প্রকাশিত: অক্টোবর ১২, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা :
কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী জান্নাতুন তাজমিন হত্যা মামলার সন্দেহভাজন কথিত প্রেমিক রিয়াজুদ্দিন রাজুকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে কুমিল্লা ডিবির একটি টিম কক্সবাজার পৌঁছে সদর থানা থেকে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে তাকে কুমিল্লা ডিবি কার্যালয়ে হাজির করা হবে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে গত রোববার রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার হোটেল-মোটেল জোন সংলগ্ন চন্দ্রিমা উদ্যান এলাকা থেকে রিয়াজুদ্দিন রাজুকে আটক করে পুলিশ। ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাজমিনকে ঘর ছাড়তে ফুসলানো এবং এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য প্রেক্ষাপট তৈরিতে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন রাজু চৌধুরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজমিনের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রাজুর ডাকে সাড়া দিয়েই ওই কিশোরী বাড়ি থেকে বের হয়ে কক্সবাজারে যায়। সেখানে একটি হোটেলে ‘স্বামী-স্ত্রী’ পরিচয়ে তাজমিনকে রাখা হয়েছিল বলেও তথ্য মিলেছে।
গত বুধবার কক্সবাজার থেকে বাসে করে তাজমিন কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়। ওই রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার হোটেল নূরজাহানের সামনে নেমে শহরের রেসকোর্সের বাসায় ফিরতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে। পথিমধ্যে অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা নিশ্চিত করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পরদিন সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমীনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। তবে তাজমিনকে ঘর ছাড়তে প্ররোচিত করা এবং তাকে কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়ার পেছনে রাজুর ভূমিকা ও অন্য কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাকে কুমিল্লা ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
কুমিল্লা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ জানান, কক্সবাজার থেকে রাজুকে কুমিল্লায় এনে তাজমীনের বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।