প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬
জেলা প্রতিনিধি ঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর-৪ ( রামগতি-কমলনগর ) আসনের নির্বাচনি সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের একটি পুরোনো ভিডিও বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর নির্বাচনি প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
বক্তব্যটি ঘিরে সাধারণ ভোটার ও আলেম-ওলামাদের মাঝে ব্যাপক আবেগ ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
সূত্র বলছে, তৎকালীন সরকারের আমলে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আলেম-ওলামাদের ওপর দমন-পীড়ন এবং ইসলামের অবমাননার প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন আশরাফ উদ্দিন নিজান। যে কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পলাতক শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে সংসদে হাতের আঙুল উঁচিয়ে ইসলাম ধর্ম ও আলেম ওলামাদের পক্ষে জ্বালাময়ী একটি বক্তব্য রাখেন তিনি। ওই বক্তব্যে আশরাফ উদ্দিন নিজানকে বলতে শোনা যায়-
‘আপনি নাস্তিক হোন আমার কোনো আপত্তি নাই, আপনি ইসলাম ধর্ম না মানেন আমার কোনো আপত্তি নাই। আপত্তি আমার এক জায়গায়… আমার কুরআন নিয়ে কথা বললে, আমার রাসুল নিয়ে কথা বললে ‘আই অ্যাম দ্য লাস্ট পার্সন’। আমাকে জেলে নিবেন না কোথায় নিবেন তাতে আমার কোনো যায় আসে না, আমি কিন্তু প্রতিবাদ করবই করব মাননীয় স্পিকার।’
স্থানীয় ভোটারদের মতে, পতিত সরকারের আমলে যখন কওমি মাদ্রাসা ও আলেমদের ওপর কঠিন সময় যাচ্ছিল, তখন সংসদে দাঁড়িয়ে এমন সাহসী প্রতিবাদ দেশের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের মনে সাহস জুগিয়েছিল। সম্প্রতি ভিডিওটি নতুন করে সামনে আসায় রামগতি ও কমলনগরের আলেম-ওলামা এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে নতুন করে নিজানের প্রতি সমর্থন বাড়তে শুরু করেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ধর্মপ্রাণ মানুষের এ আবেগ নির্বাচনি প্রচারণায় বড় প্রভাব ফেলছে। কমলনগর হাজিরহাট এলাকার এক প্রবীণ ভোটার জানান, আমরা এমন লোককেই সংসদে পাঠাতে চাই, যিনি শুধু এলাকার উন্নয়ন নয়, বরং আমাদের ইমান-আকিদার পক্ষেও কথা বলবেন।
অন্যদিকে এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এআর হাফিজ উল্লাহ অত্যন্ত সক্রিয় থাকলেও আশরাফ উদ্দিন নিজানের অতীতের এই সংসদীয় ভূমিকা তাকে একটি বিশেষ ‘অ্যাডভান্টেজ’ দিচ্ছে বলে জানান একাধিক ভোটার। ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, চরম দুঃসময়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, তিনি সংসদে গিয়ে নীরব থাকেন না, বরং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রশ্নে অটল থাকেন।
তাছাড়া আলেম-ওলামাদের প্রতি তার ভালোবাসা এবং অতীতের বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে তিনি এবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন জানিয়ে তারা আরও বলেন, বর্তমান জনস্রোত বলছে- আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আলেম ওলামা, ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং তরুণ ভোটাররা আশরাফ উদ্দিন নিজানের পক্ষেই তাদের সমর্থন জানাবেন এমনটাই এ আসনের এখনকার বাস্তবতা।