প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ

জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে দুদক,ছবি: দুদকের কাছ থেকে পাওয়া
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সোমবার দুদকের মুখপাত্র তানজীর আহমেদ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
দুদক জানায়, সকালে দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জলসিঁড়ির ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। বাড়িতে থাকা মালামালের জব্দ তালিকা করা হচ্ছে।
গত ৭ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গভীর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তখন থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

জিয়াউল আহসানের বাড়ির একাংশ।ছবি: দুদকের কাছ থেকে পাওয়া
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জিয়াউল আহসান ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁর নিজ নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করেছেন। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলন করেছেন। এসব অর্থ তাঁর স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতা-যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন। তাঁর নামে থাকা ৮টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে নিজের পদ ও অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

জলসিঁড়ির বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে দুদকছবি: দুদকের কাছ থেকে পাওয়া
জিয়াউল আহসান সর্বশেষ টেলিযোগাযোগ নজরদারির জাতীয় সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক ছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরে আলোচিত ও প্রভাবশালী ছিলেন এই কর্মকর্তা। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরদিন ৬ আগস্ট তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।