প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
‘তরুণ সাংবাদিকদের নিয়মিত সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদনচর্চার পরিবেশ গঠন’ শীর্ষক সেমিনারে অতিথিরা। আজ রোববার রাজধানীর কাকরাইলে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যালয়ে।
তরুণ ও শিশুদের শারীরিক-মানসিক বিকাশে সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদনচর্চার বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেছেন একটি সেমিনারের বক্তারা। একই সঙ্গে তাঁরা বলেছেন, ডিজিটাল যুগে ভুয়া খবর, অপসংস্কৃতি ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, তথ্য যাচাই এবং দেশীয় সংস্কৃতি বিকাশে তরুণ সাংবাদিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
আজ রোববার রাজধানীর কাকরাইলে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘তরুণ সাংবাদিকদের নিয়মিত সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদনচর্চার পরিবেশ গঠন’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ কথা বলেন বক্তারা। সেমিনারে ফ্যাক্ট চেকিং জোরদার, দেশীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং ইতিবাচক ও মানবিক সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম বলেন, তরুণ ও শিশুদের শারীরিক-মানসিক বিকাশে সুস্থ বিনোদনের বিকল্প নেই। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে দেশজুড়ে পরিচালিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়েছে।
চব্বিশের ঐতিহাসিক গণ–অভ্যুত্থানের সত্য, সংগ্রাম ও ত্যাগকে নাটক, চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন জাহিদুল ইসলাম। একই সঙ্গে পালকি, বায়োস্কোপসহ দেশীয় লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে তরুণ সাংবাদিকদের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, একটি জাতির আত্মপরিচয়, ইতিহাস ও মূল্যবোধ তার সংস্কৃতির মধ্যেই প্রতিফলিত হয়। ইউনেসকো কর্তৃক বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের জন্য গৌরবের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির।
সেমিনারে তরুণ সাংবাদিকদের জন্য আটটি নীতিগত সুপারিশ করা হয়। সুপারিশগুলো হলো একাধিক উৎস থেকে শতভাগ তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ না করা, ক্লিকবেট ও বিভ্রান্তিকর শিরোনাম সম্পূর্ণ পরিহার করা, কপিরাইট ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ আইনের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা, দেশীয় শিল্প, সাহিত্য ও লোক–ঐতিহ্যকে সংবাদে অগ্রাধিকার দেওয়া, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন সেলিব্রিটি রিপোর্টিং থেকে বিরত থাকা।
এ ছাড়া ভুয়া খবর ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত ফ্যাক্ট চেকিং কার্যক্রম জোরদার করা, ইতিবাচক, শিক্ষামূলক ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক কনটেন্ট তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া, ডিজিটাল নৈতিকতা, সাইবার আইন ও আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ে সাংবাদিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকেরা অংশ নেন।