৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার,বিকাল ৪:৩১

শিরোনাম
দিল্লির বৈঠকে শেখ হাসিনা-কামালকে ফেরত চাইল বাংলাদেশ সরকার সুন্দরবনের দস্যু তৎপরতা দমনে যৌথ অভিযান শুরু রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের লালমনিরহাট ডিভিশনে দুই কর্মকর্তার রদবদল ও বদলি বিলের আলোচনায় বিসিবিকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ বললেন হাসনাত চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে জ্বালানি ও ভোজ্যতেল মজুত ঠেকাতে যৌথ অভিযান ভাঙচুর চালানো মানুষগুলোই চাইছেন হাসপাতালটি চালু হোক তিন ক্রিকেটার, মন্ত্রীর ৩ ছেলে আর প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী যাত্রী কল্যান সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেলের সংগঠনের আড়ালে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি ও অবৈধভাবে সিএনজির ব্যবসা ডিএনসিসির কাউন্সিলর শফিকুলের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন

ভাঙচুর চালানো মানুষগুলোই চাইছেন হাসপাতালটি চালু হোক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি  ঃ       

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১৫টি চা বাগানে বসবাসরত চা শ্রমিক পরিবারের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র ক্যামেলিয়া হাসপাতাল ১৩ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে করে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় লাখো মানুষ। 

গত ২৭ মার্চ ৭ম শ্রেণিপড়ুয়া ঐশী রবিদাস নামে চিকিৎসাধীন এক চা শ্রমিক সন্তানের মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনার পর বিক্ষুদ্ধ চা শ্রমিকরা চিকিৎসা কেন্দ্রটির স্টাফদের অবরুদ্ধ, হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনার পর চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। দীর্ঘ ১৩ দিন ধরে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকায় হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী চা শ্রমিকরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

জানা যায়, উপজেলার শমশেরনগর চা বাগানের রবিদাস টিলার বাসিন্দা বাবুল রবিদাসের মেয়ে ঐশী রবিদাস মাথাব্যথা নিয়ে গত ২৬ মার্চ রাতে শমশেরনগর ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি হলে পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয়। পরে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা হাসপাতালে গিয়ে স্টাফদের অবরুদ্ধ ও হাসপাতালে ভাঙচুর করেন। এমন অবস্থায় চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। তবে হাসপাতাল দেখভালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করছেন।

আরও জানা যায়, ১৯৯৪ সালে শমশেরনগরের ফাঁড়ি কানিহাটি চা বাগানে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল স্থাপিত হয়। হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ডানকান ব্রাদার্সের ১৫টি চা বাগানের লক্ষাধিক চা শ্রমিক অস্ত্রোপচারসহ অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা পেয়ে আসছে। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটসহ নানা জটিলতায় কয়েক বছর ধরে অস্ত্রোপচার হচ্ছে না বলে জানা গেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন চা বাগান থেকে রোগীরা হাসপাতালে এসে সেবা গ্রহণ করে। ২৭ মার্চ থেকে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় সাধারণ চা শ্রমিকরা উপজেলা, জেলা হাসপাতালসহ অন্যান্য স্থানে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে ভিড় করছেন।

ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতাল খোলা রয়েছে। তবে নিরাপত্তাহীনতায় চিকিৎসকরা উপস্থিত না থাকায় সেবা প্রদান করা যাচ্ছে না। হেড অফিসে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চা শ্রমিক নেতা রামভজন কৈরী বলেন, হাসপাতালে পুনরায় চিকিৎসাসেবা চালু করার জন্য আমরা কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ করছি। তিনি বলেছেন বিষয়টি দেখবেন। এই হাসপাতালে ১৫টি চা বাগানের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ সেবা নেন।

এ বিষয়ে ক্যামেলিয়া হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, আসলে হাসপাতালটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। পুরো বিষয়টি ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ ইংল্যান্ড থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। আমরাও চাই হাসপাতালে পুনরায় সেবা চালু হোক।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ আমার কাছে এসেছিলেন হাসপাতালটি পুনরায় চালু করার জন্য। আমি বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবো।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ শমশেরনগর চা বাগানের বাবুল রবিদাসের ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে ঐশি রবিদাস মাথায় ব্যথা নিয়ে ক্যামেলিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। রাতে তার শারীরিক অবস্থা ভালে না থাকায় হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। কিন্তু রোগীর স্বজনরা রাতে তাকে স্থনান্তর করতে রাজি হয়নি। পরদিন ২৮ মার্চ সকালে দেখা যায় শিশু ঐশি মারা গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চা বাগানের কয়েকজন নেতা সংঘবদ্ধ একটি দল ক্যামেলিয়া হাসপাতালে গিয়ে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ করে হাসপাতালে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেন। এসময় আন্দোলন কারীরা হাসপাাতালের পরিচালক ডাক্তার আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য ডাক্তারদের হেনস্তা করেন।ঘটনার খবর পেয়ে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ক্যামেলিয়া হাসপাতালে এসে পরিচালক ডাক্তার আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করে। এসময় অন্যান্য চিকিৎসক ও কর্মচারীরা দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। এ ঘটনার পর থেকে ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল বন্ধ রয়েছে।

  • শেয়ার করুন