প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদক ঃ
স্বৈরাচারি সরকারের পতন হলেও রেলওয়ের বিভিন্ন দপ্তর সহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপুর্ন দায়িত্বে এখনও ঐ স্বৈরাচারি সরকারে দোসররা বহাল তবিয়তে। ৫ আগস্টে স্বৈরাচার ও স্বৈরাচারের ৩০০ সংসদ সদস্যসহ জাতীয় মসজিদের ঈমাম পালাইয়া যাইয়া শত বছরের ইতিহাসকে হার মানিয়ে নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশে। যাহা সমস্ত পৃথিবীতে এই অলৌকিক ঘটনা ও নতুন ইতিহাস বিভিন্ন রাষ্ট্রের কারন হয়ে দ্বাড়িয়েছে। পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রে জনগনের আন্দোলনের ফলে প্রধানমন্ত্রীসহ তার সকল সংসদ সদস্যরা বাসভবন থেকে পালাইয়া যায় এমন ঘটনা নজিরবিহীন। সরকার ও তার সহচরগন পালাইয়া গেলে সবাই মনে করছিল যে গনতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে ,দুর্নীতি স্বজনপ্রিতি কমেছে কিন্তু না ? স্বৈরাচার পালাইয়া গেলেও তার সৃষ্টিকরা আমলা ও কামলারা প্রতিটি অফিসদপ্তর দখল করে বসে আছে। তাদের সিন্ডিকেট, তাদের দুর্নীতি, ঘুষ, নারী নিয়ে উম্মাদনা কাজে ফাঁকি সবই পুর্বেরমত বহাল্। সেই আগের ঠিকাদার ও স্বৈরাচারের লীগের নেতা কর্মিদের সর্ব কাজকর্ম একই রকমের অব্যাহত। দেখারমত কেহ আছে মনে হয় না। রেলওয়ে সেই আগের সিন্ডিকেট ,ঘুষখোর , নারী পিপাষুরাই রেল ভবন দখল করে হিম্মতের সাথে কাজ করছে।

স্বৈরাচারি সরকারের আমলের ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ অপক্ষমতাধারী ও বিতর্কিত কর্মকর্তারা এখনও বহাল তবিয়তে গুরুত্বপূর্ণ পদে।বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে নানান প্রশ্ন জন্ম দিচ্ছে। এসব দুর্নীতিবাজরা এখনও হিম্মত বাহাদুরি দেখাইয়া তাদের কাজ সফল করে নিচ্ছে। যার ফলে বদলির আদেশ হলেও নানা অজুহাত বা তদবির করে বদলি বাতিল করছে। এদের কেউ কেউ গত ১৭ বছরই ঘুরে ফিরে রেল ভবনে আছেন।বর্তমানেও তারাই রেল বভন দখল রাখছেন।

তাবাসসুম বিনতে ইসলাম
রেলওয়েতে আওয়ামী ঘরানার কর্মকর্তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাভোগী কর্মকর্তা হলেন তাবাসসুম বিনতে ইসলাম- যুগ্ম মহাপরিচালক (মেকানিক), রেলভবন। তাবাসসুম প্রায় ১৬ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙ্গিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। তার এই পদে আসার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছিলেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। এছাড়াও শামসুজ্জামান যে সময় রেলের মহাপরিচালক ছিলেন তখন তাবাসসুম ছিলেন রেলের অলিখিত রানী তথা রেল রাণী। তৎকালীন সময় রেলমন্ত্রী সুজন ও ডিজি শামসুজ্জামান তাবাসসুমকে রেলের বদলি,পদোন্নতি থেকে শুরু করে টেন্ডার বাণিজ্য পর্যন্ত সকল কাজের ব্লাংক চেক দেওয়ার মত ক্ষমতা দিয়েছিলেন।তাবাসসুমের এই ক্ষমতার উৎস ছিল তার স্বামী প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন হায়দার।
একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত করলে দুর্নীতি ও অনিয়মের ভুরি ভুরি তথ্য বেরিয়ে আসবে। রেলের অনেকের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত চলছে। তাদের মধ্যে জেডিজি (উন্নয়ন-রোলিং স্টক) মো. সাদরুল হকসহ এমন অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন। এদের অনেককেই নামমাত্র বদলি করা হচ্ছে। বদলি কোনো শাস্তি নয়। রেলওয়েতে দুর্নীতি রুখতে হলে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা জরুরী হয়ে পরেছে। রেলে দুর্নীতিতে হাজার কোটি টাকার উপরে ছেয়ে গেছে। এর প্রতিটি সেক্টরেই হচ্ছে অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার দাপট। কেউ কেউ দীর্ঘবছর ধরে রয়েছেন শীর্ষ পদে। তাদের চিহ্নিত করে অন্যত্র বদলি এবং বিতর্কিতদের প্রত্যাহার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান সৎ ও নির্যাতিত কর্কর্তারা ।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর পৃথক পাঁচটি প্রজ্ঞাপনে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় রদবদল হয়েছে। এতে ঢাকা বিভাগের ডিআরএম শফিকুর রহমানকে চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (সিওপিএস) হিসেবে পদায়ন করা হয়। কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারী হলেও সে যোগদান করতে রাজি হননি। শফিকুর রহমান আওয়ামী লীগের টানা মেয়াদকালে প্রভাব খাটিয়েছেন রেল অঙ্গনে। ২০২২ সালের ২৬ জানুয়ারি তার পক্ষে সাফাই গেয়ে তৎকালীন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের কাছে চিঠি লিখেন নরসিংদী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মো. নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। ওই চিঠিতে শফিকুর রহমানকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য উল্লেখ করে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিগত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার পরিবারের সক্রিয় ভূমিকার কারণে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়’ এমন কথাও লেখা রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলে রেলওয়েতে বদলি হাওয়া শুরু হতেই শ্রমিক দলের নেতাদের নাম ভাঙিয়ে বদলি ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেন শফিকুর রহমান।
বিতর্কের শেষ নেই এই রেলের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা মেকানিক্যাল বিভাগের জেডিজি (উন্নয়ন-রোলিং স্টক) মো. সাদরুল হকের। তিনি ২০০৭ সালে রেলে যোগ দিয়ে সেই থেকেই রেলভবনে ঘুরেফিরেই দাপটের সঙ্গে বিভিন্ন পদে রয়েছেন। রেল ভবনে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত এই সদরুল হক। গত ২২ সেপ্টেম্বর তাকে নামমাত্র বদলি করে সেই রেল ভবনেই । রেলওয়ের মেকানিক্যাল বিভাগের কর্মকর্তা মো. সদরুল হক বর্তমানে যুগ্ম মহাপরিচালক (মেকানিক্যাল) বা JDG (Mech) হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ের সদর দপ্তর, রেলভবন, ঢাকা-তে কর্মরত আছেন ।এদের প্রতি সরকারের কোন নজর আছে বলে মনে হয় না।
রেলওয়েতে ‘আওয়ামী-কানেকশন’ কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম তাবাসসুম বিনতে ইসলাম। যুগ্ম মহাপরিচালক (মেকানিক) এই কর্মকর্তা সিনিয়র অনেককে টপকিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেন। এই পদে আসার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছিলেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। এ ছাড়া সাবেক একজন ডিজির আস্থাভাজনও ছিলেন তিনি। সেই ক্ষমতায় রেলের বদলি, পদোন্নতি থেকে শুরু করে প্রতিটি কাজই ছিল নিজের নিয়ন্ত্রণে। তার বদলির অর্ডার হলেও যোগ দেননি পূর্বাঞ্চল অ্যাডিশনাল জিএম পদে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাবাসসুম বিনতে ইসলাম বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (যান্ত্রিক) বা JDG (Mechanical) হিসেবে রেলভবন, ঢাকা-তে কর্মরত আছেন।
তাবাসসুম বিনতে ইসলাম গত আওয়ামী লী সরকারের আমলে ১৫ বছরে ৩৫ বারের বেশি বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন। তাবাসসুমের ৩৫ বার বিদেশ ভ্রমনের বিষয়টি বর্তমান সরকারের মন্ত্রীর নজরে নিয়ে খতিয়ে দেখা উচিত। কি কারনে এই কর্মকর্তাকে ৩৫ বার বিদেশ ভ্রমন করানো হয়েছে ,তার দ্বারা রেল কর্তৃপক্ষের কি লাভ হয়েছে। অপর দিকে কতজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে ৩ নম্বর স্কেলও তাকে দওয়া হলো এর রহস্য কি ?।
একইভাবে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এ এম মো সালাহ উদ্দিনকে ঘিরে নানা বিতর্ক রয়েছে। রেলওয়ে এই দাপুটে কর্মকর্তা সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশন (সিইসি) কাজি হাবিবুল আউয়ালের ভাগিনা হিসেবে পরিচিত রেল অঙ্গনে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সিইসি আউয়ালের (মামা) দাপট এবং ছাত্রজীবনে আওয়ামী লীগ নেতা আজম নাছির উদ্দিনের ছত্রছায়ায় দাপিয়ে চলেছিলেন তিনি। সংশ্লিস্ট সুত্রমতে এ এম মো. সালাহ উদ্দিন বর্তমানে যুগ্ম মহাপরিচালক (উন্নয়ন-ট্রাফিক) বা JDG (Dev-Traffic) হিসেবে বাংলা সদর দপ্তর, রেলভবন, ঢাকা-তে কর্মরত আছেন।( চলবে )