প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২৬
জেলা প্রতিনিধি ঃ

নারায়ণগঞ্জ বন্দরের সোনাকান্দা কেল্লা জামে মসজিদের কমিটি কেন্দ্র করে মুসল্লিদের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে।এতে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।স্থানীয় সাংসদ পুত্রের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষের মধ্যে মিমাংসার চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এশার নামাজ চলাকালীন মসজিদের ভেতর এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,ঐতিহাসিক কেল্লা জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিএনপি নেতা নুর মোহাম্মদ পনেছ ও জামায়াত নেতা কাজী মামুন গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে বিরোধ চলে আসছে।দুজনেই সভাপতি সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের লোক দিয়ে কমিটি গঠন করতে চায়।এ বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দ্বারস্থ হয় উভয় পক্ষ।এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার এশার নামাজের পূর্বে নুর মোহাম্মদ পনেছ একটি খসড়া কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন।এসময় কাজী মামুন বিরোধিতা করেন এবং বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।একপর্যায়ে পনেছের ভাগ্নে পারভেজের ওপর হামলা করে তাকে মারপিট করে মামুন ও তার লোকজনেরা।মাথায় মারাত্মক রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত হয় পারভেজ। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া পালটা ধাওয়া। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।পরবর্তীতে সাংসদ আবুল কালামের পুত্র আবুল কাওসার আশা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আবুল কাওসার আশার উপস্থিতিতে থানার ওসির রুমে উভয় পক্ষের মধ্যে মিমাংসার জন্য আলোচনা চলছে।
থানা বিএনপির সাবেক আহবায়ক নুর মোহাম্মদ পনেছ বলেন,মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব ঠিকমত না দিয়ে কাজী মামুন তার পরিবারের লোকজন নিয়ে ইচ্ছেমতো তবে আমাকে কমিটি করতে চায়।কিন্তু মুসল্লীরা তা মানতে চায় না।এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
জানতে চাইলে থানা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক কাজী মামুন জানান,দলীয় প্রভাব বিস্তার করে কারো সঙ্গে আলোচনা না করেই মনগড়া কমিটি গঠন করে নুর মোহাম্মদ পনেছ। এ নিয়ে ঝগড়া হয়েছে।
এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুসল্লিদের বুঝিয়ে শান্ত করেছেন। মূলত কমিটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তারপরও কেউ চাইলে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে।