১লা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার,বিকাল ৩:৫৪

খাদ্য অধিদপ্তরের নোয়াখালীর হিসাবরক্ষক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

খাদ্য অধিদপ্তরের নোয়াখালি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে হিসাব রক্ষক (Accountant) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বপূর্ণ পদ। মাসুদুর রহমান হিসাব রক্ষক জেলার খাদ্য বিভাগের যাবতীয় সরকারি আয়, ব্যয় এবং আর্থিক লেনদেনের হিসাব ও তদারকি করে থাকে। হিসাব রক্ষক মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফ্যাসিবাদের দোসর এই কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

অভিযুক্ত মাসুদুর রহমানের বাবা ছিলেন একজন সাধারণ শ্রমিক। মাত্র ৭ শতাংশ জমির ওপর পাঁচ ভাই ও এক বোনের সংসার চলতো চরম অভাব-অনটনের মধ্যে। তার বড় ভাই ও মেজো ভাই ভাঙারির ব্যবসা করলেও মাসুদুর রহমান কীভাবে হঠাৎ কোটি কোটি টাকার মালিক হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। সরকারি বেতনের চাকরিতে থেকে তার জীবনযাত্রার মান গ্রামের সম্মানিত পরিবারগুলোকেও হার মানিয়েছে।

মাসুদুর রহমান নিজের নামে ৪ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে দেড় তলা কমপ্লিট করেছেন। নিচ তলায় ৮টি বড় বেডরুম ও একটি বিশাল ড্রয়িং রুম এবং ওপরে এক ইউনিট তৈরি করেছেন। মূল্যবান মার্বেল টাইলস ও রাজকীয় গেট দিয়ে নির্মিত এই বাড়িটিতে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূল বাড়ির ১৫ শতাংশ জমির চারদিকে ১০ ফুট উঁচু বাউন্ডারি ওয়াল দেওয়া হয়েছে। যাহার  ( ছবি সংযুক্ত ) করা হলো ও সামনের পুকুরে জমিদারদের মতো পাকা সিঁড়ি (ঘাটলা) বাঁধাই করেছে ।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার বড় ভাইকেও প্রায় ১০ শতাংশ জমির ওপর ১০টি বেডরুমের একটি পাকা ঘর তৈরি করে দিয়েছেন, যেখানে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ভাঙারির ব্যবসা করে এই ধরনের বহুতল ভবন বা ৮ সিসি পিলার টেনে বিল্ডিং করা কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এছাড়া বড় ভাইকে বড় পরিসরে ব্যবসা করার জন্য কোটি টাকা দিয়েছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

মাসুদুর রহমানের স্ত্রী, শ্বশুর ও ছোট ভাইয়ের নামে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) করা রয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, চাকরিকালীন সময়ে নোয়াখালী থেকে তার কোন বদলি হয়নি। চাকরি জীবনে তার অন্য কোথাও বদলি করা হয়েছে এমন কোনো প্রমাণও  নেই। নোয়াখালী কার্যালয়ে তিনি একটি শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন, যার কারণে যতো বড় দুর্নীতিই হোক না কেন, তা সহজে প্রকাশ পায় না। আর তারাই তাকে বদলী হতে দেয় না। কারন এধরনের  গোপনিয়  একতরফাভাবে  অন্য কেহ আসলে  তার সাথে  তালমিল করতে ঠিকাদার ও স্থানীয় ব্যবসায়িদের  জামেলায় পরতে হতে পারে। যার ফলে  মাসুদুর রহমনের  সাথে সুসম্পর্ক রেখে ধারাবাহিক ব্যবসা কর যাচ্ছে ।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাসুদুর রহমানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে- 0181——-39|       একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল এই দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার দাবি করেছেন।  ( চলবে )

 

  • শেয়ার করুন