১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার,রাত ৮:২২

শিরোনাম
আইড্যাব ফুটসাল ফেস্ট ২০২৬-এর ট্রফি উন্মোচন সোনারগাঁয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যানটিনে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ ১২ স্ত্রী নিজেও সামর্থ্যবান হলে আলাদা কোরবানি কি ওয়াজিব? সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর সুন্দরবনে বনদস্যুদের সাথে বনকর্মীদের গুলি বিনিময়, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অপহৃত ৪ জেলে উদ্ধার বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করলে পুলিশে দিন: এমপি এনাম জাতীয় পেনশন স্কিমে ৩২ মাসে যুক্ত হয়েছে ৩.৭৭ লাখ মানুষ, জমা ২৫৫ কোটি জনগণের চাহিদায় সংবিধান সংস্কার হওয়া উচিত: ঢাবি উপাচার্য বিআরটিএ’র নম্বর প্লেট ব্যবহার না করলে ব্যবস্থা: ডিএমপি

বন্দর উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) অফিস অনিয়ম দুর্নীতির আখড়া

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৫

  • শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেক

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমির রেকর্ড হালকরণ, নামজারি (মিউটেশন), খাস জমি ব্যবস্থাপনা, এবং অর্পিত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা। এছাড়াও, এটি সার্টিফিকেট কার্যক্রম (রেন্ট সার্টিফিকেট), হাট-বাজারের চান্দিনাভিটি বন্দোবস্ত ও লাইসেন্স নবায়ন এবং ভূমিহীনদের মধ্যে কৃষি খাস জমি বন্টনসহ সকল ধরনের ভূমি বিষয়ক কার্যক্রমে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে।

  সহকারী কমিশনার ( ভূমি)   রহিমা আক্তার ইতি

স্থানীয়দের অভিযোগ  সহকারী কমিশনার  ( ভূমি)  রহিমা আক্তার ইতির সহযোগিতায়ই  সার্ভেয়ার মিরাজ ও ওমেদাররা একটি দালাল চক্র গড়ে তুলেছেন। যাদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, এর পুর্বেও ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সার্ভেয়ার মামুন কেএখান থেকে গোপালগঞ্জে বদলী করা হয়। এরপর যোগদান করেন সার্ভেয়ার কাম কানুনগো মিরাজ।যোগদানের পর থেকে অফিস প্রধানের আশ্রয় প্রশ্রয়ে শুরু করেন বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য।তার সিন্ডিকেটে রয়েছে ওমেদার আকাশ সহ বেশ ক’জন চিহ্নিত দালাল।মিরাজের অনুমোদন ছাড়া অফিসে কোনো ফাইল  স্বাক্ষরিতহয় না। প্রকাশ্যে ঘুষ নিয়ে সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তির নামে নামজারি ,কৃষি জমিতে বালু ভরাট সহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু মালিকদের বৈধ দলিলপত্র থাকা সত্বেও নাম জারি বা খাজনা আদায়ে ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না,বরং মাসের পর মাস নানা অজুহাতে সাধারন মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে।

জানা যায়, বিসিএস (প্রশাসন) ৩৮ ব্যাচের অফিসার রহিমা আক্তার ইতি ২০২৪ সালের     জুলাই   বন্দর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন।

১৬ জুলাই  ছাত্র জনতার গনআন্দোলন শুরু হওয়ার ৮ দিন আগে বন্দর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন বলেই তাকে এই বন্দর উপজেলা ভুমি অফিসে বদলী করা হয়। জুলাই বিপ্লবে ছাত্র জনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নানাবিধ তৎপরতা চালান।গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হলেও রহস্যজনক কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে বহাল তবিয়তে রয়েছেন ভুমি (সহকারী কমিশনার ) রহিমা আক্তার ইতি।তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম অসঙ্গতি ও দুর্নীতি সহ সরকার বিরোধী অপতৎপরতার গুরুতর অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়  সহকারী কমিশনার  ( ভূমি )এর ছত্রছায়ায় সার্ভেয়ার মিরাজ পরিচালিত দালাল চক্রের প্রভাবে উপজেলা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তাও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, অধিক অর্থের বিনিময়ে ক্রয়োত্তর অনুমতি না পাওয়া জমিরও নামজারি রিপোর্ট করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সরকারি ছুটির দিনেও ঘুষের বিনিময়ে বালু ভরাটের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্র  নিশ্চিত করেছে।

কুড়িপাড়ার ইমাম হোসেন অভিযোগ করে জানান, তিনি নিজের জমির খাজনা দিতে গিয়ে তিন দিন ঘুরেও সেবা পাননি, কারণ তিনি ঘুষ দিতে রাজি হননি। এই বিষয়টি তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককেও অবহিত করেছেন।

আইপিডিসি ফাইন্যান্স ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সুরাইয়া আক্তার বলেন,আমি গত রবিবার দুপুরে এক ক্লাইন্ডের লোন সংক্রান্ত বিষয়ে কাগজপত্র যাচাই করতে গেলে সার্ভেয়ার মিরাজ ৩ ঘন্টা বসিয়ে রেখে এসি ল্যান্ডের কাছে নিয়ে যায়, তিনি কাগজপত্র না দেখেই ওই গ্রাহকের বিষয়ে নানা বিষোদগার করেন।এমনকি চরম আপত্তিকর কিছু মন্তব্য করেন। যা খুবই দু:খজনক।

আইনজীবী আকবর হোসেন অভিযোগ করেন,মিস কেস ফাইল নিয়ে অনেক গড়িমসি করা হয়। এমনকি উভয় পক্ষকে না ডেকে কিংবা কোনো প্রকার শুনানি ছাড়াই কেবল মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে অনেক মিস কেসের নিস্পত্তি করার পাশাপাশি একতরফা রায় করিয়ে দেওয়ার চুক্তি করে মোটা অংকের লেনদেন করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহিমা আক্তার ইতি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার অফিসে কোনো ঘুষ নেওয়া হয় না।সম্পুর্ন সচ্ছতা নিশ্চিত করে সরকারি নিয়ম নীতি মেনে কাজ করা হয়।যেকোন ভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখার অনুরোধ করেন তিনি।

অভিযোগের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান  বলেন, এ বিষয়ে তার জানা নেই। তবে এরকম কোন অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে দায়ীদের ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। যেকোন অনিয়ম অসঙ্গতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার।

 

 

  • শেয়ার করুন