১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার,সকাল ৭:০৭

শিরোনাম
জুয়ার আসর থেকে দুই ইউপি সদস্যসহ ৫ জন গ্রেফতার সাবেক সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে শুনানি রোববার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ, অঙ্গসংগঠনের ৫৩ নেতাকর্মী ঢাকায় গ্রেফতার: ডিএমপি মাদ্রাসার শৌচাগারে শিক্ষার্থীর লাশ, শিক্ষক জাকারিয়া তিন দিনের রিমান্ডে, শুনানিতে উঠে এল নানা তথ্য নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ৪২ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতফাইল ছবি রাজধানীর রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকার একটি মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হাফেজ মো. জাকারিয়াকে (৩৫) তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গ্রেপ্তার অপর এক শিক্ষকের বয়স মামলার এজাহারে ২০ বছর উল্লেখ করা হলেও শুনানিতে তাঁর আইনজীবী অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার প্রমাণ উপস্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁকে শিশু বিবেচনায় রিমান্ড শুনানির জন্য শিশু আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। আজ বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী হারুনর রশীদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৩ আগস্ট বেলা দেড়টার দিকে মাদ্রাসার তৃতীয় তলার একটি শৌচাগার থেকে ১৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে ওই রাতেই কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, ৩ আগস্ট ওই মাদ্রাসা থেকে দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ৪ আগস্ট তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। ৫ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আমজাদ হোসেন আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আজ আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ড শুনানি হয়। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নিহত শিশু ও তার ছোট ভাই ওই মাদ্রাসায় পড়ত। বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষকেরা ওই শিশুর ওপর নির্যাতন চালাতেন। বিষয়টি সে তার মাকে জানালে মা তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তী সময়ে সে আর মাদ্রাসায় পড়বে না বলে শিক্ষকদের জানালে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করেন এবং বেলা একটা থেকে আড়াইটার মধ্যে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। আদালতে বাদী ও আসামিপক্ষের যুক্তি শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী হারুনর রশীদ খান রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতকে বলেন, ১৩ বছরের একটি শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে বাথরুমে হত্যা করা হয়েছে। অথচ আসামিপক্ষ এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করছে, যা একটি অগ্রহণযোগ্য যুক্তি। ওই শিশুটি আগেই তার মাকে জানিয়েছিল, সে এই মাদ্রাসায় পড়তে চায় না। আইনজীবী আরও বলেন, নিহত ছাত্রটি পড়াশোনায় ভালো ও শান্ত স্বভাবের ছিল। শিক্ষক তাকে নিজের কাছে ঘুমানোর জন্য বলতেন। মূলত গোপন রহস্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামিদের রিমান্ড প্রয়োজন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাদ্রাসার অন্য ছাত্রদেরও কোনো অভিযোগ নেই। সেখানে ধর্ষণ বা হত্যার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। আদালতে শিক্ষক ও নিহতের ভাইয়ের বক্তব্য শুনানিকালে বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামি জাকারিয়াকে কোনো বক্তব্য আছে কি না জানতে চান। এ সময় জাকারিয়া বলেন, ‘আমরা হাফেজ মানুষ, আমরা মারিনি। ঘটনার দিন ওই ছেলে পড়া না পারায় তাকে কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। জোহরের নামাজের আগে সে বাথরুমে যায়। নামাজ শেষে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সে ফেরেনি। পরে বাথরুমের দরজা ভেঙে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। আমাদের ছাত্ররা এর সাক্ষী।’ আদালত জাকারিয়াকে মাদ্রাসায় সিসিটিভি ফুটেজ আছে কি না, জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ নেই, অনেক আগেই হার্ডডিস্ক নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া ওই ছাত্র এর আগেও কয়েকটি মাদ্রাসা থেকে পালিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তখন আদালত প্রশ্ন করেন, ‘এই ডিজিটাল যুগে আপনাদের সিসিটিভি ফুটেজ নেই কেন?’ শুনানির একপর্যায়ে আদালত নিহত শিক্ষার্থীর ছোট ভাইকে ডেকে কথা বলেন। মাদ্রাসায় তাদের মারধর করা হতো কি না, জানতে চাইলে শিশুটি বলে, ‘আমাদের অনেক মারধর করা হতো। ভাইয়ের সাথে বেশি খারাপ ব্যবহার করা হতো।’ কেমন খারাপ ব্যবহার করা হতো, তা জানতে চাইলে শিশুটি আর কোনো উত্তর দেয়নি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শিক্ষক জাকারিয়ার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং অপর শিক্ষককে শিশু আদালতে রিমান্ড শুনানির জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে স্বজনদের বিক্ষোভ আজ আদালতে নিহত শিক্ষার্থীর মা ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের আদালত থেকে নামানোর সময় উত্তেজিত স্বজনেরা তাঁদের মারধর করতে উদ্যত হন। পুলিশ দ্রুত আসামিদের হাজতখানায় নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় নিহত শিশুর ক্ষুব্ধ স্বজনেরা আসামিদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন ও আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন। পৌর মেয়র থেকে রাষ্ট্রপতি, কখন কী ছিলেন মির্জা ফখরুল মেয়াদ শেষের ১১ মাস আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদের নিয়োগ বাতিল রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন তারেক রহমান আমানতের উৎসে কর সরকারি কোষাগারে জমার সময় বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের প্রশাসক নিয়ে জটিলতা, ৩ সদস্যের কমিটি গঠন

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৫

  • শেয়ার করুন

 বিশেষ প্রতিনিধি ঃ

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন। 

নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের (কেআইবি) প্রশাসকের অপসারণের দাবিতে কৃষিবিদরা এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছেন। এ দাবিতে তারা ইতিমধ্যে বিক্ষোভ মিছিল, সংবাদ সম্মেলন এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস. মুরশিদ কৃষিবিদদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কৃষিবিদ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জাতীয়তাবাদী আদর্শের কৃষিবিদদের সংগঠন এগ্রিকালচারিস্টস’ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) ও জামায়াতপন্থী কৃষিবিদদের সংগঠন এগ্রিকালচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এএফবি) এর সিনিয়র কয়েকজন নেতা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কৃষিবিদ উইংয়ের ২ জন কৃষিবিদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাইদুর রহমান, কেআইবির প্রশাসক মো. আব্দুর রব খান ও দুজন আইনজীবী।

বৈঠকে এ্যাবের আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার ও সদস্যসচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব কেআইবির প্রশাসকের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উপস্থাপন করেন। তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসক আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি তার এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা কৃষিবিদদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

তারা প্রশাসককে অপসারণ করে নতুন প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানান।

বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমেও কোনো সমঝোতায় যেতে পারেননি উপদেষ্টা। সবশেষে বৈঠকে প্রশাসকের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এ্যাবের সাবেক আহ্বায়ক কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুনকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

অপর দুই সদস্য হলেন—এএফবি নেতা কৃষিবিদ শেখ মুহাম্মদ মাসউদ এবং এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম।

বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন জানান, জামায়াতপন্থী ও এনসিপির প্রতিনিধিরা প্রশাসকের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করলে অন্য কৃষিবিদরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। বৈঠকে কৃষিবিদদের সব স্টেকহোল্ডার নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়, তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 কৃষিবিদদের মতে, এই তদন্ত কমিটি গঠন করে কোনো বাস্তব সুরাহা হবে না। তাদের অভিযোগ, কমিটিতে এমন দুজন সদস্যকে রাখা হয়েছে, যারা কমিটি গঠনের আগেই প্রশাসকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

ফলে তাদের দিয়ে প্রশাসকের অনিয়ম ও দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়।

কমিটির প্রধান কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুন বলেন, অপর দুই সদস্য প্রশাসকের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পরও যদি তা রিপোর্টে উল্লেখ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে আমি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দিয়ে আমার অবস্থান স্পষ্ট করব।

বৈঠক শেষে শাহাদত হোসেন বিপ্লব বলেন, প্রশাসকের উন্নয়ন, নিয়োগ বা চাকরিচ্যুতির কোনো এখতিয়ার নেই। তবু তিনি নিজের পছন্দমতো লোক নিয়োগ দিয়েছেন এবং কোটেশন ছাড়া ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, এসি মেরামতে ৯৩ হাজার টাকার কাজের বিল দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ছাদ মেরামতে ১০ লাখ টাকার কাজ ১৫ লাখ টাকায়, সিসি ক্যামেরা স্থাপনে ২ লাখ টাকার কাজ ৫ লাখ টাকায় দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রশাসক মাসে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বেতন, ১ লাখ টাকার তেল খরচ, ঈদ বোনাস, নববর্ষ ভাতা নিয়েছেন এবং নিজের পছন্দের অডিটর নিয়োগ দিয়ে ৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কৃষিবিদদের এই নেতা আরো বলেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে কেআইবির সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছি না। প্রশাসককে বহাল রেখে কোনোভাবেই সমাধান সম্ভব নয়। তাকে সরাতেই হবে।

  • শেয়ার করুন