৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার,বিকাল ৪:৩১

শিরোনাম
দিল্লির বৈঠকে শেখ হাসিনা-কামালকে ফেরত চাইল বাংলাদেশ সরকার সুন্দরবনের দস্যু তৎপরতা দমনে যৌথ অভিযান শুরু রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের লালমনিরহাট ডিভিশনে দুই কর্মকর্তার রদবদল ও বদলি বিলের আলোচনায় বিসিবিকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ বললেন হাসনাত চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে জ্বালানি ও ভোজ্যতেল মজুত ঠেকাতে যৌথ অভিযান ভাঙচুর চালানো মানুষগুলোই চাইছেন হাসপাতালটি চালু হোক তিন ক্রিকেটার, মন্ত্রীর ৩ ছেলে আর প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী যাত্রী কল্যান সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেলের সংগঠনের আড়ালে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি ও অবৈধভাবে সিএনজির ব্যবসা ডিএনসিসির কাউন্সিলর শফিকুলের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন

দিল্লির বৈঠকে শেখ হাসিনা-কামালকে ফেরত চাইল বাংলাদেশ সরকার

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি ঃ

জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারতের কাছে আবারও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার জানায়, দিল্লি সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এই অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিন দিনের সফরে দিল্লিতে গিয়ে খলিলুর রহমান বৈঠক করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির সঙ্গে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গত ১৭ নভেম্বর রায়ের পর ২১ নভেম্বর প্রথমবার ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ চাওয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও একই অনুরোধ জানায়। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত জবাব পাওয়া যায়নি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশের অনুরোধ পেয়েছেন এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ও কামাল ভারতে অবস্থান করছেন। তাদের বিরুদ্ধে ‘নির্দেশ ও ইন্ধনদাতা’ হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।

এই সফরে শুধু প্রত্যর্পণ নয়, আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে:

  • হত্যা মামলার আসামি প্রত্যর্পণে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য
  • বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার সম্ভাবনা
  • ডিজেল ও সার সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ

এছাড়া, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সফরকে দেখা হচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশের সঙ্গে ‘গঠনমূলক সম্পর্ক’ এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

 

  • শেয়ার করুন