প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬
বিশেষ প্রতিনিধি ঃ

নরসিংদীর বিআরএস জরিপ কাজে ঘুষ আর অনৈতিক ক্ষমতার প্রভাবে মালিকদের জমির নিজ স্বত্বের ভৌগলিক সীমানা সমাধানের প্রক্রিয়াটায় প্রতারনায় শত শত লোক দিশেহারা হয়ে পরেছে। কারন জরিপটা হয়েছে আওয়ামীলীগের সরকারের সময়। যার ফলে যে মোটা অঙ্কের ঘুষ ও লীগের ক্ষমতা দেখাতে পেরেছে তার জমির দাগ সিমানা ঠিক রয়েছে। আর যারা ঘুষ দিতে পারে নাই তাদের জমির দাগ সিমানা এলামেলো করে অন্যের নামে দিয়ে গেছে। জরিপ কারকগন আওয়ামীলীগের বাড়ীতে বসে জরিপের কাজ অনেকটাই সমাধান করেছে। তখন যার জমি তার সাথে কথা না বলে নেতার কথা শুনে অনেকের জমিতে ভুল দাগ ইস্যু করে গেছে। তখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে অনেক জমির মালিকগন এলাকায়ই বসবাস করতো না। যার ফলে জরিপ কারকের সাথে কিভাবে দেখা করবে বা তাদের ঘুষের চাহিদা পুরন করবে। জরিপ কারকদের সাথে দেখা বা ঘুষ না দেয়ায় লীগের নেতাদের মনমতন ভুল দাগ দিয়ে জরিপ কাজ সমাধান করে গেছে । যাহা নিয়ে এখন এলাকাবাসির মাঝে দন্ধ বিবাদ ,মামলা মকদ্দমা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বি আর এস (BRS – Bangladesh Revisional Survey) বা বাংলাদেশ জরিপের মূল নীতিমালা ছিল আর.এস (RS) জরিপের সঠিকতা দেখা এবং ভূল ত্রুটি সংশোধন করে সরেজমিনে ভূমি মালিক ও দখল যাচাইয়ের মাধ্যমে হালনাগাদ খতিয়ান ও নকশা প্রস্তুত করা। ১৯৫০ সালের জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ী, ডিজিটাল প্রযুক্তি (GPS, GIS) ব্যবহার করে ১৯৯৮-৯৯ সাল থেকে এটি পরিচালিত হচ্ছে। পরিচালিত হয়ে থাকলেও সফলতা কিংবা আলোর মুখ দেখেছে অনৈতিক কার্যকলাপ টাকার বিনিময়ে এক জনের জমি অন্য জনের নামে হয়রানিভূক্ত করে বসিয়ে দেয়া।
যারা জরিপের সময় যায়নি ভেবেছিল আর এস ঠিক আছে দখল ঠিক আছে দলিল ঠিক আছে বিআর এস ও ঠিক থাকবে, কিন্তু তা হয়নি হয়েছে জরিপের লোকজনের ইচ্ছে মতোন সবকিছু। যারা জমির ওয়ারিশ নিয়ে গেছে বর্তমানে ওয়ারিশ নেই কিংবা জমির মালিকানার সাথে সম্পৃক্ত নাই এইরকম লোকদের নাম ডুকিয়ে দিয়ে গেছে। এই নিয়ে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি, ক্রয় করা সম্পত্তি নিয়ে মামলা মোকদ্দমা হয়রানি হচ্ছে প্রকৃত মালিকগ।
উদাহরণস্বরূপ নরসিংদী জেলার মৌজা ঘোড়াশাল, পাইকসা অন্যান্য মৌজাসহ আর এস এবং এস কাজ করে গেছে। যেমনটি রহিম মিয়ার জায়গাই করিম মিয়ার নাম বসিয়ে দিয়ে গেছে। অনেকে অসুস্থ ছিল, অনেকে বিদেশ ছিল,অনেকে কর্মস্থলে ছিল, দেশ গ্রামে ছিলনা, কিংবা তেমন গুরুত্ব বুঝেনি এবং বুঝতে পারেনি, অনেকে কাগজপত্র আছে ভেবেছে আমার জায়গা আবার কে নিবে ; আবার হয়তোবা হয়রানিমূলক আচরনে বুঝাতে অক্ষম হয়েছে একবার গিয়ে আর যায়নি। রাজনৈতিকভাবে সমস্যার কারণেও অনেকের অভিভাবক বাড়িতে বসবাস করতে পারেনি। তাই নির্দিষ্ট সময় যেতে পারেনি। দাবী উঠেছে জরিপ দলের ব্যবহারও ছিল খুবই খারাপ।
বিভিন্ন জটিলতায় এই জরিপ প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। নরসিংদীতে বিআরএস জরিপে যেখানে গেজেটে নাম ভূল এসেছে তা পূনরায় কাগজপত্র যাচাই-বাচাই করে সহজ সরল পদ্ধতি অবলম্বন করে সঠিকতা দেখার পূনঃবিবেচনা জানান ভূক্তভোগী জমির শতশত মালিকগণ হয়রানির স্বীকার হচ্ছে।
এই নিয়ে জজ কোর্ট নরসিংদীর সিনিয়র একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলে জানতে চাইলে , দলিল ঠিক আছে, আর এস ঠিক আছে, ঐ দলিলের দাগের ওয়ারিশ যারা তারা জায়গার হিসেব বুঝে নিয়েছে। আর এস নামজারী দলিলের পক্ষের ব্যক্তিদের নামে হয়েছে। জায়গা কোন হাত বদল হয়নি। সেক্ষেত্রে বিআর এস জরিপ দল ভূল তথ্য রেখে গেছে এই ভূক্তভোগীর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া যায়? তিনি জানান প্রথমত রেকর্ড সংশোধনের মামলা জরিপ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত করতে হবে। দ্বিতীয়ত ঔই সময় জরিপ দলের সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে তথ্যের প্রতারনার মামলা দেয়া যেতে পারে।