১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার,সকাল ৯:১৪

কিশোরবান্ধব মসজিদ কীভাবে গড়বেন

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক ঃ

   মসজিদ কেবল বড়দের জন্য নয়, এটি সবার জন্য  

প্রবাদ আছে, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।’ কথাটি যেমন সত্য, তেমনি এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কোথায় ও কীভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিচ্ছি, তার ওপর। ইসলামি ঐতিহ্যে মসজিদ কেবল ইবাদতের স্থান নয়, বরং এটি একটি সামাজিক ও শিক্ষাকেন্দ্র।

কিন্তু বর্তমান সময়ের একটি বড় প্রশ্ন হলো, আমাদের মসজিদগুলো কি কিশোর ও তরুণদের জন্য যথেষ্ট বন্ধুত্বপূর্ণ ? তারা কি মসজিদে আসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, নাকি সেখানে কেবল বড়দের ‘গম্ভীর শাসন’ আর ‘চুপচাপ থাকার’ নির্দেশ তাদের নিরুৎসাহিত করছে?

যদি আমরা সত্যিই চাই যে আমাদের সন্তানেরা আদর্শ মুসলিম হিসেবে বড় হোক, তবে মসজিদগুলোকে তাদের জন্য একটি আনন্দময় ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তোলা অপরিহার্য।

তারুণ্যের মনস্তত্ত্ব ও মসজিদের ভূমিকা

কিশোর বয়সের ধর্মতত্ত্ব বা আধ্যাত্মিকতা কেবল কিতাবি আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এই বয়সে তারা এমন একটি পরিবেশ খোঁজে, যেখানে তাদের অস্তিত্বের স্বীকৃতি আছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ–তাআলা ‘আসহাবে কাহাফ’ বা গুহাবাসীদের উদাহরণ দিয়েছেন, যারা ছিল একদল নির্ভীক তরুণ। তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘তারা ছিল কয়েকজন তরুণ, যারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি ইমান এনেছিল এবং আমি তাদের সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ১৩)

শিক্ষকেরা যেমন শিক্ষার্থীদের মনের খবর রাখেন, মসজিদের পরিচালনা কমিটির সদস্যদেরও তেমনই হওয়া উচিত। তাঁরা যেন কিশোরদের কাছে কেবল ‘শাসক’ নন, বরং ‘সহজ বন্ধু’ হিসেবে আবির্ভূত হন।

এই আয়াত স্পষ্ট করে, তরুণদের হৃদয়ে যখন বিশ্বাসের বীজ রোপণ করা হয়, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ সাহায্য ও শক্তি আসে।

মসজিদকে কিশোরবান্ধব করার প্রথম ধাপ হলো তাদের বুঝতে চেষ্টা করা। অনেক সময় মসজিদের বয়োজ্যেষ্ঠরা নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতায় মগ্ন থাকেন এবং তরুণদের উপস্থিতি এড়িয়ে চলেন। অথচ তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, তাদের আগ্রহের জায়গাগুলো নিয়ে আলোচনা করা এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ছুটির দিনের স্কুলগুলোতে শিক্ষকেরা যেমন শিক্ষার্থীদের মনের খবর রাখেন, মসজিদের পরিচালনা কমিটির সদস্যদেরও তেমনই হওয়া উচিত। তাঁরা যেন কিশোরদের কাছে কেবল ‘শাসক’ নন, বরং ‘সহজ বন্ধু’ হিসেবে আবির্ভূত হন।

  • শেয়ার করুন