১৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার,সন্ধ্যা ৬:০৮

শিরোনাম
সরকার রাজস্ব কাঠামোকে জনবান্ধব করতে চায় মৃত স্বামীকে শেষ দেখা দেখতে পারবেন কি দীপু মনি ? এআই প্রযুক্তির ‘আটো ফাইন’ সিস্টেমের মাধ্যমে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে ১৯ পরীক্ষার্থী, পাসের খাতায় শূন্য—গোলাপগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল বিপর্যয় রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল: অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের এক সম্ভাবনাময় সমন্বয়. রূপগঞ্জ টেলিভিশন এন্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান খুলনায় যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা একদল ঠিক করত লক্ষ্যবস্তু, আরেক দল করত ডাকাতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বায়তুল মোকাররমে বিশেষ দোয়া

জান্নাতুলের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ, পেলেন ৭৪ লাখ টাকার বৃত্তি

প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক হবিগঞ্জের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস (জেমি) চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) পড়াশোনার জন্য প্রায় ৭৪ লাখ টাকার (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) বৃত্তি পেয়েছেন। চার বছর মেয়াদি এ বৃত্তির আওতায় প্রতিবছর তিনি ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাবেন।

আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান চিঠি দিয়ে জান্নাতুলকে বৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জান্নাতুল হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাবা আফজল আলী শায়েস্তাগঞ্জের পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ার বাসিন্দা। তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পরিবারের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় জান্নাতুল পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।

২০২৫ সালে জান্নাতুল জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর গত ২০ জুলাই থেকে শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসের সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন। প্রোগ্রামটি সফলভাবে শেষ করার পর শেভরনের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান তিনি।

বিজ্ঞানভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের সামার স্কুলে অংশ নেওয়া জান্নাতুলের জন্য সহজ ছিল না। তবে নিজের আগ্রহ, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি সফলভাবে প্রোগ্রামটি শেষ করেন।

জান্নাতুল বৃত্তি পাওয়ার পর  হিডেন নিউজকে বলেন, ‘এ রকম একটি বৃত্তির কথা শুনে প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। বারবার চিঠি পড়ে বিশ্বাস তৈরি করছিলাম। এখন নিজেকে প্রস্তুত করা শুরু করেছি। আমাকে আরও এগোতে হবে। পাশাপাশি আমি চাই, আরও শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তি অর্জন করুক।’

বাবা আফজল আলী মেয়ের এ অর্জনে খুব খুশি। মেয়েকে পড়াশোনা করানোর মতো তাঁর সামর্থ্য নেই বলে জানান। তিনি বলেন, জান্নাতুল বৃত্তি পাওয়ায় তিনি চিন্তামুক্ত হয়েছেন। এখন তাঁর মেয়ে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা লাভ করবেন, এগিয়ে যাবে। তিনি মেয়েকে নিয়ে গর্ববোধ করেন।

জান্নাতুলের এ অর্জন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, সদিচ্ছা, প্রচেষ্টা ও প্রতিভার সমন্বয় থাকলে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব—জান্নাতুল তার প্রমাণ।

 

  • শেয়ার করুন