২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার,রাত ৪:৫৬

শিরোনাম
ভারতে তাণ্ডব চালিয়ে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’,সতর্কতা জারি জাবির ভর্তি পরীক্ষা ১০ জানুয়ারি, থাকছে না বিভাগীয় কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দক্ষ জনশক্তি গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে: রাষ্ট্রপতি হাত ধোয়া ও স্বাস্থ্যবিধিতেই সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে: মীর শাহে আলম প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪ সমঝোতা স্মারক, ২ অনুদান চুক্তি ও অভিপ্রায়পত্র সই বন্দরে নানা আয়োজনে বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস পালিত খালেদা জিয়ার নামে সিলেটে পার্ক হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ঘুসের হাট বসানো সেই সানজিদা ও সুরাইয়া প্রত্যাহার, চালক বরখাস্ত ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের জেরে আইজিপির অপসারণ চাইল এনসিপি

শত কোটি টাকার মালিক অবসরপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার নুরুল আমিন

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৮, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি :
সরকারি চাকরি করেছেন ১৫ বছর। ২০০৯ সালে সাবরেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদান, ২০২৪ সালে অবসর। অথচ অভিযোগ উঠেছে, চাকরিজীবনে নিজের ও স্বজনদের নামে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদের সাম্রাজ্য। টাঙ্গাইলে বহুতল বাড়ি, একাধিক ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক দোকান, ঢাকার পূর্বাচলে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের প্লট। সব মিলিয়ে সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
নাম খন্দকার নুরুল আমিন। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সাবরেজিস্ট্রার। তার সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় স্ত্রীর নামে রয়েছে পাঁচতলা বাড়ি। জমির আনুমানিক মূল্য দুই কোটি টাকা, আর ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। একই এলাকায় পাঁচ শতাংশ জমির মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। পুরোনো বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি ভবনে রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট। এর একটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে ‘স্বপ্ন’ সুপারশপকে। ভিক্টোরিয়া রোডের দত্ত টাওয়ারে রয়েছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা মূল্যের দোকান। বাসাইলের বিয়ালা গ্রামে রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাড়ি।
এখানেই শেষ নয়। রাজধানীর পূর্বাচলে প্রায় সাত কোটি টাকার প্লট এবং মিরপুরের শাহ আলী মার্কেটে দোকান ও অফিস থাকার তথ্য সামনে এসেছে। বড় ভাই, বোন, ভাগনে, শাশুড়ি ও শ্যালকদের নামেও জমি ও সম্পদ কেনার অভিযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো, ঢাকার মিরপুরে সাবরেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি মাসে  প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ আয় করতেন। তার একটি সিন্ডিকেট ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এগুলো অভিযোগ, তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার আগে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এখন দুদক তার সম্পদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করছে। জমির দলিল, ভবন নির্মাণের ব্যয়, ব্যাংক হিসাব, আয়কর রিটার্ন এবং চাকরিজীবনের আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলিয়ে দেখার মাধ্যমেই বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত চিত্র।
এখানে প্রশ্ন শুধু একজন সাবরেজিস্ট্রারের সম্পদ নিয়ে নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারি চাকরিতে থেকে কেউ যদি নিজের বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের মালিক হন, তাহলে সেই সম্পদের উৎস খুঁজে বের করার দায়িত্ব কার ?
একজন সরকারি কর্মকর্তা কত টাকা বেতন পেয়েছেন, কত টাকা বৈধভাবে সঞ্চয় করেছেন এবং কীভাবে সম্পদ কিনেছেন, তার হিসাব থাকা উচিত। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারি পদে থেকে সম্পদ গড়ার সুযোগ যেন কারও জন্য আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ না হয়। সকল সরকারি কর্মকর্তার জন্য যেন সমান আইনত বিচার কার্যকর করা হয়। বড় আমলারা যেন ফাঁকফোাঁকর দিয়ে  বাহির হয়ে না যেতে পারে। সে দিকে সরকারে  সুদৃষ্টি  রাখার জন্য সুশিল সমাজের  দাবী ।

 

  • শেয়ার করুন