১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার,রাত ১:৪১

ফাঁড়িতে বসে জুয়া খেলার, পুলিশ কর্মকর্তাদের ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ঃ

গাইবান্ধা জেলা সদরের ডেভিড কোম্পানীপাড়ার শহর পুলিশ ফাঁড়ির ভিতরে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা সদস্যের জুয়া খেলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।   ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে জেলা পুলিশ লাইন প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনাটি তদন্তে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দীন দুজন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যাহার হওয়া দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন, শহর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এস আই) বুলবুল ইসলাম ও উপ-পরিদর্শক (এস আই) আখতার হোসেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ২মিনিট ২৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি লম্বা টেবিল। টেবিল ঘেঁষে চারদিকে চেয়ার সাজানো। চেয়ারে পাঁচ থেকে ছয়জন বসে আছেন। পাশে পুলিশের পোশাকে একজন দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ টি শার্ট, কেউ গেঞ্জি, কেউ পুলিশের পোশাক পড়ে আছেন। একজনের মাথার ওপরের দিকে কালো চশমা। প্রত্যেকের সামনে টেবিলে একটি করে মানিব্যাগ। টেবিলের চারপাশে বসে টেবিলের ওপরে তাস ও টাকা। চেয়ারে বসে টেবিল থেকে তাস নিচ্ছে। মুখে ১৭, ১৮, ২০ শোনা যাচ্ছে। একটু পর পর মানিব্যাগ থেকে কেউ টাকা বের করে টেবিলের ওপর রাখছেন। কেউ তাস হাতে নিচ্ছেন।  টেবিলের ওপর ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৫০০ টাকা ও  ১ হাজার টাকার অনেক নোট ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

জুয়া খেলার বিষয়ে শনিবার দুপুরে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দীন মুঠোফোনে বলেন, ফাঁড়িতে কয়েকজন টাকা দিয়ে তাস খেলছিলেন। এটা অপরাধ। তিনি আরও বলেন, ভিডিওতে আমরা যাদেরকে চিনতে পেরেছি, তাদেরকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাটি তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, জুয়াসহ নানা অপরাধ দমন করা পুলিশের দায়িত্ব। কিন্তু আইনের রক্ষক যদি নিজেরাই আইন ভঙ্গ করলে তা আরও গুরুতর অপরাধ। এতে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এবং মানুষের আস্থা কমে যায়।

  • শেয়ার করুন