প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ বন্দরে মা-বাবার সামনে থেকে ৯ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার ৭ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ।উদ্ধার করতে পারেনি ভিকটিম স্কুল ছাত্রীকেও।ফলে চরমভাবে হতাশ হয়ে পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।থানা পুলিশের দাবী, ভিকটিমকে উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার কাইকারটেক বিবিজোড়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে থেকে ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমেনা আক্তার (১৫) সামসুজ্জোহা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী এবং ফার্মেসি ব্যাবসায়ী শাহজালাল মিয়ার মেয়ে।
লিখিত অভিযোগে তার মা রিপু বেগম উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দুই বছর ধরে স্কুলে যাওয়া আসার পথে তার ছোট মেয়ে আমেনা আক্তার কে বিভিন্ন সময়ে কুশিয়ারা এলাকার মৃত: আলীনুর মিয়ার বখাটে ছেলে আরিফুল ইসলাম তুহিন প্রেমের প্রস্তাব সহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমেনা কে নানান ভয়ভীতি এবং তুলে নেওয়ার হুমকি দেয় সে। এমনকি রাস্তায় আটকে রেখে বিভিন্ন খারাপ কথাবার্তা ও কুপ্রস্তাব দেয়।এ বিষয় নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ হয় এবং চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারী তুহিনের চাচা নজরুল মাস্টার লিখিত অঙ্গীকার করে তার নিজ জিম্মায় তুহিনকে ছাড়িয়ে নেয়।তবুও তার অপকর্ম থেমে থাকেনি।এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ অক্টোবর ভোর রাতে নেশাগ্রস্ত তুহিন ও তার সহযোগী তিনগাওয়ের রাফিন এবং অপর এক জন মোটরসাইকেল যোগে এসে বাবা – মায়ের সামনে থেকে জোরপূর্বক স্কুল ছাত্রী আমেনাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।বাধা দিতে গেলে বাবা শাহজালাল ও মা রিপু বেগম কে জীবনে শেষ করে দেওয়ার ভয় দেখায়।এসময় আমেনার গলায় একটি সোনার চেইন ও কানের দুল ছিল।এছাড়া তার সঙ্গে ২৮ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা রিপু বেগম বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।কিন্তু অদ্যাবধি শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে পারেনি এবং মামলাও গ্রহণ করেনি পুলিশ।এমনকি মেয়েকে ফেরত পেতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারস্থ হতে পরামর্শ নেন খোদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)জামাল উদ্দিন।
অপহরণের শিকার ভআমেনার বাবা ফার্মেসি ব্যাবসায়ী শাহজালাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ দুই বছর ধরে স্থানীয় বখাটে ও নেশা আসক্ত তুহিন প্রেমের প্রস্তাব সহ বিভিন্ন ভাবে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছে।এ বিষয় নিয়ে তার চাচা নজরুল মাস্টার সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানানো হয়েছে। কিন্তু সে আরও বেপরোয়া হয়ে গত শুক্রবার ভোরে সহযোগীদের নিয়ে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে মেয়েকে তুলে নিয়ে যায়।এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও কোনো ব্যাবস্থা গ্রহণ করেনি পুলিশ।উল্টো রাজনৈতিক নেতাদের কাছে যেতে বলেন তারা।
ভিকটিম আমেনার খালা মিতু বেগম বলেন,গত শুক্রবার থেকে থানা পুলিশের কাছে আসা যাওয়া করছি।আমেনাকে উদ্ধার করে দিতে অনেক অনুরোধ করেছি।কিন্তু পুলিশ নুন্যতম সহযোগিতা করেনি।শুধু স্থানীয় নেতাদের কাছে যেতে বলেন।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বিনয় বাড়ৈ জানান, বাদীর অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পাশাপাশি ভিকটিমকে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।তদন্ত এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) দীপংকর ঘোষ বলেন, অপহরণ চক্রের সঙ্গে জড়িত আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।