প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫
বিশেষ প্রতিবেদক ঃ
বনের জমি জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ডভুক্ত থাকলেও এখন থেকে আর ইজারা দেওয়া যাবে না। এসব জমির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকবে বন বিভাগের হাতে। একই সঙ্গে সরকারি ও গণপরিসরে গাছ কাটার ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বন বিভাগের অনুমতি। এ-সংক্রান্ত বিধান রাখা হয়েছে বৃক্ষ ও বন সংরক্ষণ অধ্যাদেশ-২০২৫-এ। ডিসেম্বরের শুরুতে উপদেষ্টা পরিষদে অধ্যাদেশটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে এটি জারি হবে। উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের পর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এই অধ্যাদেশকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, রক্ষিত বন ও অর্জিত বন জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ডভুক্ত থাকবে। এসব বনের ব্যবস্থাপনায় থাকবে বন বিভাগ। এসব বনভূমি ইজারা দেওয়া যাবে না। গাছ থাকুক বা না থাকুক, এসব জায়গা বনভূমি হিসেবেই চিহ্নিত হবে। বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ৬৩ লাখ ৬৩ হাজার একর। এর মধ্যে রক্ষিত বনভূমি ৯১ হাজার একর এবং অর্জিত বনভূমি ২৮ হাজার একর। এই দুই ধরনের জমি জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ড করা থাকে এবং সরকারি ১ নম্বর খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এতদিন জেলা প্রশাসকরা বন বিভাগের সঙ্গে কোনো সমন্বয় ছাড়াই বনভূমি ইজারা দিয়ে আসছিলেন। ইজারার তথ্য বন বিভাগকে জানানো হতো না। এ বিষয়ে বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘বনভূমির রেকর্ড ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার মুখে ছিলাম। এই অধ্যাদেশ বন সংরক্ষণে একটি শক্ত সুরক্ষা তৈরি করবে।’ এটি কার্যকর হওয়ার পর বন অধিদপ্তর এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর দ্রুত যৌথভাবে বনের সীমানা চিহ্নিত এবং খতিয়ান হালনাগাদ করবে। বনভূমির পাশে কোনো খাসজমি থাকলে তা ইজারা দেওয়ার আগে বন বিভাগকে জানিয়ে যৌথ জরিপের মাধ্যমে খাসজমি ও বনভূমির সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। অধ্যাদেশে বনায়ন ছাড়া অন্য কোনো কাজে বনভূমি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অধ্যাদেশ জারির তিন মাসের মধ্যে কোন গাছ কাটা যাবে এবং কোনটা যাবে না– সে তালিকা প্রকাশ করবে সরকার। যে প্রজাতির গাছ কাটার অনুমতি থাকবে, সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফর্মে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে হবে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এখন থেকে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। যে পরিমাণ গাছ কাটা হবে, তার সমপরিমাণ রোপণের শর্ত নিশ্চিত করতে হবে।