প্রকাশিত: নভেম্বর ১০, ২০২৫

ক্রীড়া প্রতিবেদক ঃ
কারও কারও কাছে ‘সংখ্যার খেলা’ ক্রিকেটে ভাঙা–গড়া চলে নিয়মিতই। মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন কেউ, ব্যাটে–বলের পারফরম্যান্সে ভেঙে দেন অন্য কারও রেকর্ডও। কিন্তু যাঁদের নিয়ে এই লেখা, তাঁরা সব সময়ই ইতিহাসের পাতায় রঙিন হয়ে থাকবেন। কারণ, চাইলেও যে কেউ আর বাংলাদেশের হয়ে প্রথম টেস্ট খেলতে পারবেন না!২০০০ সালের আজকের দিনেই (১০ নভেম্বর) ভারতের বিপক্ষে জাতীয় স্টেডিয়ামে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের একাদশে থাকা ক্রিকেটাররা এখন কে কোথায় আছেন, তা–ই দেখে নেওয়া যাক একনজরে—
জাতীয় দলের হয়ে তিন টেস্ট খেলা এই ওপেনার অনেকটাই পাদপ্রদীপের আড়ালে। অভিষেক টেস্টে শাহরিয়ার প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ১২ রান, পরের ইনিংসে ৭। এরপর আর মাত্র দুটি টেস্টই খেলতে পেরেছেন বাংলাদেশের এই ওপেনার, ওয়ানডে খেলেছেন মোট ২০টি।
এখন তাঁর ব্যস্ততা নিজের ব্যবসা নিয়ে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের ক্রিকেটের সঙ্গেও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সম্পৃক্ততা আছে। এ বছর জুলাইয়ে বিসিবি আয়োজিত টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির ২৫ বছর অনুষ্ঠানে এসেছিলেন শাহরিয়ার।
বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিয়ান মেহরাব। অভিষেক টেস্টে শাহরিয়ার হোসেনের উদ্বোধনী সঙ্গী ছিলেন, দুই ইনিংসে করেছেন ৪ ও ২ রান। দেশের হয়ে ৯ টেস্ট ও ১৮ ওয়ানডে খেলা মেহরাব অবসরের পর বিসিবিতে বয়সভিত্তিক নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন। সর্বশেষ বিপিএলে ছিলেন দুর্দান্ত রাজশাহীর ম্যানেজারের দায়িত্বে।
অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩ নম্বরে নেমে ৭১ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছিলেন হাবিবুল বাশার, পরের ইনিংসেও দলের সর্বোচ্চ ৩০ রান তাঁর। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৫০ টেস্ট খেলার মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন বাশার। লম্বা সময় ছিলেন জাতীয় দলের অধিনায়কও। ৫০ টেস্ট ও ১১১ ওয়ানডে খেলা বাশার অবসরের পরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে জড়িত। জাতীয় দলের নির্বাচকের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর কিছুদিন ছিলেন নারী উইংয়ের পরিচালনা প্রধান, এখন কাজ করছেন গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হিসেবে।
অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৪৫ রান করে ইতিহাস গড়েছিলেন আমিনুল, হয়েছিলেন দেশের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করা তৃতীয় ক্রিকেটার। ১৩ টেস্ট ও ৩৯ ওয়ানডের ক্যারিয়ার শেষে আমিনুল থিতু হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়াতে, চাকরি করতেন আইসিসিতে। তবে এ বছর নাটকীয়ভাবে ফারুক আহমেদকে সরিয়ে তাঁকে বিসিবি সভাপতি করা হয়। তখন তিনি ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মনোনীত পরিচালক। গত মাসে ঢাকা বিভাগ থেকে চার বছরের জন্য পরিচালক নির্বাচিত হয়ে বিসিবি সভাপতি হয়েছেন আমিনুল।
প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে আকরাম করেছিলেন ৩৫ রান, পরের ইনিংসে ২। ৮ টেস্ট ও ৪৪ ওয়ানডের ক্যারিয়ার শেষে সাবেক এই অধিনায়ক লম্বা সময় যুক্ত ছিলেন বিসিবিতে। ছিলেন জাতীয় দলের নির্বাচক, পরে হয়েছিলেন বোর্ড পরিচালকও। এবারের বিসিবিতে নির্বাচনে অবশ্য তিনি অংশ নেননি। আপাতত নিজের ব্যবসাতেই সময় কাটছে আকরামের।
সব মিলিয়ে ১৫টি টেস্ট খেলেছেন আল শাহরিয়ার, চারটি হাফ সেঞ্চুরি পেলেও কখনো যেতে পারেননি তিন অঙ্কে। অভিষেক টেস্টেও দুই ইনিংসে করেন ১২ ও ৬ রান। অনেক বছর ধরেই পরিবার নিয়ে নিউজিল্যান্ডে থিতু হয়েছেন আল শাহরিয়ার।
অভিষেক টেস্টে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাঈমুর নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। সব মিলিয়ে খেলেছেন ৮ টেস্ট ও ২৯ ওয়ানডে। বিসিবি পরিচালক ছিলেন লম্বা সময়। মানিকগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এ বছর জুলাইয়ে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর এখনো তিনি কারাবন্দী।
অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৩২ রান, পরের ইনিংসে অপরাজিত ২১। দীর্ঘদিন ছিলেন দেশের এক নম্বর উইকেটকিপার, খেলেছেন ৪৪ টেস্ট ও ১২৬ ওয়ানডে। আপাতত নিজের একাডেমি, ব্যবসা ও বিসিবির সঙ্গে সম্পৃক্ত খালেদ মাসুদ। জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক গত মাসেই বোর্ড পরিচালক হয়েছেন। তাঁকে দেওয়া হয়েছে হাই পারফরম্যান্স বিভাগের দায়িত্ব। বেশির ভাগ সময় তাঁর কাটে রাজশাহীতে।
অভিষেক টেস্টে তিন উইকেট নেওয়া রফিক দেশের হয়ে সব মিলিয়ে খেলেছেন ৩৩টি টেস্ট, ১২৫টি ওয়ানডে। ১৯৯৮ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়ের নায়কও ছিলেন তিনি। খেলা ছাড়ার পর কেরানীগঞ্জে নিজের ব্যবসাতেই বেশি সময় কাটে তাঁর। বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) বিভাগের স্পিন কোচ হিসেবেও কিছুদিন কাজ করেছেন। সর্বশেষ ছিলেন বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের স্পিন বোলিং কোচ।
দীর্ঘদিন ছিলেন বাংলাদেশের এক নম্বর পেসার। অভিষেক টেস্টে অবশ্য একটাই মাত্র উইকেট পেয়েছেন। ৫ টেস্ট ও ৩২ ওয়ানডে খেলা হাসিবুল এত দিন ছিলেন বিসিবির বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক। গত সেপ্টেম্বরে তাঁকে জাতীয় দলের নির্বাচক করা হয়।