প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬
প্রকাশিত:
জেলা প্রতিনিধি ঃ কুষ্টিয়ার গড়াই নদী ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় বালু অপসারণের কাজ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জুগিয়া ও গোপীনাথপুর মৌজায় স্তুপ করে রাখা বালু অপসারণের কাজ বরাদ্দ পায় মেসার্স মেহেদী এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর মো. মহিদুল ইসলাম।
এরপর ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা একটি হলফনামায় মহিদুল ইসলাম বালুমহল পরিচালনা, অফিস-আদালতের কার্যক্রম, মাঠপর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ বিভিন্ন ক্ষমতা কুষ্টিয়া পৌর বিএনপির বর্তমান সভাপতি মো. আবুল কালাম বিশ্বাস (এ. কে. বিশ্বাস বাবু)-এর কাছে অর্পণ করেন।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৮ মে পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার এক চিঠিতে জানায়, জেলা পানি সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত এবং হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে মূল ঠিকাদারের পক্ষে আবুল কালাম বিশ্বাস জুগিয়া মৌজার ডাইক-১ এলাকায় প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ঘনমিটার বালু অপসারণের কাজ পরিচালনা করতে পারবেন। একই সঙ্গে কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ২১ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত করা হয়।
তবে সরকারি চিঠিতে তাকে নতুন ঠিকাদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তিনি মূল ঠিকাদারের পক্ষে কাজ পরিচালনার অনুমতি পেয়েছেন।
কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা ?
আবুল কালাম বিশ্বাসের দাবি:
ঘাটটি তারা ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগেই বৈধভাবে কিনেছেন। স্ট্যাম্পকৃত দলিলসহ সব কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কার্যাদেশ পেয়েছেন। মহিদুল ইসলামের সঙ্গে বর্তমান কোনো অংশীদারিত্ব নেই; পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির বক্তব্য:
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বলেন, এটি দলের কোনো সিদ্ধান্ত নয়। কেউ ব্যক্তিগতভাবে করে থাকলে তার দায়ভার তার নিজের, দলের নয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বক্তব্য:
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুল রহমান জানান, প্রচলিত বিধিমালা ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগ নেতার বক্তব্য:
মহিদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কেন আলোচনা ?
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের এক নেতার নামে বরাদ্দ পাওয়া একটি বালুমহল বিএনপির এক নেতার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সরকারি নথিতে মূল ঠিকাদার পরিবর্তনের কথা উল্লেখ নেই। বরং মূল ঠিকাদারের পক্ষে কাজ পরিচালনার অনুমতির বিষয়টিই উল্লেখ করা হয়েছে।