প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬
প্রকাশিত:
বিশেষ প্রতিবেদক ঃ প্রথম অধ্যায়: বিসিকের বর্তমান পরিচালক (বিপণন, নকশা ও কারুশিল্প) এবং কুমিল্লার সাবেক জেলা প্রশাসক খন্দকার মুঃ মুশফিকুর রহমানের সরকারি আমলাতন্ত্রের আড়ালে ক্ষমতার বেপরোয়া অপব্যবহার ও রাজনৈতিক অভিসন্ধির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) শীর্ষ এই পদে আসীন হওয়ার আগে ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই কুমিল্লায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে যোগদানের ঠিক পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মন্ত্রণালয়ের ওই অত্যন্ত সংবেদনশীল চেয়ারে বসেই তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতার আসল ‘ছক’ কষা শুরু করেন। ত্রাণ বণ্টন, সরকারি অনুদান বরাদ্দ ও প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদনকে হাতিয়ার করে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের একচ্ছত্র এজেন্ডা বাস্তবায়নে তিনি নেপথ্য রূপকারের ভূমিকা নেন। সরকারি পদের নিরপেক্ষতার তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিজের ও দলীয় অনুগতদের অনুকূলে প্রভাবিত করার যে গুরুতর অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছিল, কুমিল্লায় ডিসি হয়ে পদায়নের পরও সেই বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়েনি; বরং সেখানে গিয়ে তা রূপ নেয় আরও বেপরোয়া ও নগ্ন রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: কুমিল্লায় পদায়নের পরপরই ২০২৪ সালের ৭ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার হিসেবে খন্দকার মুশফিকুর রহমানের ভূমিকা উঠে আসে প্রচণ্ড বিতর্ক ও ক্ষোভের মুখে। সংবিধানে অর্পিত রিটার্নিং অফিসারের নিরপেক্ষ দায়িত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি স্থানীয় সরকারি দলীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রার্থীর সুবিধা রক্ষায় প্রশাসনিক যন্ত্রপাতিকে নগ্নভাবে ব্যবহার করেন। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে একপাক্ষিক রূপ দিতে বিরোধী মত দমন, প্রশাসনিক ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ক্ষমতাসীনদের বিজয় সুনিশ্চিত করতে নীল নকশা বাস্তবায়নের পেছনে তাঁর সরাসরি মদদ ছিল বলে স্থানীয় ভোটার ও প্রার্থীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। নিরপেক্ষ বিচারকের আসনে বসেও দলীয় ক্যাডারের মতো পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করে তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ প্রহসনে পরিণত করেছিলেন, যা মাঠ প্রশাসনে চরম বিশৃঙ্খলা ও পেশাগত নৈতিকতার মারাত্মক অবক্ষয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
তৃতীয় অধ্যায়: খন্দকার মুশফিকুর রহমানের প্রশাসনিক অপকর্মের সবচেয়ে ভয়াবহ ও রক্তভেজা অধ্যায় রচিত হয় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলন চলাকালে। তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কুমিল্লায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর যে নারকীয় হামলা, গুলিবর্ষণ ও হতাহতের ঘটনা ঘটে—তার প্রশাসনিক ও নৈতিক দায় কোনোভাবেই তিনি এড়াতে পারেন না। আন্দোলন চলাকালে রাজপথে ছাত্র-জনতার রক্ত ঝরলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অমানবিক ও বেআইনিভাবে ব্যবহার এবং রাজনৈতিক ক্যাডারদের সহিংসতায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্দন দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তৎকালীন এই জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে। রক্তভেজা শান্ত কুমিল্লায় তৎকালীন জেলা প্রশাসনের এমন নির্লজ্জ ও একপাক্ষিক ভূমিকা নিয়ে আজ দেশজুড়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে; শান্তিকামী সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার পেছনে তাঁর প্রশাসনিক নির্দেশ ও চরম অবহেলা কতখানি দায়ী, তা এখন অপরাধ তদন্তকারী সংস্থাগুলোর গভীর নজরদারিতে রয়েছে।