২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার,রাত ১০:০১

পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ বহু সরকারি চাকুরিজীবি প্রতারকদের ফাঁদে

প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০২৫

  • শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি ঃ

 

 

যুবকের প্রতারণার ফাঁদে ফেঁসে গেছেন পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাসহ বহু সরকারি চাকুরিজীবি। প্রতারকের নাম মোতাল্লেছ হোসেন।  সে কখনো নিজেকে বড় গার্মেন্ট ব্যবসায়ী, কখনো বড় রাজনৈতিক দলের লিয়াজোঁ  অফিসার পরিচয়  দিতেন। তার প্রতারণার শিকার হয়ে অনেক বুদ্ধিমান বোকা হয়ে বনে গেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও মুখ খুলতে পারছেন না, সম্মান হানির ভয়ে। প্রতারণা করেই মোতাল্লেছ সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সুকৌশলে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ২৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ ) এর অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর  তথ্য পাওয়া গেছে।

মোতাল্লেছ হোসেনের প্রতারণার ফাঁদে পরে পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ধরাশায়ী হয়েছেন। যদিও তিনি চাকরি রক্ষার স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রতারক মোতাল্লেছ হোসেনের ব্যাংক হিসাবে নমিনি হিসাবে স্বাক্ষর করে একরকম ফেঁসে গেছেন। বিএফআইইউ অবশ্য তাকে বেশ সন্দেহের চোখে দেখছে। যে কারণে বিএফআইইউর এসংক্রান্ত পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোতাল্লেছ ও তার ভাই সম্মিলিতভাবে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলে চাঁদাবাজি ও প্রতারণা করেছেন। এভাবে অর্থ উপার্জন করে অবৈধ অর্থ জায়েজ করতে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এক্ষেত্রে তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ব্যবহার করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়। প্রকৃতপক্ষে মোতাল্লেছের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের একটি অংশের সুবিধাভোগী হতে পারেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

বিএফআইইউর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মোতাল্লেছ গত বছরের ৫ নভেম্বর সিটি ব্যাংকের গুলশান শাখায় একটি ব্যাংক হিসাব খোলেন। হিসাবটিতে ৩ মাসে ৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা জমা হয়। এই অ্যাকাউন্ট থেকে ১২ লাখ টাকা এফডিআর করা হয়। পাশাপাশি প্রিমিয়ার ব্যাংকের যশোর শাখায় মানহা জেম ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে ৩ কোটি ২৫ লাখ, এমএল ট্রেডিংয়ের নামে পল্লবীর শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে আড়াই কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এমএল ট্রেডিং ও মানহা জেম ইন্টারন্যাশনালে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এত বিপুল লেনদেন করলেও আয়কর নথিতে কিছুই দেখাননি। সর্বশেষ ২০২৩ ও ২০২৪ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে মোট আয় সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং নিট সম্পদ ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেখিয়েছেন ।

 

  • শেয়ার করুন