগাঁও গণপূর্ত উপবিভাগে অবস্থানকালে বাইরের ঠিকাদাররা নাকি কোনো সুযোগই পাননি; বরং তার নিয়ন্ত্রিত চক্র নিজেরাই কাজ ভাগ করে নিত।

তেজগাঁও-মুগদা-মহাখালী এলাকায় কাজ করা ঠিকাদার একজন ঠিকাদার বলেন, “টেন্ডার ওঠার আগেই আমরা বুঝতে পারতাম কাজটা কার জন্য উঠছে। কমিশন না দিলে রাকিবুল সাহেব ফাইলই নড়াতেন না। একবার সরাসরি আমাকে বলেছেন, কমিশন ছাড়া কোনো কাজ পাস হবে না।” আরেক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “তার এলাকায় কাজ মানে তার নির্দেশেই সবকিছু। যেখানে তার স্বার্থ, সেখানে তিনিই প্রকৃত ঠিকাদার।”

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ, ভুয়া ভেরিয়েশনের মাধ্যমে কোটি টাকা লেনদেন। “দেশ উন্নয়ন” নামের প্রতিষ্ঠানের একটি বিল পাস করাতে রাকিবুল নাকি ২০ কোটি টাকার ভুয়া ভেরিয়েশন বানিয়ে ২ কোটি টাকা কমিশন নিয়েছেন। একইভাবে তেজগাঁও বিসিক ভবনের ত্রুটিপূর্ণ বেজমেন্টও নাকি মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে পাস করিয়ে দেওয়া হয়। এক কর্মকর্তা জানান, “৫% কমিশন দিলেই নিম্নমানের কাজও সহজে ছাড়পত্র পেত।”

অভিযোগ আছে, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় বিভিন্ন প্রকল্প থেকে রাকিবুল শত কোটি টাকার সম্পদ তৈরি করেছেন। ঢাকায় দামি ফ্ল্যাট, কুমিল্লায় ১০ কাঠা জমি, গাজীপুরে ৩০ একর জমিতে রিসোর্ট নির্মাণ এবং সিঙ্গাপুরে হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পাচারের কথাও বিভিন্ন তদন্তসূত্রে উঠে এসেছে। গণপূর্তের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “রাকিবুলকে অসন্তুষ্ট করলে কোনো প্রকল্প এগোয় না। একাধিক নির্বাহী প্রকৌশলী তাকে কেন্দ্র করেই লেনদেন করে।”

১০ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঠিকাদাররা মানববন্ধন করে তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সব অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা বলেন, “১১ বছর ধরে সরকারি চাকরি করে রাকিবুল ঠিকাদারি করে যাচ্ছেন। কমিশন না দিলে ফাইল উঠত না। কমিশন দিলে নিম্নমানের কাজও পাস করে দিতেন। তিনি গণপূর্তের কালো সিন্ডিকেটের কেন্দ্রবিন্দু।”

তার বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি আরিফ নামক আরেকজনকে দিয়ে কল করান নিউজ রিমুভ করতে বলান। অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পদোন্নতির পরদিনও তিনি অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান এ বিষয়ে সংক্ষেপে বলেন, “অভিযোগগুলো গুরুতর। আমরা খতিয়ে দেখছি। অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।”

 

 

 

  • শেয়ার করুন