৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার,রাত ৪:১৯

শিরোনাম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের হামলায় চার সাংবাদিকসহ আহত ১০

প্রকাশিত: অক্টোবর ৪, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের হামলায় সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে :                                

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে চার সাংবাদিক অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আজ রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত চার সাংবাদিক হলেন আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ্জামান কোরবান ও দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু। প্রথমে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে রাত ১০টার দিকে তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহত মাঈনুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীবের নেতৃত্বে অন্তত ১০ জন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এরপর শিক্ষার্থীরা আমাদের হলের ভেতরে নিয়ে যান। পরে ডেইলি স্টারের সাংবাদিক ঘটনাস্থলে এলে তাঁকেও বেধড়ক মারধর করা হয়।’

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে আসেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। তাঁদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ, বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়।

খবর পেয়ে প্রক্টর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অস্ত্রগুলো লুকিয়ে ফেলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে তাঁদের হাতে অস্ত্র দেখতে পেয়ে সাংবাদিক মাঈনুল ইসলাম ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে যান। তখন মাঈনুল ইসলামকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে আরিফ উজ্জামানকেও মারধর করা হয়। পরে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে অন্য সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে গেলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামকে মারধর করা হয়। এতে জাহিদুলের মাথা ফেটে যায়। এ ছাড়াও অন্য সাংবাদিকরা রক্ষা করার জন্য এগিয়ে গেলে তাঁদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘বিষয়টি আমি সেন্ট্রাল (কেন্দ্রীয়) ছাত্রদলকে জানিয়েছি। দ্রুত তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ। আমাদের দ্বারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি। কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম তাঁর মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেছেন। অন্যদিকে রাকিবুলের দাবি, তাঁকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব। পরে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে পাল্টাপাল্টি পোস্ট করেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের হামলা।

রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান করেন রাকিবুল। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতা-কর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায়।

ছাত্রদলের ওই অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘তারেক রহমানের সোনার ছেলেরা চাঁদাবাজি ছেড়ে দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে।’

এরপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রড, পাইপ, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্র নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান নেন। পরে সেখানে সাংবাদিকদের ওপর হাম

  • শেয়ার করুন