প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৫
প্রকাশিত:

হিমুঃ
খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হলো কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (Department of Agricultural Extension – DAE)– এর প্রধান কাজ হলো সকল শ্রেণীর চাষীদের চাহিদা অনুযায়ী কার্যকর সম্প্রসারণ সেবা প্রদান করে কৃষি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা।
প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম:
সম্প্রসারণ সেবা প্রদান: কৃষকদের কাছে আধুনিক কৃষি জ্ঞান ও প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া।
চাষী শিক্ষা: কৃষক শিক্ষার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি করা।
সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার: কৃষকদের নিজেদের সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
টেকসই কৃষি: দীর্ঘস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন ঘটানো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (Department of Agricultural Extension – DAE)– এর প্রধান কাজ হলো সকল শ্রেণীর চাষীদের চাহিদা অনুযায়ী কার্যকর সম্প্রসারণ সেবা প্রদান করে কৃষি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা। কিন্তু রাজধানীর মিরপুর, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, গুলশান ও কামরাঙ্গীর চরে কোনো কৃষিজমি নেই। আবাদ হয় না কোনো ফসলও। কিন্তু কৃষিকাজ দেখাশোনার জন্য রয়েছেন ৪২ জন কৃষি কর্মকর্তা। এ ছাড়া একাধিক স্প্রেয়ার মেকানিকসহ রয়েছেন আরো ২৯ জন কর্মচারী।
এই কৃষি কর্মকর্তাদের কাজ কী বা তাঁরা করেনই বা কী? তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এমন প্রশ্ন করা হলে সহজ উত্তর মেলে, ‘কেন, তাঁরা ছাদবাগানের বিষয়ে পরামর্শ দেন।
এই প্রতিবেদন তৈরির জন্য কৃষিতে আগ্রহ রয়েছে এমন লোকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা জানেনই না, ঢাকার কৃষি দেখাশোনার জন্য কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন। আর যাঁরা জানেন, তাঁদের অভিজ্ঞতাও সুখকর নয়।
ঢাকার কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তা পেয়েছেন, এমন মানুষের সংখ্যা নগণ্য। মনির চৌধুরী , জাফর ডাক্তার মিরপুরের বাসিন্দা। ঢাকায় ছাদবাগানের বিষয়ে পরামর্শ বা সহায়তার জন্য কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন, তারা জানেনই না।
ঢাকার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় ঢাকার কৃষির জন্য ছয়টি কৃষি মেট্রোপলিটন অঞ্চল রয়েছে। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, গুলশান, উত্তরা, তেজগাঁও ও কামরাঙ্গীর চর। তেজগাঁওয়ে ১৭৭ বর্গকিলোমিটার এলাকার চার হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসল আবাদ হয়। এর বাইরে পাঁচটি অঞ্চলে কোনো আবাদি জমি নেই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (সম্প্রসারণ) সরকার শফি উদ্দীন আহমেদ বলেন, কৃষি কর্মকর্তারা ছাদবাগানের পরামর্শ দেন। এই কর্মকর্তারা ছাদবাগান তদারকি করেন কি না—প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদারকি করবেন না, পরামর্শ দেবেন। ঢাকায় ছাদের ওপর যে সবুজায়ন দেখছেন, তাতে কৃষি কর্মকর্তাদের অবদান রয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ঢাকা মহানগরীতে ৪ হাজার ৬০০ ছাদবাগান রয়েছে।
তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে এক মত নন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল ফয়েজ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন। তিনি ছাদবাগান নিয়ে গবেষণা করেন, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেন ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বিনা মূল্যে চারা বিতরণ করেন। তিনি বলেন, ঢাকার কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কোনো কাজ করেন না।
একই ধারণা হার্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিনের। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ কৃষি কর্মকর্তাদের সম্পর্কে জানেন না। তাঁরা নার্সারি থেকে গাছ কিনে সেখান থেকেই পরামর্শ নেন। ছাদবাগান যাঁরা করেন, তাঁরা এখন অভিজ্ঞ।
কোথায় কত জনবল : মিরপুর মেট্রোপলিটন কৃষি অফিসে দুজন কৃষি কর্মকর্তা ও ছয়জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন। রয়েছেন স্পেয়ার মেকানিকসহ আরো সাতজন কর্মচারী। মোহাম্মদপুর মেট্রোপলিটন কৃষি অফিসে দুজন কৃষি কর্মকর্তা ও সাতজন উপসহকারী কর্মকর্তা রয়েছেন। এর বাইরেও কর্মচারী রয়েছেন পাঁচজন। দুজন কৃষি কর্মকর্তা ও সাতজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন উত্তরায়। এখানে রয়েছেন আরো ছয়জন কর্মচারী। কামরাঙ্গীর চরে কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন দুজন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছয়জন। রয়েছেন আরো ছয়জন কর্মচারী। গুলশান কৃষি অফিসে দুজন কৃষি কর্মকর্তা, ছয়জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন। রয়েছেন আরো ছয়জন কর্মচারী। তেজগাঁও থানা কৃষি সার্কেল ২৪ জনবলের একটি বহর। এই সার্কেলের অধীন চার হাজার ২০০ একর আবাদি জমি রয়েছে।
ঢাকার খামারবাড়ির সন্নিকটেই মিরপুর, উত্তরা, গুলশান ও কামরাঙ্গীর চরের কার্যালয়। দুই তলাবিশিষ্ট ভবনে চারটি মেট্রোপলিটন কৃষি অফিস ও জেলা অফিসের কার্যালয়। ফলে পাঁচটি অফিস একই ভবনে থাকায় কর্মচারীতে ঠাসা থাকে এই ভবন। একপ্রকার কাজহীন এসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বসে আড্ডা দেওয়া ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। ঢাকায় থাকার জন্য বদলি হয়ে আসেন এখানে। পাঁচজন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন পাঁচটি অফিসের একটি ছোট ভবনের নিরাপত্তার জন্য। বিভিন্ন ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মনিটর করার কথা কৃষি কর্মকর্তাদের। কিন্তু সঠিকভাবে মনিটরিং হয় না বলে জানিয়েছেন কৃষিবিদরাই।
সরকারি সংস্থা কৃষি তথ্য সার্ভিস জানিয়েছে, দেশের কৃষকদের এবং কৃষি সম্পর্কিত সবার মধ্যে কৃষিভিত্তিক সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, সেবা এবং তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘কৃষি কল সেন্টার’ কাজ করছে। কৃষি কল সেন্টারের শর্ট কোড নম্বর ১৬১২৩-এ যেকোনো অপারেটরের মোবাইল ফোন থেকে প্রতি মিনিটে ২৫ পয়সা হারে (ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ব্যতীত) কল করে কৃষকরা কৃষি বিষয়ে যেকোনো সমস্যার তাত্ক্ষণিক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ পাচ্ছেন। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, তাহলে পরামর্শের জন্য এই কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজন কী?
২০১৮ সালে “নগর কৃষি উৎপাদন সহায়ক (পাইলট)” নামে একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল শহরের বিভিন্ন ছাদবাগানে কৃষিকাজকে উৎসাহিত ও প্রদর্শন করা, কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে প্রকল্পটি তেমন সাফল্য পায়নি।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম
লক্ষ্য: নগরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটানো এবং সবুজ পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখা।
কার্যক্রম: সরকারি অর্থায়নে কিছু নির্বাচিত ব্যক্তির (রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের) বাড়ির ছাদে ছাদবাগান স্থাপন ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রকল্পের ব্যর্থতার কারণ
অব্যবস্থাপনা: প্রকল্পের দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও অব্যবস্থাপনা এর ব্যর্থতার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।
জনপ্রীতি: রাজনীতিবিদ ও প্রকল্প পরিচালকদের স্বজনদের বাড়িতে ছাদবাগান স্থাপনকে এই প্রকল্পের ব্যর্থতার জন্য দায়ী করা হয়।
প্রকল্পের প্রভাব ও শিক্ষণীয়
নগর কৃষির ধারণাটি ভালো হলেও, যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অভাবে প্রকল্পটি সফল হয়নি।
এই প্রকল্পের অভিজ্ঞতা থেকে কৃষিবিজ্ঞানী ড. কামরুজ্জামান বাবুর মতে, ঢাকার কৃষির জন্য নতুন পরিকল্পনা ও সবুজায়নের জন্য নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন।