প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৫
বিশেষ প্রতিনিধি ঃ

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন।
নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের (কেআইবি) প্রশাসকের অপসারণের দাবিতে কৃষিবিদরা এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছেন। এ দাবিতে তারা ইতিমধ্যে বিক্ষোভ মিছিল, সংবাদ সম্মেলন এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস. মুরশিদ কৃষিবিদদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কৃষিবিদ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে জাতীয়তাবাদী আদর্শের কৃষিবিদদের সংগঠন এগ্রিকালচারিস্টস’ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) ও জামায়াতপন্থী কৃষিবিদদের সংগঠন এগ্রিকালচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এএফবি) এর সিনিয়র কয়েকজন নেতা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কৃষিবিদ উইংয়ের ২ জন কৃষিবিদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাইদুর রহমান, কেআইবির প্রশাসক মো. আব্দুর রব খান ও দুজন আইনজীবী।
বৈঠকে এ্যাবের আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার ও সদস্যসচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব কেআইবির প্রশাসকের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উপস্থাপন করেন। তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসক আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি তার এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা কৃষিবিদদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
তারা প্রশাসককে অপসারণ করে নতুন প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানান।
বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমেও কোনো সমঝোতায় যেতে পারেননি উপদেষ্টা। সবশেষে বৈঠকে প্রশাসকের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
এ্যাবের সাবেক আহ্বায়ক কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুনকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।
অপর দুই সদস্য হলেন—এএফবি নেতা কৃষিবিদ শেখ মুহাম্মদ মাসউদ এবং এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম।
বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন জানান, জামায়াতপন্থী ও এনসিপির প্রতিনিধিরা প্রশাসকের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করলে অন্য কৃষিবিদরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। বৈঠকে কৃষিবিদদের সব স্টেকহোল্ডার নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়, তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
কৃষিবিদদের মতে, এই তদন্ত কমিটি গঠন করে কোনো বাস্তব সুরাহা হবে না। তাদের অভিযোগ, কমিটিতে এমন দুজন সদস্যকে রাখা হয়েছে, যারা কমিটি গঠনের আগেই প্রশাসকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
ফলে তাদের দিয়ে প্রশাসকের অনিয়ম ও দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়।
কমিটির প্রধান কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুন বলেন, অপর দুই সদস্য প্রশাসকের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পরও যদি তা রিপোর্টে উল্লেখ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে আমি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দিয়ে আমার অবস্থান স্পষ্ট করব।
বৈঠক শেষে শাহাদত হোসেন বিপ্লব বলেন, প্রশাসকের উন্নয়ন, নিয়োগ বা চাকরিচ্যুতির কোনো এখতিয়ার নেই। তবু তিনি নিজের পছন্দমতো লোক নিয়োগ দিয়েছেন এবং কোটেশন ছাড়া ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, এসি মেরামতে ৯৩ হাজার টাকার কাজের বিল দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ছাদ মেরামতে ১০ লাখ টাকার কাজ ১৫ লাখ টাকায়, সিসি ক্যামেরা স্থাপনে ২ লাখ টাকার কাজ ৫ লাখ টাকায় দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রশাসক মাসে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বেতন, ১ লাখ টাকার তেল খরচ, ঈদ বোনাস, নববর্ষ ভাতা নিয়েছেন এবং নিজের পছন্দের অডিটর নিয়োগ দিয়ে ৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কৃষিবিদদের এই নেতা আরো বলেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে কেআইবির সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছি না। প্রশাসককে বহাল রেখে কোনোভাবেই সমাধান সম্ভব নয়। তাকে সরাতেই হবে।