প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২৬
প্রকাশিত:
মারজিনা আক্তার :
সিক্রেট আইনটি হলো: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ এবং CrPC এর ৫৬১এ ধারা*
১. সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ – হাইকোর্টের ব্রহ্মাস্ত্র:-
এটাই হাইকোর্ট বিভাগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা। এই এক অনুচ্ছেদে হাইকোর্ট ৫ ধরনের রিট জারি করতে পারে:–
সরকার যদি আপনাকে অবৈধভাবে আটক করে, হাইকোর্ট বলবে – “তাকে আমার সামনে হাজির করো” (Habeas Corpus)
কোনো সরকারি অফিসার যদি তার কাজ না করে, হাইকোর্ট বলবে – “তোমাকে কাজটি করতেই হবে” (Mandamus)
নিম্ন আদালত যদি ক্ষমতার বাইরে গিয়ে রায় দেয়, হাইকোর্ট সেই রায়ের ফাইল তলব করে আনবে এবং বাতিল করবে (Certiorari)
২. সবচেয়ে বড় সিক্রেট – 561A ধারার Inherent Power (সহজাত ক্ষমতা):-
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১এ ধারা অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগের এমন কিছু ক্ষমতা আছে যা কোনো আইনে লেখা নেই, কিন্তু ন্যায়বিচারের স্বার্থে সে ব্যবহার করতে পারে !
ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধে হাইকোর্ট বিভাগ যে কোনো আদেশ দিতে পারে।”
এর মানে হলো, কোনো মামলা যদি মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক হয়, তাহলে হাইকোর্ট চাইলে পুরো মামলার কার্যক্রম (Proceeding) এক আদেশে বাতিল (Quash) করে দিতে পারে। এটাই হলো মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
৩. আরেকটি সিক্রেট – আদালত অবমাননা (Contempt of Court):-
সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট একটি (Court of Record)। এর মানে হাইকোর্টকে কেউ অসম্মান করলে বা তার আদেশ না মানলে, হাইকোর্ট তাকে জেলে পাঠাতে পারে। সরকারি উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তাও এই ক্ষমতার বাইরে নয়।
“আইন শুধু বইয়ের পাতায় নয়, আইন হলো আপনার অধিকার। হাইকোর্ট বিভাগের ১০২ অনুচ্ছেদ আপনার শেষ ভরসা। যখন সব দরজা বন্ধ, তখন হাইকোর্টের দরজা খোলা। সংবিধান সম্মন্ধে সকলের জানা উচিত ও আইনত অধিকার নিশ্চিত করা দরকার।